পাকিস্তানি ভিসা না পাওয়ায়- কাফনের কাপড় নিয়ে বাইসাইকেলে দেশ ভ্রমন

আকতার হোসেন ভুইয়া,নাসিরনগর(ব্রাহ্মণবাড়িয়া):–
আবেদন পত্রে ফ্রিডম ফাইটার লেখা থাকায় পাকিস্তান দূতাবাস তাকে ভিসা দেয়নি। এ ঘটনার প্রতিবাদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গত বছরের ৫ নভেম্বর থেকে তৃতীয়বারের মতো দেশ ভ্রমণ শুরু করেছেন  ষাটোর্ধ্ব মুক্তিযোদ্ধা জাফর আলী। বৃহস্পতিবার বিকালে এক সাক্ষাতকারে পীর ফকিরের মতো দৃশ্যত জাফর আলীর ব্যক্তি জীবনের গল্প আর দশটা মানুষের থেকে ভিন্নতার বিষয়টি ফুটে উঠে। মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার ডাসা ইউনিয়নের পূর্ব কমলাপুর গ্রামের মৃত আলম ফরাজীর ছেলে জাফর ফরাজী (৬১) জানান, ১৯৭১ সালে সেক্টর কমান্ডার মোহাম্মদ সেলিমের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয় তিনি। সে সময় প্রাণ বাজি রেখে দেশকে হানাদার মুক্ত করতে ভুমিকা রাখেন। সেই থেকে দীর্ঘ ৪২ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের প্রতি পাকিস্তানের সেই শক্রতাভাব এতটুকু কমেনি। যা তিনি সম্প্রতি উপলব্ধি করলেন। তিনি সাইকেলে চড়ে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের সব ক’টি জেলা দুইবার ভ্রমণ শেষে হজ্ব পালনে সৌদি আরব যেতে চান। কিন্তু ভারত,ইরান ভিসা দিলেও আবেদন পত্রে মুক্তিযোদ্ধা লেখা থাকায় পাকিস্তান দূতাবাস তা দেখেই বাতিল করে দেন। তাই বলে দমে যাননি তিনি।  তাই পাকিস্তানের স্বরুপ তিনি দেশবাসী তথা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চান। এজন্য গত বছরের ৫ নভেম্বর থেকে তৃতীয় বারের মতো দেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ  করার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন। তৃতীয় বারের ভ্রমণে তিনি ৪৮ টি জেলা ভ্রমণ শেষে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টার সময় নাসিরনগর উপজেলায় পর্দাপণ করেন। এখানে সাংবাদিকদের সাথে দেখা করে তার দেশ ভ্রমণের উদ্দ্যেশ্য বর্ণনা করেন।  পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত পড়–য়া মুক্তিযোদ্ধা জাফর আলী জানান, বাইসাইকেলের মধ্যেই কাফনের কাপড় রেখেছেন, চলার পথে রাস্তায় মূত্যু হলে যাতে দাফন করতে যেন কোন অসুবিধা না হয়। রাতে ঘুমান রাস্তার পাশে ফুটপাতে কিংবা কোন ষ্টেশানে। গোসল,খাবার-দাবার সব কিছুই করেন রাস্তায়। বিরুপ অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, চট্রগ্রামের শান্তির হাটে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে একটি মোবাইল ফোন ও নগদ সাড়ে তিন হাজার টাকা হারিয়েছেন। এখন তিনি অন্যের সহযোগিতা নিয়ে নিজের খাবারের ব্যবস্থা করেন। রানা প্লাজা ধ্বংসের পর উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন তিনি। টানা ২০ দিন ছিলেন রানা প্লাজার ধ্বংস স্তুপে।  ২০০৮ সালে নিজের জমি-জমা বিক্রি করে সমাজ সেবায় অংশ নেন তিনি। নিজের টাকায় গ্রাম উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন এই মুক্তিযোদ্ধা।  পেশায় তিনি একজন দর্জি। সংসারে রয়েছে স্ত্রী,৩ ছেলে ও ২ মেয়ে। তার দুই ছেলে গামেন্টে কাজ করছে। ১ ছেলে ব্যবসা করে। আর মেয়েদের বিয়ে দেয়া সম্পন্ন  হয়েছে। বর্তমানে  নারায়নগঞ্জে বসবাস করছেন। তিনি জানান,আকাশ পথে হজ্ব করতে না যেতে পারলেও বাইসাইকেলে চড়ে ভারত,চীন,আফগানিস্তান,ইরাক,ইরান হয়ে সৌদি আরবে হজ্ব করবোই এই তার শপথ। আর তার শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য তিনি নিজের একমাত্র যান বাইসাইকেলে চড়ে দেশের এক পান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ঘুরছেন।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply