নাসিরনগরে ডাক বিভাগে লোকবল সংকট : জেলা সদরের সাথে সরাসরি ডাক ব্যবস্থা না থাকায় জনগনের ভোগান্তি

আকতার হোসেন ভুইয়া,নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):–
ইন্টারনেট-মেইলের ডিজিটাল যুগে তড়িৎ অনেক কিছু সম্ভব হলেও চিঠিপত্র আদান-প্রদানের মূল মাধ্যম ডাক বিভাগের প্রয়োজনীয়তা এখনো ফুরিয়ে যায়নি।ডিজিটাল যুগে মোবাইল,এস.এম.এস ই-মেইল,ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় অনেক কাজ সম্ভব হলেও সরকারি চাকুরি,,অফিস-আদালতের যোগাযোগ এখনো ডাক বিভাগের মাধ্যমেই চলছে নির্বিঘ্নে। কোন কোন ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হলেও একভাগ কাজ সম্পন্ন করতে এখনো ডাক বিভাগের দ্বারস্ত হতে হচ্ছে সকলকে। যেমন শিক্ষক নিবন্ধন বা চাকুরির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক আবেদন করা,টেলিটক সিমের মাধ্যমে ফি জমা দেয়া,প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা ডিজিটাল ভাবে হলেও আবেদনের প্রিন্ট কপিসহ সার্টিফিকেট কপি উপস্থাপনের জন্য ডাক বিভাগে যেতে হয়। অনেক সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে এখনো ডাক বিভাগের মাধ্যমে এনালগভাবে সম্পন্ন হয়ে থাকে। এছাড়া ডিজিটাল পদ্ধতির কারণে পূর্বের চেয়ে চিঠিপত্র কম আদান-প্রদান হলেও ডাক বিভাগের মাধ্যমে টাকা পাঠানো খুবই জনপ্রিয় পদ্ধতি হওয়ায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নাসিরনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিতভাবে ডাক আসায় ভোগান্তি হচ্ছে জনগনের।
খোজঁ নিয়ে জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে অনিয়মিত ডাক আসায় উপজেলার সকল পোষ্ট অফিসগুলো প্রায়ই ডাক শূন্যভাবে দিন কাটাতে হচ্ছে। নাসিরনগর থেকে ডাক ফান্দাউক হয়ে নয়াপাড়া যায়,সেখান থেকে আখাউড়া রেল ষ্টেশন হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে যায় এবং একই রাস্তায় ডাক আসে। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নাসিরনগরে ডাক আসতে কোন কোন সময় ৪/৫দিন লাগে। এতে জনগন ডিজিটাল যুগে ডাক পেতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। নাসিরনগর থেকে ডাক  সরাসরি ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসা-যাওয়ার এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী হলেও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ তা আমলে নিচ্ছে না। নিয়মিত ডাক আসা-যাওয়া না করায় সাব পোষ্ট অফিসগুলো কর্মহীন হয়ে পড়ে। দায়িত্বরত উপজেলা পোষ্ট মাস্টার এবিষয়ে কোন কিছু বলতে নারাজ। অনেকে ডাকের জন্য অপেক্ষা করে বিরক্ত হলেও ডাক বিভাগের লোকজন কোন সদোত্তর দিতে পারছে না। এদিকে উপজেলা পোষ্ট অফিসে জনবল সংকটের কারণে  প্রতিদিন প্রাহকরা হয়রানীর শিকার হচ্ছে।  উপজেলা পোষ্ট অফিসে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা পোষ্ট মাস্টারের পদসহ বেশ কয়েকটি পদ শূণ্য রয়েছে । ডাক পিয়নের ২টি পদের স্থলে ১ জন, অপারেটর ৩টি পদের মধ্যে ২টিই শূণ্য, প্যাকারের ১টি পদের মধ্যে ১টিই শূণ্য রয়েছে। কর্মরত উপজেলা পোষ্ট মাষ্টারের দায়িত্বে রয়েছে একজন অপারেটর। বর্তমানে দায়িত্বরত পোষ্ট মাষ্টার ও ডাক পিয়নকেই অফিসের সকল কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন যাবৎ এসব পদ শূণ্য পোষ্ট অফিসের কার্যক্রম চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। তাছাড়া দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় উপজেলা পোষ্ট অফিসের মূল ভবনসহ আবাসিক ভবনের বিভিন্ন স্থান থেকে আস্তর খসে পড়ছে।
অভিজ্ঞমহল মনে করেন এভাবে চলতে থাকলে রাষ্ট্রীয় সেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে। তাই এলাকাবাসীর স্বার্থ বিবেচনা করে জনগনের সেবার প্রতি সচেতন হয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আর্কষনসহ দ্রুত এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply