সংকট সমাধানের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর—–বি. চৌধুরী

ঢাকা :–
বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, দেশে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে গভীর সংকট চলছে। সংবিধান সংশোধন করে সরকার এই সংকট তৈরি করেছে। সুতরাং সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার বেশি দায়িত্ব সরকারি দলের। আর যদি সমাধান না হয়ে সংকট আরো বাড়ে, তাহলে এর জন্য প্রধানমন্ত্রীই দায়ি থাকবেন।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ‘রাজমনি ঈশা খাঁ’ হোটেলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) উদ্যোগে ‘উত্তরোত্তর রাজনৈতিক সংকট ও নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন। আলোচনায় অংশ নেন জেএসডি সভাপতি আ.স.ম আবদুর রব, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী প্রমুখ।
বি. চৌধুরী বলেন, বর্তমান সংকট থেকে সংঘাতের সৃষ্টি হবে। দেশ মানবিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ে পড়বে। শুধু নির্বাচনের আগেই নয় পরেও সংঘাত হতে পারে। তিনি বলেন, সরকারি দল আন্দোলন বন্ধ করে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জাানাচ্ছে, এটা অরাজনৈতিক কথা। আন্দোলন ও আলোচনা একই সঙ্গে চলতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি গার্মেন্ট শ্রমিকদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে বলেন, শ্রমিকর একদিকে আন্দোলন করেছেন, অন্যদিকে দফায় দফায় আলোচনাও হয়েছে। যার ফলে একটি সমাধান বের হয়ে এসেছে। তাই আন্দোলন ও  আলোচনা পাশাপাশি চলতে পারে।
শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বি. চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী কি অস্বীকার করতে পারবেন যে, তিনি মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি? সুতরাং মন্ত্রীদের পদ খালি হয়ে গেছে। এই অবস্থায় মন্ত্রীদের কার্যক্রম, পতাকা ব্যবহার, পিএস, এপিএস এবং তাদের জন্য পুলিশ প্রটেকশন সম্পূর্ণ অবৈধ হেেয় গেছে । এ সব ক্ষেত্রে যে টাকা খরচ হবে,  তা মন্ত্রীরা  রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিতে বাধ্য থাকবেন।  তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলছেন সংবিধান থেকে এক চুলও নড়বেন না, কিন্তু তিনি এখন সব চুল উপড়ে ফেলেছেন। তিনি সংবিধান থেকে সরে
গেছেন।
বর্তমান সময়ে হরতালের যৌক্তিকতা তুলে ধরে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা নৈতিকভাবে হরতাল সমর্থন করি না। হরতালের সহিংসতায় মানুষের মৃত্যু সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু সরকার সভা, সমাবেশ, মিছিল নিষিদ্ধ করে একমাত্র হরতালের পথই খোলা রেখেছে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ.স.ম আবদুর রব বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি (আরপিও) সংশোধন করে নির্বাচন বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। নির্বাচনের ব্যয় ২৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। ফলে ভালো লোকের পক্ষে নির্বাচনে এতো টাকা ব্যয় করা সম্ভব হবে না।
রব বলেন, দেশ আজ রাজনৈতিক এবং সাংবিধানিক সংকটে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করায় মন্ত্রীদের পদ শূন্য হয়ে   গেছে। পদত্যাগী মন্ত্রীদের নিয়ে মন্ত্রিপরিষদের সভা আহ্বান সাংবিধানিক নয়। রাষ্ট্র কোনো নাটকের স্থান নয়, প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিবেন, অথচ তারিখ দিবেন না।
১৪ দল আজ ভাঙ্গনের মুখে এবং এ ব্যাপারে শিগগিরই ঘোষণা আসবে জানিয়ে জেএসডি সভাপতি বলেন, এরশাদ জোট ছাড়ার ঘোষণা দিবেন যেকোনো সময়। আমরা তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, জনগণ দুই দলের কাছেই জিম্মি হয়ে আছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply