এরশাদ অসুস্থ নই, আটকে রাখা হয়েছে

ঢাকা :–

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ.এম এরশাদ দাবি করেছেন, তিনি অসুস্থ নন। তাকে গ্রেফতারের জন্য আটকে রাখা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে এরশাদ তার বিশেষ উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজের মাধ্যমে এক বার্তায় এ দাবি করেন।

ববি হাজ্জাজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।

এরশাদ বলেছেন, “আমি অসুস্থ নই। আমাকে গ্রেফতারের জন্য এখানে আটকে রাখা হয়েছে। আমি জাতীয় পার্টির সকল নেতা-কর্মীকে ধৈর্য ধরার এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিচ্ছি।”

কাউকে মুখপাত্র নিয়োগ করা হয়নি জানিয়ে এরশাদ তার বার্তায় বলেন, “আমি কাউকে আমার মুখপাত্র নিযুক্ত করিনি। একজন নেতা (সর্বদলীয় সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু) পার্টির মুখপাত্র হিসাবে বিবৃতি দিচ্ছেন বলে শুনেছি। তিনি যদি এটা করে থাকেন তাহলে এর দায়িত্বও তার নিজের এবং এটি তার নিজস্ব মতামত হিসাবে বিবেচিত হবে। পার্টির শৃঙ্খলা বিরোধী যেকোনো কজের জন্য আমি যে কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি।”

এরশাদ বলেন, “পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার ও আমার ভাই পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদের আমার কাছ থেকে প্রাপ্ত দিক-নির্দেশনা দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দেবেন। ববি হাজ্জাজের মাধ্যমে আমি গণমাধ্যমকে আমার বক্তব্য জনাবো। অন্য কারো বক্তব্য, বিবৃতি এবং প্রচারণায় আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না।”

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, “সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া জাতীয় পার্টি কোন নির্বাচনে অংশ নেবে না। এজন্য ইতোমধ্যেই আমাদের দলের প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।”

গত ২৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তা পরিবর্তনে দাবি করে আসছেন এরশাদ। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে মূলত দুই দলের মধ্যে ‘সমঝোতার অপেক্ষায়’ ছিলেন তিনি। পরদিন ৩ ডিসেম্বর সকালে রাজধানীর বনানীতে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ জানান, ‘পরিবেশ না থাকায়’ জাতীয় পার্টি দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে না।

এ সময় জাতীয় পার্টির যেসব সদস্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাদের তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন এরশাদ। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়ার পর জাতীয় পার্টির মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদেরও পদত্যাগ করতে বলেন এরশাদ।

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়ার পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে টানাপড়েনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে র‌্যাব তাকে আটক করেছে বলে অভিয়োগ করা হয়। র‌্যাব অবশ্য দাবি করেছে, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানকে তারা হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।

এ ঘটনায় এরশাদ অবসর নেবেন ও রওশন এরশাদ দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেবেন- এমন গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। অবশ্য এরশাদ থাকতে জাতীয় পার্টির বিকল্প চেয়ারম্যান হিসেবে কাউকে মেনে নেয়া হবে না বলে শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছেন দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।

রাজধানীর বনানীতে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এইচ এম এরশাদ যত দিন আছেন ততোদিন দলে বিকল্প চেয়ারম্যান মেনে নেয়া হবে না। এরশাদই চেয়ারম্যান থাকবেন।”

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply