বাঘের থাবায় আবারও ঘায়েল নিউজিল্যান্ড

ঢাকা :–

ঝলসানো রোদের ডানায় যে ফিসফিসানি, ঝুম বৃষ্টির ভেজা হাওয়ায়ও সেই গুনগুনানি। ৪-০! ২০১০-র অক্টোবরের সেই সিরিজটি মহাকালের পঞ্জিকায় এমনই স্থায়ী আঁচড় কেটেছে যে, বাংলাদেশের মাটিতে কিউইদের বিপক্ষে আরেক দফা দ্বৈরথেও তার সদর্প বিচরণ । এবার অবশ্য বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজটা ৩ ম্যাচের,৪-০ হবে না এজন্য । তবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটাও এক ম্যাচ হাতে রেখে ২-০ ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে মুশফিকের দল জিতল ৪০ রানে। তাই বাঘের থাবায় আবারও ঘায়েল কিউইরা।

কালো উইকেটে ব্ল্যাকক্যাপদের কপালে আরও একটা কালো দাগ এঁকে দিল বাংলাদেশ। মুশফিকের দলের ২৪৭ রানের জবাবে ম্যাককালাম বাহিনী করতে পারে ২০৭। ।মিরপুরের স্লো টার্নি উইকেটে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২৪৭ যেন ৩৪৭ হয়ে উঠেছিল কিউইদের জন্য। অথচ এই নিউজিল্যান্ডই বাংলাদেশে আসার আগে সিরিজ জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা আর ইংল্যান্ডের মাটিতে। আকাশে ওড়া সেই কিউইদের ডানা কাটল বাংলাদেশ। রুবেল হোসেন তো এমনি এমনি বলেননি ‘নিউজিল্যান্ডের সাথে খেলতে মজা লাগে।’ অস্ট্রেলিয়া যেখানে ৩৫০ ও ৩৫৯ করেও হেরেছে ভারতের কাছে সেখানে ২৬৫ ও ২৪৭ রানের অল্প পুঁজি নিয়েও পরপর দুই ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ। কৃতিত্বটা অবশ্যই বোলারদের। স্পিনের মায়াজালে সোহাগ গাজী ৩৪ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। মাশরাফি ৩ আর মমিনুল নেন ২ উইকেট।

২৫ ওভার শেষে বাংলাদেশ করেছিল ১ উইকেটে ১১০। জবাবে নিউজিল্যান্ড ইনিংসের মাঝপথে করে ৩ উইকেটে ৯২। ৩৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের ৩ উইকেটে ১৪৫-এর বিপরীতে নিউজিল্যান্ড করেছিল ৫ উইকেটে ১৩০। ৪০ ওভারে বাংলাদেশের ৬ উইকেটে ১৮৪ রানের বিপরীতে ম্যাককালামের দলের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৫৭। অর্থাৎ ৪০ ওভারেই ম্যাচের গতিপথ এঁকে দেয় বাংলাদেশের বোলাররা।

৪৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর টেলরের সাথে চতুর্থ উইকেটে ৬১ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের গলার কাঁটা হয়ে উঠছিনে অ্যান্ডারসন। ৪০ বলে ৩৭ করা এই অলরাউন্ডারকে মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মাশরাফি। এর আগে ওপেনার রাদারফোর্ডকেও বোল্ড করে ফিরিয়েছিলেন মাশরাফি। মাশরাফির আঘাতের পর ১৪ রান করা অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে এলবি করেন মমিনুল। উইকেটরক্ষক লাথাম কোন রান না করে হন রান আউট। ৮ রান করা নিশামের ক্যাচ স্কয়ার লেগে দূর্দান্ত ডাইভে নেন নাঈম। বাংলাদেশের জন্য ভয় হয়ে থাকা টেলরকে লংঅনে মাহমুদুল্লাহর ক্যাচ বানিয়ে ফেরান সোহাগ গাজী। ৮২ বলে ৪৫ করেছিলেন টেলর। নাথান ম্যাককালামের উইকেটটি নেন মমিনুল। উড়িয়ে মারতে গিয়ে ওয়াইড লংঅনে মাহমুদুল্লাহর হাতে ধরা পড়েন ২৩ বলে ২৫ করা ম্যাককালাম।

টসে জিতে শিশিরের কারণে বোলিং নেয়ার কথা বললেও মুশফিক বেছে নিয়েছিলেন ব্যাটিং। তবে প্রথম ওয়ানডের মত দ্বিতীয় ম্যাচে শিশির সেভাবে প্রভাব ফেলেনি ম্যাচে। তাই পুঁজিটা অল্প হলেও স্পিন ফাঁসে নিউজিল্যান্ডকে ঘায়েল করতে সমস্যা হয়নি বাংলাদেশের।

এর আগে শুরুটা ভালো করেও ৩৭ ওভারে ৩ উইকেটে ১৬৯ থেকে দু’ওভার পর ৬ উইকেটে ১৭৩ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ। এরপর শেষ ৩ উইকেট হারায় ৭ রানের ব্যবধানে। স্কোরটা ২৮০ হয়নি এই দুটো ধসে। অ্যান্ডারসন ৪০ রানে ৪ ও নিশাম ৫৩ রানে নেন ৪ উইকেট।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বেঁধে রাখতে অফসাইডপ্যাক করে ফিল্ডিং সাজিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। প্রথম ওয়ানডের মত স্টাম্পের বাইরে বল না রেখে স্টাম্পের উপর রাখছিলেন বোলাররাও। আর ফিল্ডাররা অন্তত ২৫টা রান বাঁচিয়ে স্কোরটা বড় হতে দেননি বাংলাদেশের। দায় আছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদেরও। শুরুটা ভালো করেও ব্যাটসম্যানরা ইনিংসটা টেনে নিয়ে যেতে না পারায় ২৮০’র পথ থেকে পা হড়কায় বাংলাদেশের।

শুরুটা ভালোই করেছিলেন তামিম ও অভিষিক্ত ওপেনার শামসুর। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন যোগ করেন ৬৩ যা এ বছরের মে’র পর ওপেনিংয়ে প্রথম ৫০ ছড়ানো জুটি বাংলাদেশের। নাথান ম্যাককালামের বলে টানা দুটি ছক্কা মারা শামসুর তৃতীয় ছক্কা মারতে গিয়ে হন স্টাম্পড। তারপরও ২৫ করায় এনামুলের বদেলে তৃতীয় ওয়ানডেতে তার থাকাটা প্রায় নিশ্চিত। তামিম ইকবাল ব্যাটে ঝড় তুলে ২৯ বলে করেছিলেন ৪০। এরপর হঠাৎ গুটিয়ে গিয়ে ৫০ পূরণ করতে খেলে ফেলেন ৭৫ বল! শেষ পর্যন্ত ৮৬ বলে ৫৮ করে অ্যান্ডারসনের বলে স্লগ শট নিতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি। এরপর মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানরা ভালো শুরু করেও টেনে নিতে পারেননি স্কোরটা। মমিনুল ৩৪ বলে ৩১,মুশফিকুর রহিম ২৮ বলে ৩১,মাহমুদুল্লাহ ২৪ বলে ২১,নাঈম ইসলাম ১৯ বলে ১৬ আর সোহাগ গাজী ফিরেন ২৪ বলে ২৬ করে। এই পাঁচ জনের কেউ ফিফটি করলেই স্কোরটা ২৮০ হতে পারত বাংলাদেশের। এই হতাশা নিয়ে ১ ওভার আগেই ২৪৭-এ গুটিয়ে যায় মুশফিকের দলের ইনিংস। বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২৪৭ নিউজিল্যান্ডের কাছে হয়ে উঠেছিল ৩৪৭-এর পাহাড়। সেই পাহাড়েই চাপা পড়ে সিরিজ হারল তারা।

Check Also

কুমিল্লার বিপক্ষে ১৫৩ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে রাজশাহী

ক্রীড়া প্রতিবেদক :– বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে রাজশাহী কিংসকে ১৫৩ রানের টার্গেট দিলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ...

Leave a Reply