বিরাজমান সংকট নিরসনে জাতীয় সংলাপ ডাকার অনুরোধ—রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাক করে জেএসডি’র প্রতিনিধি দল

কুমিল্লাওয়েব ডেস্ক:–

আজ বিকেল ৩টায় বঙ্গবভনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি জনাব আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক জনাব আবদুল মালেক রতন এর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাত করেন। প্রতিনিধি দলে যুক্ত ছিলেন জেএসডি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব এম এ গোফরান, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জনাব আতাউল করিম ফারুক, মোঃ সিরাজ মিয়া, আবদুল খালেক। এ সময়ে জেএসডি সভাপতি জনাব আ স ম আবদুর রব ভূমিকামূলক বক্তব্যে বিরাজমান সংকট নিরসনে জাতীয় সংলাপ ডাকার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানান। লিখিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক জনাব আবদুল মালেক রতন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুনেন এবং তিনি তার সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে থেকে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিবেন মর্মে প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্থ করেন। দলের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত লিখিত বক্তব্য সংযুক্ত করা হলো।

নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট নিরসনার্থে মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র প্রস্তাবনা-

১ ডিসেম্বর ২০১৩ বঙ্গভবনঃ ঢাকা।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি
আপনার শত ব্যস্ততার মধ্যেও জেএসডি প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাৎ দান করে আপনার সমীপে আমাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরার সুযোগ দেয়ার জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

১। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে দ্বন্দ্ব ও নির্বাচনের ঘোষিত তফসীল নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক সহিংসতা চরম আকার ধারন করেছে। এতে  দেশের ব্যবসা-বানিজ্য, শিল্প-কল-কারখানা বিপন্ন হয়ে পড়ছে। প্রতিনিয়ত গুলিতে অনেকের বুক ঝাঁঝরা হচ্ছে। বোমার আঘাতে অবোধ শিশু থেকে অশিতিপর বৃদ্ধ পর্যন্ত জ্বলে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাচ্ছে। বাস, ট্রাক, স্কুটার, লরি, রেল লাইন, রেল গাড়ী থেকে শুরু করে দোকান-পাট ও বাড়ীঘরসহ অসংখ্য মূল্যবান সম্পদ জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। নিহতদের আত্মীয়-স্বজন ও আহতদের আর্ত চিৎকারে সারা দেশে একের পর এক মর্মান্তিক ও হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হচ্ছে। এ ধরনের সহিংস পরিবেশে জনগণ সম্পূর্ন জিম্মী হয়ে চরম উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের সকল সম্ভাবনাই নস্যাত হবে না, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও হুমকির মুখে পড়বে।

২। বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য প্রজাতন্ত্রের অভিভাবক হিসেবে দেশের জনগণ আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। সচেতন ব্যক্তি মাত্রই জানেন সংবিধান প্রদত্ত দায়িত্ব ও ক্ষমতার বাইরেও প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি হিসেবে আপনার অর্জিত ক্ষমতা অনেক। এ জন্যই দেশের জনগণ একটি অংশগ্রহনমূলক ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য আপনার উদ্যোগ প্রত্যাশা করে।

৩। প্রতি ৫ বছর পর পর নির্বাচনের সময় যে সংকট সৃষ্টি হয় তা দেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্র-ব্যবস্থাপনার মধ্যে নিহিত মূল সংকটেরই বহিঃপ্রকাশ। তাই বার বার উদ্ভুত এ সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হলে মূল সংকট নিরসনের পথ ধরেই করতে হবে। দলীয় আধিপত্যবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ব্রিটিশ-পাকিস্তানী উপনিবেশিক ধাঁচের রাষ্ট্র-ব্যবস্থানার মধ্যেই মূল সংকট নিহিত। এর জন্য প্রয়োজন দেশে ৯টি প্রদেশ, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট ও শক্তিশালী স্ব শাসিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বিভিন্ন শ্রম-কর্ম-পেশার, নারী ও ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার মধ্য থেকে অদলীয়ভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে পার্লামেন্টের উচ্চ-কক্ষ গঠন করে সেখান থেকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিধান করা হলে এ সরকারটি হবে যেমনি অদলীয় তেমনি নির্বাচিত ও জবাবদিহিতামূলক। এতে নির্বাচনকালীন সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত হবে। পার্লামেন্টের একটি পরিপূর্ণ উচ্চ-কক্ষ গঠন করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই মূল প্রস্তাবের ভিত্তিতে এ মুহুর্তে বাস্তবায়নযোগ্য একটি সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবনা প্রয়োজন।

৪। সমঝোতার মাধ্যমে সাময়িক সংকট নিরসনের সাথে সাথে এর স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরী করার জন্য আমাদের সংক্ষিপ্ত প্রস্তাব হলোঃ-
ক। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পার্লামেন্টের উচ্চ-কক্ষ গঠনের বিধান করে বর্তমান পার্লামেন্টের মাধ্যমেই দেশের বিশিষ্ট ও অদলীয় ব্যক্তিদের মধ্য থেকে আপাতত উচ্চ-কক্ষের শুধুমাত্র একজন চেয়ারম্যান ও ১০ জন সদস্য নির্বাচিত করতে হবে।
খ। উচ্চ-কক্ষের চেয়ারম্যানকে প্রধানমন্ত্রী ও ১০ জন সদস্যকে মন্ত্রী করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচনকালীন মন্ত্রী সভা গঠিত হবে।

৫। আমাদের প্রস্তাবনার বাইরেও অন্যান্য দল ও মহলের ভিন্ন প্রস্তাবনা থাকতে পারে। সকল প্রস্তাবনা নিয়ে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতেই একটি রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি, বর্তমান সহিংস সংঘাত থেকে জাতিকে মুক্ত করার সাথে সাথে এ সংকটের স্থায়ী সমাধানকল্পে সকল রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ‘জাতীয় সংলাপ’ অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহনের জন্য আপনার প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।

আপনার উত্তরোত্তর সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply