মুরাদনগরে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকায় সংবাদ সম্মেবলন

মো: মোশাররফ হোসেন মনির, মুরাদনগর(কুমিল্লা):–
কুমিল্লার মুরাদনগরে চলমান পুলিশি অভিযান ও জুলুম-নিপিড়ণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ঢাকায় বসবাসরত মুরাদনগরের পেশাজীবীরা। শনিবার বিকেলে রাজধানীর ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।
পেশাজীবীরা বলেন, মুরাদনগর পুলিশি নির্যাতন-হয়রানির এক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই স্বার্থান্বেষী একটি চিহ্নিত মহলের চাপে পুলিশ এভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠে। তারা কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে বা বিভিন্ন অজুহাত তৈরি করে নিরপরাধ-সাধারণ মানুষকে মামলার ফাঁদে ফেলে এক বিভিষীকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
লিখিত বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার
অভিযোগ করে বলেন, গত ১৩ নভেম্বর মুরাদনগর উপজেলা সদরে ১৮ দলের সমাবেশকে ঘিরে পুলিশ ও সরকারি দলের সমর্থকরা সেখানে তান্ডব চালিয়েছে। এই হামলায় বিরোধী দলের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়। মামলা করা হয় অসংখ্য লোকের বিরুদ্ধে। এই মামলা থেকে বাদ যায়নি ৯০ বছরের বৃদ্ধ থেকে নাবালক শিশুও। সৌদিতে হজ্জ পালনরত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে। এলাকার আলেম, মসজিদের ইমাম, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, বয়োবৃদ্ধ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম, আবু তাহের, শামসুল হক, খোরশেদ আলমসহ আরো অনেক প্রবীণ শিক্ষককে মামলার আসামী করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মামলার পরে মুরাদনগরে রীতিমতো পুলিশি তল্লাশির নামে তান্ডব চলছে। পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিদিন হানা দিচ্ছে। মুরাদনগরের ৩৬৪ টি গ্রামেই চলছে পুলিশি নিপীড়ণ, যাকে ইচ্ছা তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের বাড়ি-ঘরের আসবাবপত্র ভেঙ্গে চুরমার করা হচ্ছে। প্রতিদিনই ২০/৩০ জন করে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এদের কাউকে কাউকে চালান করে দেয়া হচ্ছে, কাউকে আবার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, পুলিশের চিরুনী অভিযানে সোনাপুর গ্রামের নওয়াব আলী নামে ৬৫ বছর বয়ষ্ক এক ব্যক্তি ধাওয়া খেয়ে দৌড়ে জমিনে গিয়ে পরে আহত হন। পরে তিনি মেয়ের বাড়ি গিয়ে আশ্রয় নেন। স্বাস্থ্যের অবনতি হলে হাসপাতালে নেয়ার পর গতরাতে তিনি মারা যান। আরো অনেকে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে হাত-পা ভেঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ২০০০ সালেও নির্বাচনের ঠিক আগে একইভাবে পুলিশি ধাওয়া খেয়ে এক ব্যক্তি পাশ্ববর্তী বাশ ঝাড়ে গিয়ে আশ্রয় নিলে সেখানে সে সাপের কামড় খেয়ে মারা যায়।
সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, গত এক বছরে মুরাদনগর থানা পুলিশ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকসহ কঠিন কঠিন ধারায় অসংখ্য সাজানো মামলা দায়ের করেছে। অনেককে সেই মামলায় জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়েছে।
ড. আবুল কালাম সরকার বলেন, জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই মুরাদনগরের মাঠ দখলে রাখতে বারবার পরাজিত (নির্বাচনে) একটি মহল অস্ত্রের ঝনঝনানি, হামলা-মামলা ও পুলিশি তান্ডব চালিয়ে ঘৃণ্য রাজনীতি শুরু করে। চিহ্নিত এই কুচক্রীমহলটি নিজেদের খায়েশ মেটাতে নোংরা পথে পুরো এলাকাবাসীকে জিম্মী করার পায়তারা করে। যা কোন ভাবেই বরদাশত করা যায় না।
যারা এই পুলিশি হয়রানি, জুলুম, নির্যাতন-নিপীড়ন চালাতে মদদ দিচ্ছে দ্রুত তাদেরকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানান পেশাজীবীরা। প্রশাসনকেও জনস্বার্থে এই তান্ডব বন্ধের আহবানও জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল ইসলাম, মো: দাউদ খান, ব্যারিষ্টার মামুন, ব্যাংকার আব্দুল মালেক, অ্যাডভোকেট সাঈদুর রহমান প্রমুখ।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply