উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বদলী : তিতাসে প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের মধ্যে হতাশা

নাজমুল করিম ফারুক :–

তিতাসে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামলী নবীর বদলীর খবরে প্রশাসনের সর্বত্র ও সাধারণ জনগণের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১৪ অক্টোবর মোঃ আমিনুল ইসলাম ইউএনও হিসেবে তিতাসে যোগদান করেন এবং বহু বিতর্ক সৃষ্টি করে ২০১২সালের ১৫ মার্চ বদলী হন। পুরো উপজেলার দায়িত্ব নিয়ে তিনি শুরু করেন দুর্নীতির মহোৎসব। ভূয়া তালিকা প্রস্তুত করে প্রকাশ্যে হাতিয়ে নেন ৪০ দিনের কর্মসূচির টাকা, টিআর কাবিখা থেকে ভাগভাটোয়ারা, বিভিন্ন দিবস উদযাপন না করে হাতিয়ে নেন দিবসের খরচ, একটি বাড়ী একটি খামারের টাকাও বাদ পড়েনি ঐ কর্মকর্তার আত্মসাৎ থেকে। শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণের চাপের মুখে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা আত্মসাতের পর ফেরত দিতে বাধ্য হন। উৎকোচ না দেওয়ায় কোন কোন বিভাগীয় কর্মকর্তাকে উপজেলা কমপ্লেক্স থেকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়ার হুমকিরও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে বিভিন্ন স্থানে স্থাপনা ভাংচুর ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে হুমকি দেওয়ার। অনেক বিতর্কের জন্ম দেয়া ইউএনও আমিনুল ইসলাম বদলী হওয়ায় তিতাসের প্রশাসনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। এরপর ২০১২ সালের ১৯ মার্চ মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন যোগদান করে ক্ষত-বিক্ষত তিতাসকে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু করেন। প্রকৃতি প্রিয় এ কর্মকর্তা সকলের সাথে সৌজন্যবোধ বজায় রেখে জয় করতে থাকেন সাধারণ মানুষের মন। কিন্তু বিধি বাম, মাত্র ৫ মাস তিতাসবাসীকে সেবা দেওয়ার পর উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য ২০১২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বদলী হয়ে যান। হতাশা আর উৎকন্ঠা ভর করে সর্বত্র। এরপর ২০১২ সালের ৮ অক্টোবর তিতাস উপজেলার হাল ধরেন ইউএনও বেগম শ্যামলী নবী। হাস্যোজ্জ্বল, সদালাপি, কর্মঠ শ্যামলী নবী ইতোমধ্যে উপজেলা পরিষদে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে কর্মচারীর পাশাপাশি তিতাসবাসীর মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। শ্যামলী নবীর আচার ব্যবহার কথা-বার্তায় অনেকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন নিশ্চিন্তে। পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করেছেন দিনের পর দিন। কিন্তু শ্যামলী নবীর বদলীর খবর সবকিছুকে ওলটপালট করে দিচ্ছে। বদলী হওয়ার খবরে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সকল দপ্তর থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাধারণ জনগণের এখন একটাই প্রশ্ন সাজানো বাগানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে; নাকি সেবা দেওয়ার নামে তিতাসবাসীর উপর চলবে সেই খড়গ?

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply