কুবির লাইব্রেরিতে সাড়ে ৪ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ৪০টি চেয়ার, লাইব্রেরি কার্ড নেই কারো

এম আহসান হাবীব :–
ভর্তি প্রক্রিয়াধীন অষ্টম ব্যাচসহ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ১৭ টি বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ হাজার। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে চেয়ার রয়েছে মাত্র ৪০টি। এতে করে প্রয়োজনমাফিক লাইব্রেরিতে বসে অধ্যয়নের সুযোগ পান না শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে কোন শিক্ষার্থীকেই ইস্যু করা হয় নি লাইব্রেরি কার্ড। ফলে চাহিদামত লাইব্রেরি থেকে বই বাইরে নিয়ে অধ্যয়ন এমনকি ফটোকপিরও কোন সুযোগ নেই শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি কোর্সে ভাল ফলাফলের জন্য মূল পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি একাধিক রেফারেন্স বই অধ্যয়ন করা জরুরি হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের নিজেদেরকে একাধিক বই ক্রয় করতে হয়, যা অনেকের পক্ষেই দুঃসাধ্য। এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় মানের প্রসারিত জ্ঞান চর্চায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৭ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সমৃদ্ধ হয় নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। প্রশাসনিক ভবনের পাঁচ তলায় অবস্থিত হওয়ায় এমনিতেই অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী লাইব্রেরিতে যেতে চান না। একটিমাত্র কক্ষের ৩৭টি তাকে রাখা হয়েছে লাইব্রেরির কিছু বই। লাইব্রেরিতে অধ্যয়নের জন্য ৮টি টেবিলে রয়েছে মোট ৪০টি চেয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থীকেই লাইব্রেরি কার্ড ইস্যু না করায় লাইব্রেরি থেকে কোন বই বাইরে নিয়ে অধ্যয়ন কিংবা ফটোকপির কোন সুযোগ নেই কারো। একদিকে বই বাইরে নিতে না দেওয়া, অপরদিকে বসার জায়গা না থাকায় বিপাকে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। ধীরে ধীরে লাইব্রেরিবিমুখ হয়ে পড়ছে তারা।
এ দিকে লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যাও অপ্রতুল। যে পরিমাণ বই আছে, রাখার জায়গা না থাকায় তার একটি বড় অংশ পড়ে আছে গুদামে। এতে ক্রমশই বাড়ছে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি। একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র গিয়াস উদ্দিন রুদন বলেন, ‘লাইব্রেরিতে কোন বিষয়ের ভাল লেখকদের বই ও মৌলিক বই নেই। বসার জন্য সিট পাওয়া যায় না। অনেক সময় চেয়ার থেকে উঠে তাকের বই আনতে গেলে দেখা যায় সেখানে অন্য কেউ বসে পড়েছে। এ নিয়ে মাঝে মাঝে বিব্রতকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।’
গণিত বিভাগের চতুর্থ বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী ফারজানা আক্তার জলি বলেন, ‘লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় বই পাওয়া যায় না। সেখানে বসে যে পড়ালেখা করব তারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, আবার বই এনে পড়ব সে সুযোগই নেই।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ড. মঞ্জুর মোর্শেদ কুমিল্লাওয়েবকে বলেন, ‘বিশ্বমানের জ্ঞান চর্চা নিশ্চিত করতে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান মহিউদ্দিন মোহাম্মদ তারিক ভূঁঞা সমস্যার কথা স্বীকার করে কুমিল্লাওয়েবকে বলেন, ‘জায়গা কম হওয়ায় প্রয়োজনীয় বই লাইব্রেরিতে রাখা যাচ্ছে না। এছাড়া মাত্র ৭ জন লোকবল দিয়ে সকল কাজ চালানো দুষ্কর। বারবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েও আমরা লোকবল পাচ্ছি না। এছাড়া দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি অটোমেশন হলেও আমাদের হচ্ছে না, ফলে সব কার্যক্রম অধিক সময় সাপেক্ষ।’ লাইব্রেরি কার্ড না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কার্ড ছাপানো আছে কিন্তু বই আদান-প্রদান কার্যক্রম চালানোর মত পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় এগুলো বিতরণ করা যাচ্ছে না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার মোঃ মজিবুর রহমান মজুমদার কুমিল্লাওয়েবকে জানান, ‘আমরা সে রকম কোনো প্রজেক্ট এখনো পাইনি, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে রাজস্ব আছে তা দিয়ে কিছু বই হয় তো কেনা যাবে কিন্ত সেগুলো জায়গার অভাবে পড়ে থাকবে, তাই আলাদা লাইব্রেরি ভবন তৈরিসহ যাবতীয় উন্নয়নে আমাদের বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘গত উপাচার্য তার সময়ে লাইব্রেরিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রজেক্ট পেয়েছিলেন কিন্ত তিনি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করেন শুধু নিয়োগ নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ আলী আশরাফ কুমিল্লাওয়েবকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থীর লাইব্রেরি কার্ড নেই এটি আমার জানা ছিল না। তবে এক্ষেত্রে শুধুমাত্র লোকবল সংকটের দোহাই গ্রহণযোগ্য নয়। লাইব্রেরি যাবতীয় সমস্যা সমাধানে শীঘ্রই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply