অপরুপ সৌন্দর্য্যরে লীলাভুমি রাণী ময়নামতির প্রাসাদ : কর্তৃপক্ষের বিশেষ তদারকী প্রয়োজন

সৈয়দ আহাম্মদ লাভলুঃ–

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পূর্ব পাশে অপরূপ সৌন্দয্যের লীলাভুমি রাণী ময়নামতি প্রাসাদ। বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি সাহেবের বাজার এলাকায় প্রাসাদটির অবস্থান। কর্তৃপক্ষের বিশেষ তদারকি না থাকায় ধীরে ধীরে সৌন্দর্য হারাতে বসেছে রানী ময়নামতির প্রাসাদটি। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, হাজার বছর পূর্বে এ এলাকায় এক রাজার বসবাস ছিল। তার রাণীর নাম ছিল ময়নামতি। তৎকালীন সময়ে রাণী ময়নামতির আরাম আয়েশের বাংলো ছিল এটি। রাণী ময়নামতির নামে এলাকার নামকরন করা হয় ময়নামতি। প্রাসাদের চুড়ায় অবস্থিত সাইনবোর্ডে লিখিত বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রাসাদটি লালমাই-ময়নামতির উত্তর প্রান্তে বিচ্ছিন্ন একটি পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থিত। সমতল ভুমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ১৫.২৪ মিটার। স্থানীয়ভাবে এটি রাণী ময়নামতি প্রাসাদ নামে পরিচিত। প্রথম নির্মাণ যুগে একটি ক্রশাকার মন্দির ছিল। পরবর্তিতে ক্রশাকার মন্দিরকে পরিত্যাক্ত করে ২য়, ৩য় ও ৪র্থ নির্মান যুগে ক্রমান্বয়ে ছোট আকারের পূর্বমুখী আয়তকার মন্দির নির্মান করা হয়। ১৯৮৮ সালে এখানে খনন কাজ শুরু করা হয়। ফলে একটি বৌদ্ধ মন্দিরের ৪ টি নির্মান যুগের স্থাপত্য কাঠামো উম্মোচিত হয়। খননের সময় এখান থেকে বেশ কিছু পোড়ামাটির ফলক ও অলংকৃত ইট আবিস্কৃত হয়েছে। স্থাপতিক বৈশিষ্ট্য ও প্রতত্ত সম্পদের বিশ্লেষণে এটি ৮ম থেকে ১২শ শতকের প্রাচীন কীর্তি বলে ধারনা করা হয়। এখানে বছরের পর বছর ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের লোকনাথ পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতি ৭ বৈশাখ থেকে মাসব্যাপী বড় পরিসরে বৈশাখী মেলার আয়োজন করে। এছাড়া এ ঐতিহ্যবাহী স্থানটি দেখতে দুর-দুরান্ত থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী প্রতিদিন ভীর জমায়। পরিচর্যা করার কেউ না থাকায় স্থানটিতে অবাধে গরু-ছাগল বিচরণ করে। পরিণত হয়েছে বখাটেদের আড্ডার স্থান হিসাবে। অযত্নে অবহেলার কারণে দিন দিন এটি সৌন্দর্য হারাচ্ছে। দর্শনার্থীদের দাবী, রাণী ময়নামতির বাংলোটি সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সু-দৃষ্টি দেবেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply