নব জীবনের পথে

—–মোঃ জালাল উদ্দিন

চারদিক ঘন অন্ধকার। সমস্ত দেশটা যেন কী এক অশরীরী শক্তির করাল গ্রাসে নিমজ্জিত! কোথাও কোন বনিবনা নেই। একে অপরের শত্র“। চৌ-দিকে শুধু হানাহানি, কাটাকাটি আর বোমাবজি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন প্রায় রনাঙ্গন। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি। সব মিলিয়ে দেশটা একটা পাগলা গারদে পরিণত হয়েছে। কেউ কাউকে পরোয়া করে না। সবাই এখানে শক্তিশালী। কিঞ্চিত সুযোগ পাবে তো ডেগারের এক গুঁতোয় জীবন সাঙ্গ করে সব লুট করে নিয়ে যাবে। এখানকার মানুষগুলোও পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে মিলিয়ে একেবারে খিটখিটে হয়ে উঠেছে। তাদের এখন আর কোন শ্রী নেই। কোন রকমে দিনাতিপাত করছেÑ মনে হয় যেন জেলখানার কয়েদী।

শীত কাল। কমল লেপ গায়ে জড়িয়ে শুয়ে আছে। তার দৃষ্টিতে আশাহতের এক করুণ চিত্র। খোলা জানালা দিয়ে বাহিরের ঘন কুয়াশার দিকে তাকিয়ে আছে। তার জীবনেও তো আজ এই ঘন কুয়াশাই এসে ভিড় জমিয়েছে। সে তার অতীতের সাথে বর্তমানকে মিলিয়ে দেখছে। সেখানে আকাশ-পাতাল তফাৎ। তার জীবনের সকল আশা-আকাঙ্খা কালের নির্মম আঘাতে ভেঙ্গে চুরমার। দূরের পেটা ঘড়িতে ঢং ঢং ঢং করে ঘন্টা বাজছে। সকাল ন‘টা।

কমল আড়মুড় দিয়ে শয্যা থেকে উঠে প্রাতঃক্রিয়াদি শেষ করে নিল। পরে আঙিনার রোদে চেয়ারে বসে দৈনিক পত্রিকা পড়ছে। উৎসুক দৃষ্টিতে প্রথমেই সে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে। মনে হয় যেন একটা চাকুরী পেলেই সবকিছু তার সমাধা হয়ে যাবে। কিন্তু সব গুড়েবালি। যা দু একটা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখেছে, তাতে চায় ৫/৬ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা; তদুপরি মহিলা প্রার্থিনীদের অগ্রাধিকার। এ সব দেখে সে ক্ষোভে, দুঃখে, লজ্জায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে। রাগ হয়ে হঠাৎ নিজে নিজেই বলে উঠেÑ

“শালার সরকার! দেশের লক্ষ লক্ষ যুবকদের কর্মসংস্থান দিয়ে বাহাদুরী দেখাতে পার না!! আর নিয়োগ বন্ধ রাখাই বুঝি তোমার বাহাদুরী?” ওহ! আমাদের দেশের লোকগুলো কত নির্লজ্জ, হীনমনা। দেশের লক্ষ লক্ষ যুবক বেকার হয়ে বসে বসে খাবে; আর তাদেরই মা-বোন চাকুরী করবেÑ আমাদের এ জীবন থাকা না থাকারই নামান্তর।

কমল ক্রমান্বয়ে পৃষ্ঠাগুলো উল্টোচ্ছে। হঠাৎ “এ বছর চল্লিশ হাজার ছেলেমেয়ে উচ্চ শিক্ষার দ্বার থেকে ফিরে আসতে হবে”, “ভার্সিটিতে আবার বোমাবাজি ও অগ্নিসংযোগ”, “ভিসির পদত্যাগ পত্র মঞ্জুর” ইত্যাদি শিরোনামগুলো দেখে সে বিড়বিড় করে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। মনে হয় যেন সমস্ত অস্থিরতা আজ তাকেই ঘিরে ফেলেছে। সময় অনেক হয়েছে। কমল সংবাদ পত্রটা বন্ধ করে উঠে যাবার আয়োজন করছে। এমন সময় ডাক পিয়ন এসে একটা চিঠি দিয়ে গেলো।

প্রিয় কমল, পত্রে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। জানিনে তুমি কোথায়, কি অবস্থায় আছো। কিন্তু তবু ক্লাশমেট হিসেবে অধিকার আছে বলে পত্র দিলেম। তোমার পরীক্ষার ফলাফল দেখে খুবই সুখী হয়েছি। তোমার এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি দু‘টোতেই এখন ১ম বিভাগ হলো। আমার ফলাফলও হয়তঃ জেনে থাকবে নিশ্চয়ই। কিন্তু তুমি এতই নিষ্ঠুর সেই যে কলেজ থেকে পরীক্ষা দিলে আর একটা দিনও দেখা দিলে না। এমনকি একটা পত্রও দিলে না। কিন্তু আমি তো তোমার কাছে ঋণী। তোমার নোটগুলোই আমার ভাল ফলাফলের দিক-দর্শন হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু তুমি যা-ই হও, আমি কিন্তু তোমাকে অহরহ মনে করছি। মনে হয় যেন তোমাকে কত যুগ ধরে দেখিনি। কলেজ জীবনে যখনই তোমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করেছি, তোমার জীবনের উদ্দেশ্য কি, পরীক্ষার পর কোথায় ভর্তি হবে; তখনই তুমি অন্য প্রসঙ্গ তুলে এভোয়েড (Avoid) করে চলেছো। তখন সব সময়ই তোমার মাঝে মৌনতা লক্ষ্য করেছি। অনেক পীড়াপীড়ি করার পর একদিন বলেছিলে যে, একদিন তোমার সম্পর্কে সব জানতে পারবো। জানিনে তুমি কেনো এত শক্ত, কঠোর ছিলে। সে যা-ই হোক। পত্র পাওয়া পর অবশ্যই তুমি আসবে। আমি তোমার অপেক্ষায় রহিলাম। পত্রে তোমাকে সব বলা সম্ভব নহে। সাক্ষাতে বলব। ইতি নীলা।

নীলা! নীলা!! তুমি আমাকে এখনও ভুলতে পারোনি? তুমি আমার কাছে ঋণী? কিসের ঋণী? কেনো ঋণী? আমি তো তোমাকে কিছুই করতে পারিনি নীলা, কিছুই করতে পারিনি। কথাগুলো কমলের মনে ঘুরপাক খেতে লাগলো।

: কি হয়েছে? এত অস্থির হয়ে কি ভাবছো? কমলের ভাবী কমলকে বললো।
: ভাবছি আপনাদের মত মেয়েদের কথা। একটু দুষ্টোমি করেই বললো কমল।

: দুষ্টো কোথাকার! সব কথায় দুষ্টোমি। ঈষৎ হেসে বললো কমলের ভাবী।

: সব কথা হেসে উড়িয়ে দেবে, এটাই তো মেয়েদের অভ্যেস। এই নেন সত্য-মিথ্যা যাচাই করে নিন। সাবধান কাউকে বলবেন না কিন্তু।

কমলের ভাবী মাথা নেড়ে কমলের দেয়া চিঠিটা পড়ে নিল। অতঃপর জিজ্ঞাসা করলোÑ“মেয়েটি কে?”

: কেনো? আপনি তো তাকে দেখেছেন।

: মানে?

: পরীক্ষার সময় আমাদের বাসায় যে মেয়েটি এসেছিলো, সে-ই নীলা।

: হ্যাঁ, চিনেছি এবার। সে তো খুব সুন্দরী, খুব ভালো মেয়ে। কবে থেকে তোমাকে ভালবাসে?

: কলেজ জীবন থেকেই সে আমাকে ভালবাসে। কিন্তু আমি তাকে এভোয়েড করেই চলেছি। পরীক্ষার সময়ই তার সাথে আমার শেষ দেখা।

: তোমাকে মনে প্রাণেই সে ভালবাসে। তাকে নিয়ে তুমি সুখীই হবে।

: কিন্তু, সে তো খুব বড়লোকের মেয়ে ভাবী। আমার সাথে তার …………

: হ্যাঁ, বুঝেছি। ভালবাসা ধনী-গরীব চেনে না, বুঝলে।

: মিথ্যে কথা। আমি তা বিশ্বাস করি না। অভাবের সময় অনেক স্ত্রী তার স্বামীকে ডিভোর্স পর্যন্ত করে থাকে। স্বামীকে তার বাবার বাড়ির ধন-সম্পদের ইঙ্গিত দিয়ে ধিক্কার দেয়। আমার জানামতে এমন অনেক আছে ভাবী। বলুন, সেটাই কী ভালবাসা? বরং সেটা ভালবাসার কলঙ্ক নয় কি?

: তাহলে তুমি বলছো সবাই খারাপ?

: না, তা আপনারা খারাপ হতে যাবেন কেনো? খারাপ হবো আমাদের মত ছেলেরা। আপনারা শুধু কোকিলের সুরে …………

: কমলের কথাটা শেষ হতে পারেনি। ইতোমধ্যেই তার ভাবী হাত দিয়ে ঠোঁট দু‘টো চেপে ধরলো। অতঃপর হেসে বললো, “থাক, ওসব কথা। গোছল করে খেয়ে একটু ঘুমাও গিয়ে।”

: হ্যাঁ, যাচ্ছি। ভাত বেড়ে তৈরী করুন। আমি এক্ষুণি আসছি।

এই বলে কমল আলনা থেকে লুঙ্গি আর তোয়ালেটা নিয়ে চলে গেলো। ক্ষণিক পরেই সে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে শয্যায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। কিছুক্ষণ সাপ্তাহিক পত্র-পত্রিকার পৃষ্ঠা উল্টালো। অতঃপর একটু ঘুমোতে চেষ্টা করলো। কিন্তু কিছুতেই ঘুম এলো না। কেবলই নীলার চিঠির কথাগুলো মনে ঘুরপাক খেতে লাগলো। কমল হাত ঘড়িটার দিকে তাকালো। বিকাল চারটে। সে শয্যা থেকে উঠে পরিধানের বস্ত্র ঠিক করে নিল। অতঃপর রওয়ানা হলো নীলার কাছে। কমল কলিংবেল টিপতেই দরজা খুলে দিলো নীলা। কমলকে দেখেই নীলা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো, “ কমল, কি হয়েছে তোমার?

: মানে? ঈষৎ হেসে বললো কমল।

: তোমাকে তো একেবারে বিষন্ন দেখাচ্ছে। মনে হয় যেন সমস্ত অস্থিরতা তোমাকেই ঘিরে ফেলেছে। কোন অসুখ-বিসুখ হয়নি তো?

: আরে না, না। অনেকদিন পরে দেখলে তো তাই। সকলে ভাল আছেন তো?

: হ্যাঁ, ভালই। ড্রয়িং রুমে চলো। পরে কথা হবে।

নীলা দরজাটা বন্ধ করে কমলকে নিয়ে ড্রয়িং রুমে গিয়ে বসলো। এবারও নীলাই আগে মুখ খুললো।

: আমাদের বাসা চিনতে কোন অসুবিধে হয়নি তো? মুখ ঢেকে হাসতে হাসতে বললো নীলা।

: তা হবে কেনো? আপন জনের বাসা চিনতে কি ভুল হয় নীলা?

কথাটা বলেই কমল এক দৃষ্টিতে নীলার মুখের দিকে তাকিয়ে রহিল। নীলা সলজ্জভাবে বুকের কাপড়টা টেনে দিলো। অতঃপর মাথা নিচু করে ফেললো।

: অমন করে কি দেখছো? অস্পষ্ট করে বললো নীলা।

: না, কিছু না। তবে তুমি ভাবীকে কোন ঘুষ দিয়েছিলে না কি?

: মানে?

: সেদিন ভাবী বললেন, তুমি নাকি খুব সুন্দরী, খুব ভালো। তোমার মত মেয়ে ………..

: চুপ কর কমল, চুপ করো।

নীলা কমলের মুখে হাত চেপে ধরে হঠাৎ থামিয়ে দিল। কমল নীলার হাতখানি কোমলভাবে সরিয়ে নিয়ে টিপতে লাগলো। নীলা যেন কী এক অভূতপূর্ব অনুভূতি অনুভব করতে লাগলো!

: ওহ! ছাড়ো কমল। চাকরটা চা নিয়ে এসে পড়বে। মৃদুস্বরে বললো নীলা।

ক্ষণিক পরে নীলা নিজেই কিছু মিষ্টি আর চা নিয়ে হাজির হলো। কমল জিজ্ঞাসা করলো, বাসায় আর কেউ নেই নীলা?”
: না, আছে শুধু চাকরটা। আর সবাই বেড়াতে গেছেন। সন্ধ্যাতেই এসে পড়বে।

: ঐ মিষ্টি কি তোমার রেজাল্টের নীলা?

: হ্যাঁ, খেয়ে নাও।

: কিন্তু রেজাল্ট তো বাসি হয়ে গেছে নীলা। মৃদু হেসে বললো কমল।

: “প্রেম ভালবাসা তো বাসি হয়নি। এই খেয়ে নাও।” বলেই নীলা কমলের মুখে মিষ্টি তুলে দিলো। কমলও রীতিমত প্রতিদান দিয়ে চা পান করতে লাগলো।

: আচ্ছা, এবার বলো; তুমি কোথায় ভর্তি হবে? নীলা কমলকে জিজ্ঞাসা করলো।

: না, নীলা আর ভর্তি হবো না।

: কেনো?

: কেনোর উত্তর এখন তোমাকে দেয়া অত সহজ নয় নীলা।

: তাহলে কি দু‘টো ফার্ষ্ট ডিভিশন নিয়ে বসে থাকবে?

: এ কথা আরো অনেকে আমাকে বলেছে। কিন্তু কী করবো নীলা! দু‘টো ফার্ষ্ট ডিভিশন এখন আমার গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে নীলা।

: ওসব কী বলছো কমল! দু‘টো ফার্ষ্ট ডিভিশন দিয়ে তুমি কি না করতে পারো? মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, অনার্স সবই তো পড়তে পারো।

: হ্যাঁ, তা পারি। কিন্তু আমি সেসব পড়ব কোথায় নীলা? বাড়িতে না ভার্সিটিতে? দৈনিক পত্রিকা পড়োনি?

: হ্যাঁ পড়েছি। কিন্তু এখন কি করবে ভাবছো?

: ভাবছি একটা চাকুরী নেব।

: কিন্তু চাকুরী যে এখন নেই কমল!

: হ্যাঁ, তা-ও জানি। তবুও খুঁজে নিতে হবে।

: মা কি বলছেন?

: মা বলছেন, শহরেই কোন একটা কলেজে ভর্তি হই। কিন্তু আমি তা করব না নীলা।

: কেনো? তুমি চাকুরীর জন্যে এত ব্যস্ত হয়েছো কেনো? মা যা বলেছেন, তা তো ভালই বলেছেন। ভার্সিটিতে গোলযোগ। সেখানে না হয় না-ই গেলে।

: না, নীলা। ভাল-মন্দ তুমি এখন বুঝবে না। আমি বুঝি। তাছাড়া, লেখা-পড়া যেহেতু করছিনে, তখন একটা কিছু করা চাই। এখন তুমি কি করবে ভাবছো?

: ইচ্ছে ছিলো মেডিক্যাল অথবা অনার্স পড়বো। কিন্তু ভার্সিটির বর্তমান অবস্থাতে বাবা-মা সেখানে দিতে রাজী নন। তাই লেখা-পড়া এখানেই ইতি।

একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে কমল বললো, “আচ্ছা, এখন উঠি নীলা। পত্র দিও।”

: হ্যাঁ, দেবো। তুমি কোথায়, কি করো জানাবে কিন্তু। দেখো, ভুল যেন না হয়।

কমল ইঙ্গিতে উত্তর দিয়ে বাসায় ফিরে এলো।

কমলের মনটা ভারী বিষন্ন। সারাদিন ঘুরে ক্লান্ত হয়ে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে আসে। এভাবে দেখতে দেখতে একদিন কমলের চাকুরী হয়ে গেলো। কমল অফিসে যাবে। এমন সময় নীলার চিঠি এলো।

কমল, আমার বিপদ আসন্ন। বাবা-মা ডাক্তার পাত্রের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছেন। কিন্তু আমি তা কিছুতেই মেনে নিতে পারব না কমল, কিছুতেই না। তুমি আমাকে মুক্ত করো কমল, মুক্ত করো। ইতি নীলা।

একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে কমল অফিসে চলে গেল। অফিস থেকে এসেই নীলাকে পত্র লিখলোÑ

নীলা, আমার কথায় হয়তঃ তুমি দুঃখ পাবে জানি। তাহলে কিন্তু মারাত্মক ভুল করবে নীলা। জীবনটাকে নিজ হাতে নষ্ট করো না। তাহলে আমাকেও সারাটা জীবন তোমার আগুনে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছাঁই করবে নীলা। তুমি ও বিয়েতে রাজী হও নীলা, রাজী হও। তুমি সুখী হলে আমিও সুখী হবো নীলা। আমাদের সংসারে তোমার সুখ হবে না, বরং দুঃখ হবে। আর ভালবাসা মানে বিয়ে করা নয় নীলা, তাতে ভালবাসার মৃত্যু হয়। তুমি কী তা-ই চাও নীলা! আমি তোমাকে ভালবাসিÑআজীবন ভালবাসবো। সে ভালবাসার যেন অপমান না করো। আমারও একদিন সাধ ছিলো ডাক্তার হবো নীলা। কিন্তু আজ বলতে লজ্জা হচ্ছে আমি একজন কেরাণী। জানো নীলা, সংসারে বড় হওয়াটাও একটা বড় অভিশাপ। বাবা মারা যাওয়ার পর বড় হিসেবে সংসারের ষোল আনা দায়িত্ব আসে আমার উপর। তাই গুড়েবালি হলেও নীরবে সব সহ্য করছি। কিন্তু তুমি তোমার পবিত্র ভালবাসার স্বার্থে এতটুকু ত্যাগ স্বীকার করতে পারবে না নীলা? না, অভিমান করো না লক্ষীটি। তুমি ঐ বিয়েতে রাজী হও। ইতি কমল।

চিঠিটা পড়ে নীলা স্তব্ধ হয়ে গেল। চিঠির কথাগুলো তার মনে চক্রাকারে ঘুরতে লাগলো। “ না! না!! আমি তোমার ভালবাসার অপমান করবো না কমল, অপমান করবো না।” নীলা চিঠিটা বুকে জড়িয়ে শয্যার উপর হুঁপিয়ে হুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো।

কিছুদিন কেটে গেলো। অবশেষে সেই শুভ দিনটা ঘনিয়ে এলো। চারদিক থেকে আত্মীয়-স্বজন আসতে লাগলো। নীলা অস্থির হয়ে জানালা দিয়ে বারবার পথের দিকে তাকাচ্ছে। “এ কী! কমল আসছে না কেনো!! তাহলে কী তার কোন ………………

কিছুক্ষণ পর কলিংবেল বেজে উঠলো। নীলা দরজা খুলেই দেখলো কমল এসেছে। উভয়ে একটা কক্ষে গিয়ে বসলো। কমল নীলাকে একটা বই দিয়ে বললো, “নীলা, এই নাও আমার ক্ষুদ্র উপহার।”

: এটাই আমার জন্যে অনেক বড় কমল। তোমার ভালবাসার চেয়ে আর কি বড় হতে পারে কমল?

: হ্যাঁ, নীলা তাই। কিন্তু ভালবাসা মানে তো শুধু সুখ নয় নীলা! তাই তোমাকে আজ আরো কষ্ট-সহিষ্ণু হতে হবে নীলা।
: না, কমল; না! তোমার ভালবাসার যে প্রদীপ আমার হৃদয়ে জ্বলছে, তা কোন দুঃখকেই সেখানে স্থান দেয় না কমল।
: নীলা! নীলা!! শুভ দিনে কাঁদতে নেই নীলা। যাও, তৈরী হও গিয়ে। নব জীবনের পথে পাড়ি দাও। দোয়া করি, সুখী হও নীলা, সুখী হও। রুমাল দিয়ে অশ্র“ মুছতে মুছতে বললো কমল।

ক্ষণিক পরেই শুভ কাজ সম্পন্ন হয়ে গেল। কমল বাসায় ফেরার জন্যে একটা রিক্সায় উঠে বসল।

=========================
লেখক: মোঃ জালাল উদ্দিন
গ্রাম: বড়ইয়াকুড়ি, পোঃ জাহাপুর
উপজেলা: মুরাদনগর, জেলা: কুমিল্লা।
মোবাইল নম্বর: ০১৮১৯-৬০৩৮০২
ই-মেইল: jalal307@gmail.com

Check Also

মাদকসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারকেই জোরালো ভূমিকা নিতে হবে

—-মো. আলীআশরাফ খান লেখার শিরোনাম দেখে হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেন, কেনো লেখাটির এমন শিরোনাম দেয়া ...

Leave a Reply