মতলবে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা কেন্দ্র ১১টি, ৫ কেন্দ্রেই পরীক্ষার্থী ৩শ’র নিচে

শামসুজ্জামান ডলার :–

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ৫১শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার্থীরা এবারে উপজেলার ১১টি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিবে। এর মধ্যে মাত্র ৩শ’রও নিচে পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিবে এমন কেন্দ্র রয়েছে ৫টি। ৩শ’র নিচে পরীক্ষার্থী এমন কেন্দ্রগুলো হলো- জেডিসি’র কেন্দ্র আউলিয়াবাগ দাখিল মাদ্রাসায় ১৯৩জন, ফরাযীকান্দি কামিল মাদ্রাসায় ২৭৬জন এবং জেএসসি’র কেন্দ্র নন্দলারপুর সামাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ২১৪জন, সুজাতপুর নেছারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৯৩জন এবং ওটারচর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৯৫ জন। এ উপজেলায় এতো অধিক হারে কেন্দ্র হওয়ার কারনে কিছু কেন্দ্রে বিগ্নিত হচ্ছে মানসন্মত পরীক্ষা। পরীক্ষা কেন্দ্রের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে, প্রশ্নপত্র ও পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র যথাস্থানে পৌঁছাতে প্রতিকেন্দ্রে পুলিশ অফিসার ও পুলিশ সদস্য দিতেগিয়ে থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম হচ্ছে ব্যহত। অন্যদিকে, মতলব উত্তর উপজেলা প্রশাসনের বেশক’টি প্রশাসনিক পদ খালি থাকা এবং বরাবরই কিছু দাপ্তরিক প্রধানদের ব্যস্ততায় তাদেরকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিতে হয়ে থাকে। পরীক্ষা চলাকালীন কিছু দাপ্তরিক কর্মকর্তা উচ্চ পর্যায়ের ট্রেনিং ও জরুরী কাজে ছুটি নিয়ে থাকেন তখন প্রতিকেন্দ্রের জন্য পরীক্ষা চালানোর মতো অফিসারের মারাত্বক সংকট দেখা যায়। এসকল কারনে মতলব উত্তর উপজেলা প্রশাসন অনিচ্ছাকৃত বিভিন্ন দপ্তরের (পরীক্ষার বিষয়ে) অনভিজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষার কাজ পরিচালনা করে থাকেন। কিছু ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনভিজ্ঞতা, ভালোফলাফলের লক্ষ্যে এক কেন্দ্রের সাথে অন্য কেন্দ্রে অসুস্থ্য প্রতিযোগীতাসহ নানাবিধ কারনে কয়েক বছর ধরে এখানকার জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় হয়ে আসছে ব্যপক অনিয়ম। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কিংবা জেলা থেকে কোন প্রতিনিধি আসলে তিনি যতক্ষন কেন্দ্রে অবস্থান নেন ঠিক ততক্ষনই কেন্দ্রের শৃংখলা থাকে। আর অনেক শিক্ষকের নৈতিক অবক্ষয়ের কারনে কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসনিক নজরদারী বাড়ানো জরুরী হলেও কেন্দ্র অধিক হওয়ার কারনে তা আর হয়ে উঠেনা। আর এসকল অনিয়মের মধ্যদিয়ে পরীক্ষা হওয়ায় বিগ্নত হচ্ছে এ উপজেলার মানসন্মত শিক্ষা। অন্যদিকে, পরীক্ষা কেন্দ্রের এ অবস্থা দেখার পর অনেক শিক্ষার্থী পরবর্তীতে এসএসসি পরীক্ষার জন্যে আর পরিশ্রম করে ভালো প্রস্তুতি নিতে আগ্রহী হয়না।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সাথে কথাহলে তাঁরা ক্ষোব প্রকাশ করে জানান, এ উপজেলায় বর্তমানে যেভাবে পরীক্ষা হচ্ছে তাতে করে তাঁরা নিজেরাও নাখোশ। কিন্তু পরিস্থিতি এমন যে, এখানে অধিক কেন্দ্র হওয়ায় যেভাবেই হোক না কেন ফলাফল ভালো করতে হবে চলে এমন অনৈতিক প্রতিযোগীতা।
অধিক কেন্দ্র ও মানসন্মত পরীক্ষা না হওয়ার ব্যপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু সালেহ মোঃ ওয়াহিদ এর সাথে কথাহলে তিনি বলেন, উপজেলায় অধিক কেন্দ্রের সুবিধা যেমন আছে অসুবিধাও আছে। তবে কেন্দ্র কম হলে মানসন্মত পরীক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply