কুমিল্লার তিতাসে পারিবারিক অত্যাচারের বলি ৩ সন্তানের জননী মাহফুজা : অভিযুক্তকে ছেড়ে দিল পুলিশ

নাজমুল করিম ফারুক :–
কুমিল্লার তিতাসের জগতপুর ইউনিয়নের ভাটিপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী হাফেজ মোঃ জিয়া উদ্দিনের স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী মাহফুজা আক্তার (৩৫) শ্বশুর বাড়ীর লোকজনদের অত্যাচারে বলি হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী হাফেজ মোঃ জিয়া উদ্দিনের স্ত্রী মাহফুজা আক্তার তার ৩ সন্তানকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতেই বসবাস করছিল। তার স্বামীর বড় ভাই মিজানের মেয়ের জামাই কাজী শাকিজ হোসেন ও তার স্ত্রী আছমা আক্তার চাঞ্চল্যকর নয়ন হত্যা মামলার আসামী হওয়ার পর থেকে শাকিজ তার শ্বশুর বাড়ীতেই থাকে। শাকিজ এই বাড়িতে থাকার ফলে বাড়িতে নানা ধরনের লোকের যাতায়াত শুরু হয় যা নিহত মাহফুজা আক্তার পছন্দ করত না। স্থানীয় অনেকেই জানান, শাকিজ একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং সন্ত্রাস প্রকৃতির লোক বিধায় তাকে পারিবারিকভাবে কোণঠাসা করে বাড়ির শেষ প্রান্তে বিল্ডিং করতে দেয়া হয়। তাতেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। নিহত মাহফুজার বিল্ডিংয়ের সামনে কাটাতারের বেড়া দিয়ে তাকে এক প্রকার একঘরে করে রাখা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাটিপাড়া গ্রামের একাধিক মহিলা জানান, শাকিজ, শাকিজের স্ত্রী আছমা ও নিহতের বড় ঝাল রহিমা আক্তার মাহফুজা আক্তারকে প্রায়ই নানা কারণে মারধর করত। নিহত মাহফুজা স্থানীয় পঞ্চায়েতের কাছে বিচার চাইলেও কেউ বিচার করতে এগিয়ে আসেনি। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বিদেশের টাকা সংক্রান্ত জের ধরে শ্বশুর বাড়ীর লোকজন তার উপর অত্যাচার চালায়। এতে সে আহত হলেও ঘর থেকে তাকে বাহির হতে দেয়নি। রাত সাড়ে ১১টায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে খবর দেয়া হয় মাহফুজা আত্মহত্যা করেছে। চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক গ্রাম পুলিশ পাঠান।
নিহত মাহফুজা ফাঁসি দিয়ে মরেছে দাবী করলেও সকালে সরেজমিনে ওই বাড়িতে গিয়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। পুলিশ আসার আগে লাশ কে নামাল এমন প্রশ্নের জবাবে অনেকে জানান, রাতেই তাকে ফাঁস থেকে নামিয়ে শাকিজ তাকে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে ঘটনার পর থেকে শাকিজ আত্মগোপনে রয়েছে। বুধবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল দিনভর নানাহ সমঝোতার নানাহ তৎপরতা চালিয়ে নিহতের পিতা পার্শ্ববর্তী ১ম গোবিন্দপুর গ্রামের মোঃ কাবিল মিয়াকে বুঝানোর চেষ্টা করে আপোষ মিমাংসার জন্য। অপরদিকে স্থানীয় লোকজন মাহফুজাকে হত্যার অভিযোগে কাজী সাকিজ হোসেনের স্ত্রী আছমা আক্তারকে আটক করে পুলিশে দেয়। স্থানীয় ও নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা অভিযোগ করেন, কাজী সাকিজ, তার স্ত্রী আমেনা আক্তার ও শ্বাশুড়ী রহিমা বেগমের অত্যাচারের সে মৃত্যুবরণ করে এবং এই হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আত্মহত্যা বলে প্রচার করে। তবে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল মিমাংসার কথা বলে পুলিশের কাছ থেকে আছমা আক্তারকে ছেড়ে নেন। তিতাস থানার ওসি মোঃ নবীর হোসেন জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। বিকাল ৬টায় পর্যন্ত কোন মামলা না হলেও তিনি জানান, মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply