‘‘3G পাল্টে দেবে জীবনবোধ’’

—-আবদুর রহমান

আমাদের জীবনধারা থাকবে অত্যন্ত গতিশীল। দ্রুতগতিতে সারতে হবে আমাদের সকল কাজ। দ্রুতগতি ও হাতের মুঠোয় বিশ্বকে পাওয়ার জন্যই ৩এ(থার্ড জেনারেশন) পদ্ধতি। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের সকল অপারেটরদের ৩এ’র সেবা দেয়ার জন্য মনোনিত হয়েছে। তবে লাগবে ৩জি ডিভাইস যুক্ত মোবাইল সেট। যার ফলে ভিডিও কলের মাধ্যমে প্রিয়জন, বন্ধু-বান্ধব, নিকট আতœীয় সাথে ছবিসহ ডাটা আদান-প্রদান করা যাবে সহজে ও দ্রুতগতিতে। সেবা পাওয়া যাবে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ/ট্যাব এর বিকল্প মাধ্যম হিসেবে। সহজ হচ্ছে দৈনন্দিন কাজে গতিবোধ। আর সফলভাবে ৩এ ’র বাণিজ্যিক সেবা চালুর পরেই চতুর্থ প্রজন্মর টেলিযোগাযোগ ৪এ সেবাও চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৩এ লাইসেন্সের আওতায় ৪এ অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি। ৪এ প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলে তখন এটার অনুমোদন দেবে বিটিআরসি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যত দ্রুত সম্ভব ৪এ ও খঞঊ (খড়হমঃবৎস ঊাধষঁধঃরড়হ) নেটওয়ার্ক সেবার অনুমোদন দেবে বিটিআরসি। দেশে ৩এ সেবা চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয় ২০০৮ সালে। তবে বাণিজ্যিকভাবে এ সেবা চালু করতে খসড়া নীতিমালা তৈরির কাজ স¤পন্ন হয় গত বছর। একই বছরের ২৮ মার্চ খসড়া থ্রিজি/ফোরজি/ এলটিই রেগুলেটরি অ্যান্ড লাইসেন্সিং নীতিমালা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠায় বিটিআরসি। এ নীতিমালায় ৩এ ’র পাশাপাশি ৪এ ও এলটিই সেবাদানেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। ৩এ লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোই এ সুযোগ পাবে। পরবর্তী প্রজন্মর প্রযুক্তির সেবাদানের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আবেদন করতে হবে। ৩এ লাইসেন্সের বিপরীতেই এ সেবাদানের অনুমোদন দিতে পারবে কমিশন। এটি শেষে ফোরজি ও এলটিইর অনুমোদন দেয়া হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সেবা চালুর অনুমোদন দেবে বিটিআরসি। এর আগে ২০১২ সালের ৩১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন ২০১২ সালের ডিসেম্বরেই চতুর্থ প্রজন্মর (৪এ) প্রযুক্তি সেবা চালু হবে। যদিও ৩এ সেবার মান এখনও সারা দেশে পৌছায়নি। প্রসঙ্গত ৪এ হল ফোর্থ জেনারেশন বা চতুর্থ প্রজন্ম শব্দটির সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি ব্যবহৃত হয় চতুর্থ প্রজন্মর তারবিহীন টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তিকে বুঝাতে। এটি তৃতীয় প্রজন্মর (৩এ) টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির উত্তরসূরি। ৪এ প্রযুক্তি ল্যাপটপ, স্মার্টফোন বা অন্যান্য মোবাইল যন্ত্রে মোবাইল আল্ট্রা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে থাকে। ৪এ নেটওয়ার্কে যেসব সুবিধা পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে সংশোধিত মোবাইল ওয়েব সেবা, আইপি টেলিফোনি, গেমিং সেবা, হাই-ডেফিনিশন মোবাইল টিভি, ভিডিও কনফারেন্স, ত্রিমাত্রিক টেলিভিশন এবং ক্লাউড ক¤িপউটিং উল্লেখযোগ্য। বাণিজ্যিকভাবে দুই ধরনের ফোরজি প্রযুক্তি স্থাপিত হয়েছে। মোবাইল ওয়াইম্যাক্স (২০০৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম) এবং খড়হমঃবৎস ঊাধষঁধঃরড়হ বা খঞঊ (২০০৯ সালে নরওয়ের ওসলো এবং সুইডেনের স্টকহোমে প্রথম)। যুক্তরাষ্ট্রে স্প্রিন্ট নেক্সটেল ২০০৮ সালে মোবাইল ওয়াইম্যাক্স নেটওয়ার্ক স্থাপন করে এবং মেট্রোপিসিএস ২০১০ সালে প্রথম এলটিই সেবা চালু করে। তারবিহীন ইউএসবি মডেম প্রথম থেকেই লভ্য ছিল, কিন্তু ওয়াইম্যাক্স স্মার্টফোন লভ্য হয় ২০১০ সাল থেকে এবং এলটিই স্মার্টফোন ২০১১ সাল থেকে। তবে ইউরোপীয় বাজারে বর্তমানে ওয়াইম্যাক্স স্মার্টফোন বিক্রয় বন্ধ রয়েছে। ২০০৮ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের বেতার যোগাযোগ সেক্টর ৪এ প্রয়োজনীয় বিষয়বস্তু সমূহের একটি রূপরেখা প্রবর্তন করে। তারা উচ্চ মোবিলিটি যোগাযোগের জন্য প্রতি সেকেন্ডে ১০০ মেগাবিট এবং নি¤œ মোবিলিটি যোগাযোগের জন্য প্রতি সেকেন্ডে ১ গিগাবিট গতি প্রণয়ন করে। মোবাইল ওয়াইম্যাক্স রিলিজ ২ এবং এলটিই-অ্যাডভান্সড আইএমটি-অ্যাডভান্সডের বিষয়বস্তু সমর্থন করে এবং এর সাহায্যে প্রতি সেকেন্ডে এক গিগাবিট গতিস¤পন্ন সেবা প্রদান করাও সম্ভব। এই সেবাগুলো চলতি বছর ২০১৩ সালে অবমুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তথ্যপ্রযুক্তির সেবারমান ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ৩এ ও ৪এ তুলনা হয় না। তবে বাংলা লায়ন ও কিউবি সেবার ইন্টারনেট সেবার মান ভাল হলেও সব জায়গায় নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা ৩এ ব্যবহার খুব শিগগিরই সারাদেশে প্রয়োজন। নতুবা প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে না। তথ্যপ্রযুক্তির দিক থেকে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে পড়বে। আশা করছি দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা ৩এ ’র খুব শিগগিরই সারা দেশে চালু হবে এবং পাল্টে দেবে আমারদের জীবনবোধ।

========================
লেখক : আবদুর রহমান, শিক্ষার্থী,
E-mail: m.a.rahman33@gmail.com
মেনেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ(এমবিএ), ফাস্ট ব্যাচ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা।
মোবাঃ ০১৫৫২ ৪৬ ৩৬ ১১।
তারিখঃ ০৫-১১-২০১৩ ইং।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply