মতলব উত্তরে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

শামসুজ্জামান ডলার :–
চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মেঘনা নদীর ষাটনল এলাকায় মুন্সিগঞ্জের প্রভাবশালীদের আশীর্বাদে বালু সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না তারা। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে চরাঞ্চলকে নিরাপত্তা বলয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা থাকলেও সে নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইজারা ছাড়াই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বালু সন্ত্রাসীদের থাবায় ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে অপরূপ প্রাকৃতিক লীলাভূমি ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র। সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে ড্রেজার-বাল্কহেড আটক ও জরিমানা করলেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ বালু উত্তোলন। বরং বালু সন্ত্রাসীরা দিন দিন হয়ে উঠছে বেপরোয়া। তাদের হামলায় এর আগে ষাটনল গ্রামবাসী ও জেলে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। গতকাল বুুধবার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল মালোয়পাড়ার কয়েকশ’ নারী-পুরুষ মানববন্ধন করে।

এলাকাবাসীর জানান, মুন্সিগঞ্জে একটি সিন্ডিকেট দিনের বেলাতেই তাদের এলাকায় বালু কাটে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে তারা মতলব উত্তর উপজেলা সীমানায় ডুকে পড়ে। নির্বিঘেœ শতাধিক ড্রেজার বালু কাটতে থাকে আর হাজারো বাল্বগেট বালু পরিবহণ করে থাকে। সকালে ঘুম ভাঙ্গে ড্রেজার ও বাল্বগেটের শব্দে।
মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত জেলেদের উপরও তারা হানা করে মাছ লুট করে নেয়।
মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় যে কোন সময় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প, ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র, ষাটনল মালোয়পাড়া, ষাটনল, খাসকান্দি, সটাকীগ্রাম বিলীন হয়ে পড়বে।
আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে মেঘনা পাড়ের কয়েক গ্রামের হাজার হাজার নারী-পুরুষ আবালবৃদ্ধ বণিতা। ইউপি সদস্য ফুলচান বর্মন জানান, যেভাবে মেঘনা নদীতে বালু কাটার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, তা দেখে মনে হয় অচিরেই মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগে মেঘনা পাড়ের কয়েকটি গ্রাম ও ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র হারিয়ে যাবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, জসিম সরকার, মিন্টু সরকার, মালেক মেম্বার, নাছির মেম্বার, হান্নান মেম্বার, মাহবুব মোল্লা, সামাদ বেপারী, নূর হোসেন সরকার, মনির হোসেন মিয়াজি, নান্নু মিয়াজি, কাজল মেম্বার।
ইউপি চেয়ারম্যান একেএম শরীফউল্লাহ সরকার বলেন, মতলব উত্তর উপজেলাধীন চরচারআনি মৌজায় বালু উত্তোলনের জন্য কোনো মহলকে ইজারা দেয়া হয়নি। এরই মধ্যে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সেখানে কয়েকবার অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী কয়েকজনকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। তিনি জানান, অভিযান প্রতিনিয়তই চলছে। ওই এলাকা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে নিরাপত্তাহীন গ্রামবাসীকে নিরাপত্তা বলয়ে আনতে হবে।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply