জেএসডি’র সাংবাদিক সম্মেলনে “সহিংস-সংঘাতের স্থায়ী অবসান ও সকলের অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রস্তাব উত্থাপন”

ঢাকা প্রতিনিধি:–
আজ সকাল ১১টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র উদ্যোগে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেএসডি সভাপতি জনাব আ স ম আবদুর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সাংবাদিক সম্মেলনে মুল প্রস্তাবনা উত্থাপন করে দলের সাধারণ সম্পাদক জনাব আবদুল মালেক রতন। উপস্থিত ছিলেন জনাব এম গোফরান, আতাউল করিম ফারুক, শরীফ মোহাম্মদ খান, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, দেলওয়ার হোসেন, কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, এস এম আনছার উদ্দিন, তাজুল ইসলাম, এ্যাড. সৈয়দা ফাতিমা হেনা, জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ।
সাংবাদিক সম্মেলনে উত্থাপিত লিখিত বক্তব্য নিম্নরূপঃ
দেশের জনগণ নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন চায়। সরকার এ দাবীকে উপেক্ষা করে মহাজোট সরকারের প্রধানমন্ত্রীকেই প্রধানমন্ত্রী রেখে কখনো সর্বদলীয় সরকার, কখনোবা বহুদলীয় সরকার নামে মহাজোট সরকারেরই একটি নতুন সংস্করনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের পথে নেমেছে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বপদে রেখে সর্বদলীয় সরকারই হোক আর বহুদলীয় সরকারই হোক তা মুলতঃ একটি দলীয় সরকার। এর মধ্যদিয়ে জনগণের নির্দলীয় সরকারের দাবীর প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে। এমপিদের এমপি ও মন্ত্রীদের মন্ত্রী রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান নির্বাচনে সকলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরীর পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। আরপিও সংশোধন করে ‘না’ ভোট দেয়ার বিধান বাতিল করা হয়েছে। জামানতের টাকা ২০ হাজারে এবং নির্বাচনী ব্যয় সীমা ২৫ লক্ষ টাকায় উন্নীত করে নিবেদিতপ্রাণ, দেশ প্রেমিক রাজনীতিবিদদের নির্বাচন করা দুঃসাধ্য করে তোলা হয়েছে। কোন দল থেকে নির্বাচন করার জন্য কমপক্ষে ৩ বছর ঐ দলের সদস্য থাকার বাধ্যবাদকতা উঠিয়ে দিয়ে দলের নিষ্ঠাবান ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের পরিবর্তে অন্য দল থেকে ভাগিয়ে আনা টাকাওয়ালাদের, সদ্য অবসরপ্রাপ্ত দুর্নীতিবাজ আমলা ও কালোটাকার মালিক দুর্বৃত্তদের মনোনয়ন দেয়ার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। সকল দলের অংশগ্রহনমূলক একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সমঝোতার প্রশ্নকে উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফসীল ঘোষনা করে নির্বাচনে বিরোধী দলসমূহের অংশগ্রহনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যদিয়ে সরকারের একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের দুরভিসন্ধি অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ ধরনের একতরফা নির্বাচনে জেএসডি অংশগ্রহন করবে না। অন্যান্য বিরোধী দলও এ নির্বাচনে অংশগ্রহন করবেনা বলে ঘোষনা দিয়েছে। একদিকে একতরফা নির্বাচনের তফসীল ঘোষনা অন্যদিকে হরতাল, অবরোধ ও ঘেরাও এর মাধ্যমে তা প্রতিহত করার উদ্যোগ রাজনৈতিক উত্তেজনা আগের চেয়েও অনেক বাড়িয়ে তুলেছে।

বর্তমানে একদিকে নির্বিচারে গুলি, লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, গণ গ্রেফতার, জেল-জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন অন্যদিকে হরতাল, অবরোধ দিয়ে জ্বালাও, পোঁড়াও, ভাংচুর, বোমাবাজী উত্তরোত্তর বেড়েই চলছে। এতে দেশের ব্যবসা-বানিজ্য, শিল্প-কাল-কারখানা বিপন্ন হয়ে পড়ছে। প্রতিনিয়ত অনেকের বুক গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাচ্ছে। বোমার আঘাতে অবোধ শিশু থেকে অশিতিপর বৃদ্ধ পর্যন্ত জ্বলে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাচ্ছে। বাস, ট্রাক, স্কুটার, লরি, রেল লাইন, রেল গাড়ী থেকে শুরু করে দোকান-পাট ও বাড়ীঘরসহ অসংখ্য মূল্যবান সম্পদ জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। নিহতদের আত্মীয়-স্বজন ও আহতদের আর্ত চিৎকারে সারা দেশে এক মর্মান্তিক ও হৃদয় বিদারক দৃশ্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের সহিংস পরিবেশে জনগণ দুই দলের কাছে সম্পূর্ন জিম্মী হয়ে চরম উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও আতঙ্ক নিয়ে দিনাতিপাত করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা বিপন্ন হবে। দেশে মৌলবাদ সুসংহত ও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পাবে। লাখ লাখ শহীদের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি পাবে। রাজনীতিতে সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের কর্তৃত্ব আরো বৃদ্ধি পাবে। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সকল সম্ভাবনা নস্যাত হয়ে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ কোন মানুষই তা চাইতে পারে না। সকলেই চায় ক্ষমতার জন্য দুই দলের রক্তের হলি খেলা বন্ধ হোক। শান্তি ও সমঝোতার পথে সংকটের স্থায়ী সমাধান হোক। এ লক্ষ্যকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তির উত্থানও আজ শান্তিকামী জনগণের কাম্য।

আজকের সহিংস-সংঘাতময় পরিবেশ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নয়। প্রতি ৫ বছর পর পর নির্বাচনের পূর্বে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে তা সৃষ্টি হয়। নির্দলীয় হলেও অনির্বাচিত ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থাহীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর অধীনে নির্বাচন করে অতীতে সংকটের সাময়িক উপশম করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের পর পরই আবারো এ সংকট তীব্র আকার ধারন করেছে। আজকে আমাদেরকে সংকট, সংঘাত ও সহিংসতার সাময়িক উপশমের সাথে সাথে এর স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

বর্তমানে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে অন্যান্য দলের যে সকল প্রস্তাবনা রয়েছে তা দিয়ে সংকটের স্থায়ী সমাধানতো দূরের কথা, সাময়িক সমঝোতা প্রতিষ্ঠাও সম্ভব নয়। এ সকল প্রস্তাবের যেটিই বাস্তবায়িত হোক তাতে এক পক্ষের জয় ও অন্য পক্ষের পরাজয় হবে যা কোনভাবেই সকল পক্ষের নিকট গ্রহনযোগ্য হবে না। সমঝোতার মাধ্যমে সাময়িক সংকট নিরসনের সাথে সাথে এর স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরী করার জন্য আমাদের প্রস্তাব হলো-

১। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পার্লামেন্টের উচ্চ-কক্ষ গঠনের বিধান করে বর্তমান পার্লামেন্টের মাধ্যমেই দেশের বিশিষ্ট ও অদলীয় ব্যক্তিদের মধ্য থেকে আপাতত উচ্চ-কক্ষের একজন চেয়ারম্যান ও ১০ জন সদস্য নির্বাচিত করতে হবে।
২। উচ্চ-কক্ষের চেয়ারম্যানকে প্রধানমন্ত্রী ও ১০ জন সদস্যকে মন্ত্রী করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচনকালীন মন্ত্রী সভা গঠিত হবে।

আমাদের প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করা হলে কোন পক্ষেরই পরাজয় হবে না। জয় হবে জনগণ ও গনতন্ত্রের। দেশ মুক্ত হবে নির্মম রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞ থেকে। দুই নেত্রীসহ সকল দল ও সুশীল সমাজের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহবান, আসুন পার্লামেন্টের উচ্চ-কক্ষ গঠনের মাধ্যমে সেখান থেকে আপাতত ১১ সদস্যের নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান করে সংকটের আপাত ও স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরী করে গনতন্ত্রের বিকাশকে ত্বরান্বিত করি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply