১৫ বছর পর…..

—-নাজমুল করিম ফারুক

ইদানিং সময়টা খুব ভালোই যাচ্ছে। তা না হলে কি গত কয়েক দিন যাবৎ তাঁকে দেখবো দেখবো করে দেখার সময় করে উঠতে পারি না। আমার একটা বদ অভ্যাস আছে। যখন বিষণœতা মনের ঘরে উঁকি মারে তখন কাছের বা দূরের কোন প্রিয়জনের সান্নিধ্য পেতে ইচ্ছে করে। হয়তো তখন কারো কাছে ছুটে যাই বা দেহের সাথে জড়িয়ে থাকা মোবাইল ফোনটা নিয়ে নিজের ভেতরে ঘুমরে থাকা বিষণœতাকে দূর করতে চেষ্টা করি। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে কেন যেন বিষণœতাকে আমি জয় করতে পেরেছি তাই দেহের আবরনে না হোক মনের পর্দায় আঘাত করতে পারেনি কষ্ট-যন্ত্রণা নামের কীটপতঙ্গগুলো।
দু’চোখের সামনে হেঁসে-খেলে উড়িয়ে থাকা অসংখ্য ধুলিকণাকে পেছনে ফেলে ২৩ আগষ্ট ছুটে গেলাম তাঁর কাছে, খুব কাছে, একধুম কাছাকাছি। এক পা, দু’পা করে একটা সিঁড়ির পর একটা সিঁড়িকে নিচে রেখে ক্ষণিকের জন্য তাঁকে আবিস্কার করলাম। তবে সামনের দরজা দিয়ে নয়; পেছনের দরজা দিয়ে।
বন্ধুর খাতিলে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা যায়। কিন্তু শাসনের সারিতে যারা বসে আছে তাদেরকে তো শাসনেই মানায়। অনাকাঙ্খিত ইচ্ছাটা একটু নাঁড়া দিয়ে উঠলো। নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমার ডান হাতটি একটু বেয়াদবি করেই শান্ত হলো। তোমার নিজের অবস্থান থেকে যখন তুমি ওঠে দাঁড়ালে ঠিক তখন আমার মাথাটা তোমাকে কর্নিশ করেছে। যা চিরদিন তোমার অজান্তেই থেকে যাবে। আমি যে বন্ধু প্রিয়, যারা আমাকে ভালবেসে আদর-স্নেহ, মায়া-মমতা, শ্রদ্ধা-ভক্তি করে তাদের সান্নিধ্য যে সব সময় আমাকে কাছে টানে তাই অনুপ্রবেশের দ্বার বন্ধ করে তোমার স্থান ত্যাগ করতেই হলো। কারণ তখন তুমি পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ আহরনে বিবর ছিলে।
আমি অবাক হই সহস্র কোটি রক্তের কণিকা দেহের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় খেলা করার দৃশ্য অনুভব করে। আমি অবাক হই টিপটিপ করে রক্তের ফোঁটা দেহ থেকে ঝরে পড়তে দেখে। আমি অবাক হই শান্ত সাগরে অশান্ত ঢেউ দেখে। শ্রদ্বেয় বড় ভাই; বন্ধু সমতুল্য, স্বজনের সাথে যখন আলাপচারিতায় মগ্ন। সকলের অজান্তে হিসাব কর্ষে নিলাম। এক এক করে ১৫ বছর। সেই ছোট্ট চারাটি আজ ১৫ বছরে কত বড় বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। সত্যিই দ্বিতীয়বারের মতো অবাক হলাম তোমাকে দেখে। মনে পড়লো ১৫ বছর আগে তোমার দাদার অপ্রিয় বাণী। কিন্তু সময়ের তালে তালে যখন সময় নেচে যাচ্ছে তখন আমার মনের আকাশে ঘন মেঘের ঘনঘটা উদয় হচ্ছে। হিমেল হাওয়ার মাঝে উড়ে বেড়ানো বিষণœতা আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। হাজার রঙে রাঙানো আমার রঙিন মনটা বিষণœতার শাসকষ্টে ভোগতে শুরু করে। মুহুর্তের মধ্যে কল্পনার অলিগলি রুক্ষ হয়ে যায়। একটা কথা বলি শোন, বিশ্বাসে বিশ্বাসে বিশ্বাস মেলায়, অবিশ্বাসে বিচ্ছেদ। বিচ্ছেদের লোনাজলে সাঁতার কেটেছি, জলতরঙ্গের নৃত্যে মাতাল হয়েছি, কষ্টেরা মাতলামি করেছে, আঘাত দিয়েছে প্রতিঘাত সৃষ্টি করিনি, বিশ্বাসের ঘরে অবিশ্বাসের আগুন জ্বালিয়েছে নিভাতে যাইনি। উঁচু পাহাড়ের চূড়া থেকে ঘরিয়ে পড়া পানি যেমন মুহুর্তে ঝরনা হয়ে যায়, তেমনি দু’চোখের জলরাশি শৈত প্রবাহের মতো শূন্যে মিশে যায়। কিন্তু দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়নি। আজও হবো না। তোমার সেক্টরের মাঠ পর্যায়ে প্রায় ৩৩৭ জন সহকর্মী সকলেই আমার পরিচিত। আমাকে চেনে, জানে। যারা আমাকে ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে শ্রদ্ধা-ভক্তি বা শাসন করতে অভ্যাস্ত না তারাও সমাজে মানবতা প্রতিষ্ঠার লক্ষে, মানুুষ গড়ার কারিগর হিসেবে সৌজন্যবোধ স্বরূপ কুশল বিনিময় করে। তুমিই একজন, ব্যতিক্রম, ভিন্নধর্মী। জানি না এটা তোমার অভ্যাস না হিংসা নাকি অহংকার। মনে রেখ, বাস্তবতা বড় কঠিন। হিংসা-অহংকার মানুষকে ধ্বংস করে।
আমি আমার এই নিজেকে বুঝাতে পারলেও আমার ভেতরে যে আমিত্ব বাস করে তাকে বুঝাতে পারি না। সে খুব দুরন্ত, দুর্বার। সর্বক্ষণ মনের সাথে যুদ্ধ করে জিতেই চলেছে। সেই আমিত্বই আবার তোমার কাছে টেনে নিলো। নিজ দায়িত্বের প্রতি মনোনিবেশ দেখে মনের ক্লান্তিরা দৌড়ে পালালো। প্রফুল্ল চিত্তে একান্ত অনুভবে খুব কাছ থেকে তোমার দেহের সুবাস মাখা হিমেল হাওয়ার পরশ নিয়ে জীবন বৃত্তান্তের আড়ালে নিজের পরিচয়টা আড়াল করে স্বার্থপরের মতো ফিরে আসাটাও ছিল আমিত্বের কাজ। তাই তো তাকে বুঝতে পারি না। সে প্রতিনিয়ত আমাকে হাঁসায়, কাঁদায়, গহিন অরণ্যে কি-বা গভীর সমুদ্রে নিয়ে যায়।

=============================
নাজমুল করিম ফারুক
সাধারণ সম্পাদক- তিতাস উপজেলা প্রেসক্লাব
কড়িকান্দি বাজার, তিতাস, কুমিল্লা-৩৫১৭।
ই-মেইল : nazmulkf09@yahoo.com
মোবাইল : ০১৮১৮-০০৪২৭২

Check Also

মাদকসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারকেই জোরালো ভূমিকা নিতে হবে

—-মো. আলীআশরাফ খান লেখার শিরোনাম দেখে হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেন, কেনো লেখাটির এমন শিরোনাম দেয়া ...

Leave a Reply