কচুয়ায় সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মখা আলমগীর তোপের মুখে॥ গাড়ি ভাংচুর॥ আহত ১৫

আলমগীর হোসেন :–
আজ বৃহস্পতিবার বিকালে চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার জামেয়া ইব্রাহীমিয়া উজানী মাদ্রাসায় মাহফিল অনুষ্ঠানে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। মখা আলমগীর মাহফিলের মঞ্চে উঠার পর পরই সম্মুখে থাকা মুসল্লী জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে মঞ্চ লক্ষ্য করে বোতল ছুড়ে মারা ও হইহুল্ল শুরু হয়। নিরাপত্তা বাহিনীরা দ্রুত ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মাথায় হেমলেট পড়িয়ে গাড়ীতে তোলেন। মাহফিল স্থান থেকে কিছুদূর গেলে আবারো তোপের মুখে পড়েন তিনি। এসময় তার গাড়ি ভাংচুর করা এবং তার সাথে থাকা বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আহত হয়। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

পরে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর পার্শ্ববর্তী কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার নবাবপুর- মাধাইয়া সড়ক হয়ে ঢাকার উদ্যোশে যাত্রা করেন। ওই সময় নবাবপুর সড়কে পূনরায় গাড়ী দিয়ে বেরিকেড দেয়ার চেষ্টা চালায় উত্তেজিত জনতার একাংশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। সন্ধ্যা ৬ টায় মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও তার আহত নেতাকর্মীরা কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে চিকিৎসা নেন।  গৌরীপুর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আহতরা হলো, মোফাচ্ছেল হোসেন খান (২৮), ফারুক গাজী (২৫), জীবন (৩০), আলী আক্কাস (৩০), তৌহিদ (২৬) ও দুলাল (২৫) ও আরো বেশ কয়েকজন। গৌরীপুর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, আহতদের মধ্যে মোফাচ্ছেল হোসেন খানকে আশংকা জনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।  গৌরীপুর হাসপাতালে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর প্রায় পৌনে এক ঘন্টা অবস্থান করেন। এসময় সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে আহতের নিয়ে তিনি ঢাকার উদ্দ্যেশে গৌরীপুর হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাঁদপুর জেলার ঐতিহাসিক কচুয়ার উজানী জামিয়া ইসলামিয়া ইব্রাহীমিয়া মাদরাসার বার্ষিক ইসলামী মহা সম্মেলনের শেষ দিনে আজ বৃহস্পতিবার বাদ আছর অনুষ্ঠান স্থলে বক্তব্য দিতে গেলে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীর মঞ্চে উঠার পর পরই মুসল্লী জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে মঞ্চ লক্ষ্য করে বোতল ছুড়াছুড়ি শুরু হয়। নিরাপত্তা বাহিনীরা দ্রুত ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মাথায় হেমলেট পড়িয়ে গাড়ীতে তোলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

কচুয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ আলমগীর হোসেন মজুমদার মুঠোফোনে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সহকারী পুলিশ সুপার আবু হানিফ বলেন, মহীউদ্দীন খান আলমগীর সাহেব হুজুরদের দোয়া চাইতে মাহফিলে উপস্থিত হলে মুসল্লী জনতার একাংশ প্রতিবাদ জানায়। এর পরপরই হট্রোগোল সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদ কারীরা হেফাজত ও জামায়াত সমর্থিত কিনা তা খতিয়ে আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে কচুয়ার উজানী জামেয়া ইব্রাহীমিয়া মাদ্রাসায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি’র কে মাদ্রাসায় লাঞ্চিত ও গাড়িতে হামলার খরব পেয়ে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কচুয়া-কালিয়াপাড়া সড়ক বন্ধ করে দেয় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।  প্রায় ১ ঘন্টা সড়ক বন্ধ থাকার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় যান চলাচল শুরু হয়।

এদিকে গৌরীপুর হাসপাতালে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে দেখতে শত শত লোক ভিড় জমায়। এসময় তাকে হতাশা বিরাজ করতে দেখা যায়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply