নাসিরনগরে স্যালোমেশিনে ধান ভাঙ্গানো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে

আকতার হোসেন ভুইয়া,নাসিরনগর :–
“বৌ ধান ভানেরে ঢেঁকিতে পার দিয়া,ঢেঁকি নাচে,বৌ নাচে হেলিয়া দুলিয়া,ও বৌ ধান ভানেরে” এমনি অনেক কবিতা-গান রয়েছে । আজ কালের পরির্বতনে যান্ত্রিক সভ্যতার আগ্রাসনে রাইচ এন্ড ফ্লাওয়ার মিলের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্যালো/অটো ভ্রাম্যমান মেশিনে ধান ভাঙ্গানোর কাজ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আগের দিন কৃষকদের বাড়ির বউদের অনেক কষ্ট করে ধান ঢেঁকিতে পাড় দিয়ে ভাঙ্গানোর পর চাল ও চিড়া তৈরি হত। এখন বউদের আর কষ্ট করে ঢেঁকিতে পাড় না দিয়ে সহজে ভ্রাম্যমান মেশিনে ধান ভাঙ্গানোর ওপর নির্ভর হয়ে পড়ছেন।  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় এখন স্যালো/অটো মেশিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান ভাঙ্গানো  হচ্ছে। আর এভাবে ধান ভাঙ্গানোর মাধ্যমে উপজেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে বিদ্যুৎ চালিত ও বিদ্যুৎ বিহীন কিছু ধান ভাঙ্গানোর মিল রয়েছে। কিন্তু কৃষি পরিবারের পুরুষরা ফসলী মাঠ ও বাহিরের কাজে ব্যস্ত থাকার কারনে ভ্রাম্যমান মেশিনের সহযোগিতায় বাড়ির মহিলারাই ধান ভাঙ্গিয়ে নিচ্ছে। যা কৃষি পরিবার গুলোর জন্য খুবই উপকার হচ্ছে। উপজেলা সদরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্যালো/অটো মেশিনে এরকম ভ্রাম্যমানভাবে ধান ভাঙ্গানোর দৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় এ রকম ভ্রাম্যমান ধান ভাঙ্গানোর শতাধিক মেশিন রয়েছে। কিছু সংখ্যক শ্রমিক মাছ ধরার ট্রলার,জমি চাষের ট্র্যাক্টর ,সেচ পাম্পের স্যালো ইঞ্জিন আবার কেউ কেউ অটো মেশিন দিয়েই ধান ভাঙ্গানোর কাজ করে থাকে। এভাবে ধান ভাঙ্গিয়ে ভাল হচ্ছে বলে একাধিক মেশিনের শ্রমিকরা জানায়। তবে ক্রেতারা বলছে ধান ভাঙ্গানোর দাম উচিত থেকে একটু বেশী নিচ্ছে। তবে কৃষি পরিবার গুলো দূরের রাইস মিলে ভাঙ্গানোর জন্য নেয়া আনার বিড়ম্বনা থেকেও রক্ষা পেয়েছেন। এব্যাপারের  উপজেলা সদরের এক ভ্রাম্যমান ধান ভাঙ্গানো অটো মেশিনের চালক মোঃ সবুর মিয়া জানায়,বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান ভাঙ্গিয়ে ভালই আয় হচ্ছে। সব খরচ গিয়ে মৌসুমে দৈনিক ৫০০/৬০০ টাকা থাকে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply