নাসিরনগরে আশার শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা লেখাপড়া শিখছে

আকতার হোসেন ভুইয়া,নাসিরনগর :–
উপজেলায় শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ১ম ও ২য় শ্রেনী শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ,পাঠ আয়ত্ব করতে সহায়তা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশার প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার ১৫টি শিক্ষা কেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালিত করছে। এ এলাকার সুবিধা বঞ্চিত ও বিদ্যালয় বর্হিভূত শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। আশার আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানায়, নাসিরনগর ব্রাঞ্চ অফিসের আওতায় প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ১৫টি গ্রামে শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পাচঁশতাধিক শিশুকে পড়ানো হচ্ছে। প্রতিটি শিক্ষা কেন্দ্রে শিশু শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০-৩৫ জন। এরা ১ম ও ২য় শ্রেনী শিক্ষার্থী । তাদের জন্য প্রতি কেন্দ্রে রয়েছে একজন করে সেবিকা। কেন্দ্র পরির্দশনে রয়েছে একজন সুপারভাইজার । আঞ্চলিক কার্যালয়ে প্রতিমাসে উপজেলার ১৫টি শিক্ষা কেন্দ্রে কর্মরত সুপারভাইজার ও সেবিকাদের কর্মশালা অনুষ্টিত হয়। আশার তহবিল থেকে শিক্ষা সুপারভাইজারকে ৫৫০০ টাকা ও সেবিকাদেরকে ৬০০ টাকা সম্মানীভাতা দেয়া হয়। আর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০ টাকা হারে যা পেয়ে থাকে তাও সেবিকাদের সম্মানী ভাতা হিসাবে দেয়া হয়। সরেজমিন পরির্দশনে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুবান্ধব পরিবেশে পড়ালেখা করছে। প্রতিটি শিক্ষা কেন্দ্রেই শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হারও সন্তোষজনক।
আশার আঞ্চলিক বব্যস্থাপক মোঃ ইসমাইল হোসেন জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের বাড়িতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা নির্দেশনা ও সহায়তা প্রদানের জন্য সক্ষম সাধারণতঃ কেউ নেই। কারণ অধিকাংশ পিতা-মাতাই নিরক্ষর কিংবা পযার্প্ত সময়ের অভাব অথবা সারাদিনের পরিশ্রমের পর শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির ফলে তারা তাদের সন্তানদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা সহায়তা দিতে পারছে না। অপরদিকে আর্থিক অসামর্থের কারণে গৃহ শিক্ষক নিয়োগ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এর ফলশ্রুতিতে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে গিয়ে নিজেদের পাঠদান উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয় এবং শিক্ষকের দ্বারা তিরস্কৃত ও অন্যান্য সহপাঠীদের চোখে হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়। এভাবে এক পর্যায়ে স্কুলে যাওয়া থেকে বিরত থাকে ও শিক্ষাজীবনের ইতি টানে। তাই প্রাথমিক পযার্য়ে অধ্যায়নরত এই নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর ছাত্রছাত্রিদের এভাবে ঝরে পড়া হ্রাস করা যেতে পারে যদি তাদেরকে পড়া আয়ত্ব করার জন্যে বাড়িতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সহায়তা প্রদান করা যায়। এ প্রেক্ষাপটে এই বিশেষ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষা সহায়তা প্রদানের প্রযোজনীয়তা অনুভূত হওয়ায় “বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আশা ” এতে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝরে পড়া ছাত্রছাত্রিদের সংখ্যা হ্রাস করে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতেই আশা এ কমসূচীর্ গ্রহণ করেছে। এর ধারাবাহিকতায় নাসিরনগর উপজেলায় ১৫ টি শিক্ষা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। আশার শাখা কার্যালয়ের অর্ন্তভূক্ত মহলায় সর্বোচ্চ ৩০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ১ জন সেবিকার মাধ্যমে একটি পাঠদান কেন্দ্র গঠিত হয়। বিদ্যালয়ের পাঠ্যবই অনুসরণ করে সকালে অথবা বিকালে (শিক্ষার্থীদের স্কুলের সময়ের সাথে সংগতি রেখে) মোট ২ ঘন্টা পাঠদান করানো হচ্ছে।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply