ব্রাহ্মণপাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন : ছাদ ও বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরে দেবে গেছে ভবন, নির্মানের চার বছরেই ঝুকিপূর্ণ

সৈয়দ আহাম্মদ লাভলুঃ–

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবনের ছাদ ও বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় এসব ভবন ঝুকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছে এলজিইডি। নির্মানের চার বছরের মাথায় অনেকগুলো ভবনের ছাদসহ বিভিন্ন অংশ ফেটে দেবে যাওয়ায় নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রকৌশলীদের দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে ঝুকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণপাড়া এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ থেকে ২৫টি ঝুকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের তালিকা উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগে (এলজিইডি) প্রেরণ করা হয়। উপজেলা প্রকৌশলী এসব ভবনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আটটি বিদ্যালয়ের ভবন ঝুকিপূর্ণ চিহ্নিত করেন। ঝুকিপূর্ণ ভবনগুলো হচ্ছে আশাবাড়ি, ব্রাহ্মণপাড়া, বড়ধুশিয়া, পূর্ব চন্ডিপুর, মহালক্ষীপাড়া, কালামুড়িয়া, রামনগর এবং পুস্কুনীরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব ভবনের মধ্যে চারটি ভবনের তথ্য উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে পাওয়া গেলেও বাকিগুলোর কোন ফাইল বা তথ্য পাওয়া যায়নি। চারটি ভবনের তথ্যেও অস্পূর্ন দেখা গেছে। উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের মজুমদারের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, কালামুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি ভবনের নির্মানকাজ ২০০৬ সালের ১০সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি সমাপ্ত হয়। ১৮ লাখ ৫৮ হাজার ৩২১ টাকা ব্যায়ে মেসার্স মামুন এন্টারপ্রাইজ কাজটি সম্পাদন করে। আশাবাড়ি ও মহালক্ষীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইটি ভবনের কাজ পায় মেসার্স এম,এ জাহের। আশাবাড়ির ভবনটি ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৪৬ টাকা ও মহালক্ষীপাড়ার ভবনটির জন্য ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪২৮ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয়। এই দুটি ভবনের নির্মান কাজ শুরু ও শেষের তথ্য এলজিইডি কার্যালয়ে না পাওয়া গেলেও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ২০০৬ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০০৯ সালে শেষ হয়েছে। বড়ধুশিয়ার ভবনটি ৩৩ লাখ ১১ হাজার ৯৬২ টাকা ব্যায়ে ২০০৮ সালের ২৫ নভেম্বর শুরু হয়ে ২০০৯ সালের ২৮ অক্টোবর কাজ শেষ হয়। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ি চারটি ভবনই চার বছরের মাথায় ঝুকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। চারটি ভবনের প্রথম ও চুড়ান্ত বিলে স্বাক্ষর করেন উপ-সহকারি প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম, মো. হারুন-অর-রশিদ, সামছুল আলম এবং উপজেলা প্রকৌশলী জহিরুল হক, মো. হারুন-অর-রশিদ, ওয়ালীদ মাহমুদ ও মো. সফিকুল ইসলাম ভুইয়া।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. রুহুল আমীন বলেন, ঠিকাদারের অধিক লাভের আশায় ত্রুটিপূর্ণভাবে নির্মান আর কর্তব্যরত প্রকৌশলীদের দূর্নীতির ফলে তিন চার বছরের মধ্যে নির্মিত নতুন ভবনগুলো এ দূরাবস্থা হয়েছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের। এ রকম অনিয়ম কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত হবে দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি প্রদান করা।
উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে ২৫টি বিদ্যালয়ের ঝুকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে আমার নিকট প্রেরণ করে। আমি সরেজমিন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আটটি বিদ্যালয়ে ভবনগুলোর ছাদ ও বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখতে পাই। পরে এসব বিদ্যালয়ের ঝুকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply