কুমিল্লার লাকসামে গুলিতে নিহত ১, পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত ২৩

কুমিল্লা প্রতিনিধি:–
কুমিল্লার লাকসামে গুলিতে বাবুল নামে একজন নিহত হয়েছে। এসময় লাকসাম থানার ওসি (তদন্ত) হারুনসহ ৬ পুলিশ এবং গুলিবিদ্ধ ৩ জনসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কের লাকসাম উপজেলার দৌলতগঞ্জ নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে সোমবার রাতে নিহত ছাত্রদলকর্মী দেলোয়ারের লাশ নগরীতে তার দক্ষিণ চর্থার বাড়িতে মঙ্গলবার বিকালে নিয়ে আসা হলে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা সেখানে পুলিশের একটি পিকআপভ্যানে অগ্নিসংযোগ করে। এসময় ৩ ফটো সাংবাদিককেও মারধর করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে ৮/১০টি দোকানপাট ভাংচুর, মোটর সাইকেলে আগুন দেয়ার ঘটনায় পুলিশ বাধা দেয়। এসময় অবরোধকারীরা পুলিশের উপর হামলা চালালে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। গুলিতে বাবুল (৪৫) নামের একজন নিহত হয়। নিহত বাবুল একজন রিক্সাচালক এবং সে লাকসামের ৬নং কান্দিরপাড় ইউনিয়নের অশোকতলা গ্রামের নুরুল হুদার পুত্র। স্থানীয় বিএনপি তাকে ৪নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের কর্মী বলে দাবি করে। হামলা-সংঘর্ষে আহত লাকসাম থানার ওসি (তদন্ত) হারুনসহ অপর পুলিশ সদস্যরা হচ্ছে কনস্টেবল জহির, আলমগীর, মাছুদ, ফজলু ও রহমান এবং আরো ৩ জন গুলিবিদ্ধসহ ১৪ জন আহত হয়েছে।
এর আগের দিন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সোমবার রাতে কুমিল্লা মহানগরীর মনোহরপুর এলাকায় ১৮ দল প্রতিবাদ মিছিল বের করে। ওই মিছিলে দেলোয়ার (২২) নামের একজন গুরুতর আহত হয়ে রাত পৌনে ১১টার দিকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। নিহত দেলোয়ার নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকার মহরম আলীর পুত্র। দেলোয়ার নিহত হওয়ার ঘটনায় থানার এসআই বিকাশ মন্ডল বাদী হয়ে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা দুই-আড়াইশ’ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ জসিম উদ্দিন, রায়হান ও রেজাউল নামে ৩ জনকে আটক করেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে দেলোয়ারের লাশ তার চর্থা এলাকায় নিয়ে আসা হলে সেখানে পুলিশের সাথে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশের রিকুইজিশন করা একটি পিকআপভ্যানে (ঢাকা মেট্রো-ন-১৬-৬৪১০) আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা। এসময় ছবি তোলতে গেলে ৩ ফটো সাংবাদিক এম. সাদেক, এন.কে রিপন ও রুবেল আহত হয়।
কুমিল্লার সহকারি পুলিশ সুপার (সদর-এ-সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম জানান, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার্থে লাকসামে পুলিশ গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে তফসিল ঘোষণার পর থেকে মঙ্গলবার অবরোধ চলাকালে কুমিল্লা মহানগর, চৌদ্দগ্রাম, সদর, সদর দক্ষিণ, পুদয়ার বাজার, ঝাগুরঝুলি, বুড়িচং, সৈয়দপুর ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাংচুর করেছে। আগুন দেয়া হয় ৫/৬টি সিএনজিচালিত অটোরিক্সায় ও একটি বিআরটিসি গাড়িতে। সোমবার রাত হতে মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৮ দলের ৭ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply