কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে জেএসসি পরীক্ষার্থীর ধর্ষণ ভিডিও ইন্টারনেটে , ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

এ.এইচ.এম.আবুল খায়ের,নাঙ্গলকোট:–
এক ভন্ড প্রেমিক চলমান জেএসসি পরক্ষার্থীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে বিয়ে করার মিথ্যা প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের সময় মোবাইলে ভিডিও চিত্র ধারণ করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রাম্য শালিশ আর আইনী সহযোগিতা না পেয়ে লজ্জায় অপমানে অভিমানে অবশেষে ঐ ছাত্রীটি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাঙ্গলকোটে দৌলখাঁড় ইউপির ভোলাকোট গ্রামের পিতৃমাতৃহীন মেয়েটি দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। সে চলতি সনের জুনিয়র স্কুল সাটিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রায় সাড়ে তের বছর পূর্বে পিতা আবদুর রব ও মাতা টুনি বেগম ৩ মাসের শিশু সন্তানকে রেখে মৃত্যু বরন করে। একই বাড়ীর চাচা মমতাজ ও চাচী জাহেদা খাতুন এতিম মেয়েটিকে লালন পালন করে বড় করে তোলে। স্কুলে আসা যাওয়ার পথে একই গ্রামের আব্দুল মন্নানের ছেলে আজিম (২৩) সবসময় তাকে উত্যাক্ত করে প্রেম নিবেদন করত। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই সূত্রে ধরে গত ৬ নভেম্বর আজিম ঐ মেয়েটিকে বিয়ে করার মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বাড়ী থেকে নিয়ে তার সাথে দৈহিক মেলামেশার চিত্র গোপনে মোবাইলে ধারন করে। পরদিন সে ভিডিও চিত্রটি ইন্টারনেটে তার সহপাwVদের দেখায় এবং ছেড়ে দিলে এলাকায় সমালোচনায় ঝড় উঠে। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা অজিমের বিচার চেয়ে ম্যানেজিং কমিটির কাছে প্রতিবাদ জানায়। ৮ নভেম্বর বিদ্যালয়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল হোসেন ছেলে ও মেয়ে পক্ষের লোকজন নিয়ে স্কুল কক্ষে অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ে শালিশে বসে। শালিশে আজিম নিজের দোষ স্বীকার করলে তাকে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। পরবর্তীতে ছেলে পক্ষ জরিমানার টাকা দিতে টাল বাহানা শুরু করলে মেয়ে পক্ষ মৌখিক ভাবে ঘটনাটি থানাকে অবহিত করে। ১৪ নভেম্বর ছেলের পিতা আবদুল মন্নানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং পরদিন সন্ধ্যায় তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। অতপর ২১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ঘটনাটি সমাধানে উভয় পক্ষের লোকজন পৌর মেয়রের বাড়ীতে শালীশে বসে। শালীশে কুদ্দুছ ভূঁইয়া, মিলন চেয়ারম্যানসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। শালিশে আজিম ঘটানার কথা স্বীকার করলে রীমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে সে কোন ভাবেই মেয়েটিকে বিয়ে করতে রাজী হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে শালীশদররা মেয়েটির ক্ষতি পূরন বাবত ছেলেকে দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা করে। মেয়ে বিচারের রায়ে সন্তুষ্ট না হয়ে বাড়ী ফেরার পথে অপমান ক্ষোভ লজ্জা আর অভিমানে কীটনাশক পানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। মেয়েটি বর্তমানে নাঙ্গলকোট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে। মেয়ের পালিত মা জাহেদা খাতুন চাচা আবুল কামাল ও আনু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, গরীবের পক্ষে আইন আদালZ সমাজ পতিরা নেই। থানায় মামলা দিতে গেলেও থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। জাহেদা খাতুন, বলেন এতিম মেয়েটিকে আমি আজ চৌদ্দ বছর নিজ সন্তানের মত স্নেহ মমতা দিয়ে লালন পালন করে বড় করেছি। যে ছেলেটি আমার এতিম মেয়ের লজ্জা কেড়ে নিয়েছে আমি তার উপযুক্ত বিচার চাই। জাহেদা খাতুন অভিযোগ করে আরো বলেন, ছেলের অনেক টাকা পয়সা আছে বলে মামলা না করার জন্য আমাকে হুমকি দিচ্ছে। না হয় আরো বড় বিপদ হবে।এ ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রফিকুল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছেলে যেহেতু বিয়ে করবে না। তাই মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিলাম। পরে ছেলে পক্ষ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মেয়ের পক্ষকে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দিয়েছি। এ ব্যাপরে থানা অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার নাথের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার কথা মৌখিক ভাবে শুনেছি লিখিত অভিযোগ পেলে অপরাধীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। জানাগেছে ঢাকা-কুমিল্লার কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ধর্ষিতা মেয়েটিকে দেখতে নাঙ্গলকোট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply