খালাফ হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন

ঢাকা:–
বহুল আলোচিত সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আল আলি হত্যা মামলায়  একজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং পলাতক একজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট।

রায়ে পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাইফুলই রিভলবার দিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে। ডাকাতির উদ্দেশ্যে আসামিরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আদালত বলেন।

সোমবার বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি ইজারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন।

হাইকোর্টের দেয়া রায়ে এ কথা বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খবির উদ্দিন ভূইয়া।

বিচারিক আদালত ওই পাঁচ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন।

হাইকোর্ট সাইফুল ইসলাম ওরফে মামুনের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছেন। মো. আল আমীন, আকবর আলী লালু ওরফে রনি ও রফিকুল ইসলাম খোকনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং পলাতক সেলিম চৌধুরী ওরফে সেলিম আহম্মেদকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

রায়ের পরে খবির উদ্দিন ভুইয়া সাংবাদিকদের বলেন, “ডাকাতির জন্য আসামিরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সাইফুলই কালো রঙের একটি বিদেশী .২২ বোরের  রিভলবার দিয়ে গুলি করে।  ২৯ সেপ্টেম্বর খিলক্ষেত থানার সেবা ক্লিনিকের মালিক আবুল হোসেনের বাসায় আসামি সাইফুল ইসলাম মামুন, লালু, আল আমীন ও রফিকুল ইসলাম খোকন ডাকাতি করতে গিয়ে অন্যান্য মালের সঙ্গে রিভলবারটিও ডাকাতি করে নিয়ে আসেন।”

গত বছরের ৫ মার্চ রাত ১টার দিকে রাজধানীর গুলশানের কূটনীতিক এলাকার ১২০ নম্বর সডকের ১৯/বি নম্বর বাসার সামনে গুলিবিদ্ধ হন খালাফ আল আলি (৪৫)। ৬ মার্চ ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তার মৃত্যু হয়। গত ৭ মার্চ গুলশান থানার এসআই মোশারফ হোসেন এ বিষয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আল আলি হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির সবাইকে ফাঁসির আদেশ দেন ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোতাহার হোসেন।

হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে রনির বাড়ি বাগেরহাট জেলার শরণখোলার মধ্য খমতাকাটা গ্রামে। তিনি মৃত আব্দুল মোতালেব হাওলাদারের ছেলে।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি আল আমিনের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার হাজিখালী গ্রামে। তার পিতার নাম ফারুক ঘরামী। আকবর আলী লালু ওরফে রনির বাড়ি শরিয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার গোয়ালকোয়া গ্রামে। তার পিতার নাম আব্দুল জলিল।

রফিকুল ইসলাম খোকনের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানার নাটকঘর বাইলেনে। তার পিতার নাম আব্দুস সালাম।

খালাসপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সেলিম চৌধুরী ওরফে সেলিম আহম্মেদের বাড়ি ভোলা জেলার শশীভূষণ থানার উত্তর চরমঙ্গলে। তার পিতার নাম সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী।

এর আগে গত বছরের ৩১ অক্টোবর মামলার অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয় ৫ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। ৬ ডিসেম্বর চার্জশিটভুক্ত ৩৩ সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষ হয়।
অভিযোগ গঠনের মাত্র দুই মাসেই এ বিচারকাজ শেষ করেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৪ জুন রাজধানীর দক্ষিণখান থানার গাওয়াইর এলাকা থেকে সাইফুল ইসলাম মামুন, আকবর আলী লালু ওরফে রনি, আল আমীনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশের ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাই প্রতিরোধ টিম। এ সময় তাদের কাছ থেকে কালো রঙের একটি বিদেশী .২২ বোরের রিভলবার উদ্ধার করা হয়। অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে গত ৪ জুন তাদের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়।

আসামি সাইফুল ইসলাম মামুন ও আল আমীন আদালতে স্বীকার করেন, গত ৫ মার্চ দিবাগত রাতে ছিনতাই করতে গিয়ে বাধা দেয়ায় তারা সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আল আলিকে এ অস্ত্রটি দিয়েই গুলি করে হত্যা করেন।

আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে মামুন, মো. আল আমীন, আকবর আলী লালু ওরফে রনি ও রফিকুল ইসলাম খোকনকে এ মামলায় গত বছরের ২৪ জুলাই গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে চার্জশিট দেয়। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, মূলত নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে বিদেশী নাগরিক খালাফকে রাস্তায় দেখে ডলার পাওয়ার আশায় তাকে ঘিরে ধরেন আসামিরা। এ সময় ছিনতাইকারীদের সঙ্গে খালাফের ধস্তাধস্তি হয়। এরই এক পর্যায়ে আসামি সাইফুল ইসলাম মামুন .২২ বোরের রিভলবার দিয়ে গুলি করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply