”অনুপ্রেরনা” সফলতার চাবিকাঠি

—কাজী কোহিনূর বেগম তিথি

পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্ন থেকে মানুষ ধাপে ধাপে উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সভ্যতার পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের উন্নতির মাধ্যমে । যে কাজ নিজের কল্যানের তা অন্যেরও কল্যানের। সেজন্য পুরাতন সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে নতুন সমাজ ব্যবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম – সে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছাতে চায়,ধর্ম -বর্ন – গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের চাওয়া। শিশুকাল থেকেই মানুষ একসময় মায়ের কোল ছেড়ে হামাগুড়ি দেয় ধীরে ধীরে হাটি হাটি পা পা করে হাটতে শিখে তারপর আস্তে আস্তে কথাও বলতে শিখে, সব কিছুই  প্রিয়জনদের উৎসাহ উদ্দীপনায় / সহযোগীতায়। সেরকম মানুষের জীবনের প্রতিটি স্তরে উন্নতির পেছনে কারো না কারো উৎসাহ জীবনটাকে আলোকিত করে / সম্মানিত করে। যারা অন্যের কাজে অনুপ্রেরনা যোগায় আবার তাদের জীবনে কেউ না কেউ অনুপ্রেরক হয়ে কাজ করে -এটাই জীবনের ফর্মূলা। আমরা নিজ দায়িত্বে আমাদের আশে পার্শ্বের প্রতিটা মানুষকে যদি তাদের সৎ কর্মের উৎসাহ দেই দেখা যাবে তাদের সৎ কর্মের পরিমানটা বেড়ে গেছে। আল্লাহ্ প্রতিটা মানুষকে কোন না কোন গুন দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। এই গুনের প্রশংসা যত বেড়ে যাবে পরিবার – সমাজ- রাষ্ট্রের তথা সারা বিশ্বে সত্যের চর্চা এবং সৎ কর্মের চর্চা তত বেড়ে যাবে। কোন মানুষ যখন তার কর্মের প্রসংশা শুনে  তখন তার মধ্যে আরো ভাল কাজ করার প্রবনতা বেড়ে যায়। পজিটিভ চিন্তা ভাবনা মানুষকে সামনে এগোতে সাহায্য করে। আবার যারা নেগেটিভ চিন্তা ভাবনার মানুষ তাদেরকে পজিটিভ চিন্তা ধারায় নিয়ে আসার দয়িত্ব , যাদের চিন্তা পজিটিভ। তাদেরকে বুঝাতে হবে নিজের কল্যানের পাশাপাশি অন্যের কল্যানে কাজ করতে হবে আমাদের সকলকেই। আমাদের পার্শ্বে কেউ অন্যায় করছে আর আমরা চুপ থাকলাম এটা অন্যায়।  তাকে কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে শুধরানোর  চেষ্টা করতে হবে। ভাল কাজে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহ দিতে হবে। প্রয়োজনে তার ভিতর যে গুনটা আছে সেই গুনটার জন্য সামান্য উপহারের ব্যবস্থাও করতে হবে । তাতে সে উৎসাহিত হয়ে ভাল কাজে অংশ নিবে এবং সেও অন্যকে ভাল কাজের জন্য উৎসাহিত করবে।

উৎসাহ মূলক কথা / সামান্য উপহার একটা মানুষের বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে উন্নতির দিকে ধাবিত করতে পারে। আবার কারো কাছ থেকে সম্মানিত হলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের চর্চা আমাদের ভিতর আরো আনতে হবে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর ”জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটির” আয়োজনে – মাদার তেরেসা-২০১৩ স্বরনে social worker হিসাবে আমাকে যে সম্মাননা পেয়েছি সেজন্য এবং ১৬ নভেম্বর ”সাউথ এশিয়ান লিটারেচার এন্ড কালচারাল ফোরাম” আয়োজনে  ভারত – বাংলাদেশ মৈত্রী স্মারক সম্মাননা -২০১৩ প্রদান মূলক অনুষ্ঠানে কবিতা ও লেখালেখিতে বিশেষ অবদান স্বরূপ  সম্মাননা পাওয়ার জন্য- ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
যারা আমার জীবনে উন্নতির পরশ  এনে দিলেন তারা হলেন–মা-বাবা, শিক্ষক কবি, লেখক এবং জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটির চেয়্যারম্যান প্রফেসর এম নজরুল ইসলাম তমিজি, কবি,লেখক এবং মাসিক ভিন্নমাত্রা পত্রিকার সম্পাদক মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ, নাট্যকার বেগম মমতাজ হোসেন, লেখিকা এবং মানবাধিকার কর্মী শাহানা ইসলাম ।তাদেরকে আমি শ্রদ্ধাভরে স্বরন করছি। তাদের মঙ্গল কামনা করছি। তাদের উৎসাহ উদ্দীপনা আমার চলার পথের পাথেয় হয়ে থাকবে।

আজ এই সম্মাননা প্রদানের  আয়োজন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বড় প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। ইস্কুল – কলেজ – ইউনির্ভার্সিটি – কর্ম জীবনে -সংসার জীবনে -সব জীবনে আরো বেশী সম্মাননা প্রদান আমাদের ঘুঁনে ধরা সমাজটার রং আরো বদলে দিতে পারে। অনুপ্রেরনা মানুষের জীবনে, পথ চলার শক্তি যোগায় – বার্ধক্য রোধ করে, জীবনের উন্নতি ঘটায়। পরিশেষে একটা কথাই বলব –

হে মানব সকল, এসো !
অন্যের কর্মে  অনুপেরনা দিয়ে
নিজের জীবনে উন্নতি  ঘটাই
সফলতার পথে এগিয়ে যাই।

লেখিকা এবং সমাজকর্মী
উত্তরা ঢাকা
kazitithi@gmail.com
01712351243,01929738307

Check Also

মাদকসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারকেই জোরালো ভূমিকা নিতে হবে

—-মো. আলীআশরাফ খান লেখার শিরোনাম দেখে হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেন, কেনো লেখাটির এমন শিরোনাম দেয়া ...

Leave a Reply