চান্দিনায় বাজার ভিটিতে গরুর হাট! অর্ধশত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কর্মহীন

মাসুমুর রহমান মাসুদ, চান্দিনা :–
চান্দিনা পৌরসভার প্রাণ কন্দ্রের একমাত্র বাজারের বাজার ভিটিতে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী উচ্ছেদ করে অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে গরুর হাট। ওই ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে তারা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা। অপরদিকে দিনের পর দিন ওই গরু বাজার সম্প্রসারিত হয়ে এখন যান চলাচলের একমাত্র রাস্তার উপরে উঠে আসছে। এতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে।
প্রাচীন কালে বরকামতা বাজার নামে পরিচিত ছিল চান্দিনা বাজার। স্বাধীনতার পূর্ব হইতে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত চান্দিনা পূর্ব বাজারে প্রতি সপ্তাহে গরুর হাট বসত। তার পরিবর্তী সময় হইতে ২০০৫ সাল পর্যন্ত একটানা বন্ধ ছিল ওই গরুর হাট। বিভিন্ন কাগজপত্রে এবং ২০০৫ সালে ভূমি জরীপে ওই বাজারের খাস ভূমির ৩১শতক ২৫ পয়েন্ট গরু বাজারের শ্রেণী ভূক্ত করা রয়েছে। ওই গরু বাজার শ্রেণী ভূক্ত ভূমির পাশেই বাজার শ্রেণী ভূক্ত রয়েছে ৬৮ শতক ৬৮ পয়েন্ট ভূমি। ওই খাস ভূমিতে চান্দিনা ও দেবিদ্বার উপজেলার প্রায় অর্ধশত ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী ব্যবসা করে সংসার চালিয়ে আসছিল।
১৯৯৭সালে চান্দিনা উপজেলার পশ্চিম চান্দিনা ইউনিয়নটি পৌরসভায় রূপান্তর হওয়ার পরও পৌর এলাকা থেকে ওই গরু বাজারের শ্রেণী পরিবর্তন করা হয়নি। কতিপয় স্বার্থান্বেসী মহল ২০০৭ সাল থেকে চান্দিনা বাজারের শ্রেণী ভূক্ত গরু বাজারে সাপ্তাহিক গরুর হাট গড়ে তুলতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ঈদ-উল আযহা উপলক্ষ্যে গরু বাজার সম্প্রসারিত করতে পাশে থাকা বাজার ভিটি শ্রেণী ভূক্ত ৬৮ শতক ৬৮ পয়েন্টে ব্যবসা করা প্রায় অর্ধশত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে প্রভাবশালী মহল।
ওই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০৭ সালের ১০জুন ভূমি মন্ত্রণালয় তাদের পূণর্বাসন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্ত স্থানীয় প্রশাসন ওই ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট স্থানে না দিয়ে তরকারী বাজারে তাদের পূর্ণবাসন করেন। যাতে কাপড় ব্যবসা করার কোন পরিবেশ নেই। যারফলে ৩৬ জন ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে তাদের ব্যবসা ছেড়ে বেকার হয়ে পড়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
এদিকে ২০০৭ সালের পর থেকে চান্দিনা পৌরসভা ৩১শতক ২৫ পয়েন্ট ছাড়াও বাজার ভিটি শ্রেণী ভূক্ত ভূমি প্রতি বছর অবৈধ ভাবে গরু বাজার হিসেবে লীজ প্রদান করছে। আর ইজারাদাররা শ্রেণী ভূক্ত গরু বাজার সীমানা ছাড়াও বাজার ভিটি অতিক্রম করে এখন পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ট্রাংক রোড ও বাজারের বিভিন্ন অলিগলি দখল করে নিয়েছে। তাতে লাভবান হচ্ছে হাতে গোনা ২/৪জন ব্যক্তি।
অপরদিকে বেকার থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুড়েও কোন সুফল পাচ্ছে না।
একাধিক ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ ব্যবসায়ী বাজার ভিটি শ্রেণী ভূক্ত ভূমি একসনা বন্দোবস্তের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, ভূমি মন্ত্রণালয়, স্বরাস্ব মন্ত্রণালয়সহ রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিত আবেদন করেছি। বিভিন্ন দপ্তর থেকে আমাদেরকে বন্দোবস্ত দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করলেও অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন আজও গরু বাজার উচ্ছেদ করছে না। আমরাও ব্যবসা করতে পারছি না। যারফলে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে অসহায় অনাহারে-অর্ধাহারে জীবন-যাপন করছি’।
অপর ব্যবসায়ী রবীন্দ্র কর জানান, ‘চান্দিনা পৌরসভার একমাত্র বাজারে প্রতি সপ্তাহে দুই দিন গরুর হাট গড়ে তোলার কারণে বাজারের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং গরুর হাটের দিন বাজারে মানুষ ও যানবাহন প্রবেশ করতে ভীষণ অসুবিধা হচ্ছে। এতো অসুবিধার পরও কেন চান্দিনা বাজারের প্রাণ কেন্দ্র থেকে গরুর হাট উচ্ছেদ করা হচ্ছে না? প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কি প্রশাসন থেকেও বেশি ক্ষমতাসীন’?
গরু বাজার ইজারাদার নাছির খান জানান, ‘বাজারের যতটুকু গরু বাজারের দখল আছে আমি পৌরসভা থেকে ততটুকুই ইজারা নিয়েছি। কাগজপত্রে কতটুকু আছে তা আমার জানা নেই’।
এব্যাপারে চান্দিনা পৌর মেয়র শাহ্ মো. আলমগীর খান জানান, ‘১৯৯৯ইং সালে উপজেলা ভূমি অফিস পৌরসভাকে এক একর ৩৭শতক ২৫ পয়েন্ট গরু বাজার পৌরসভাকে হস্তান্তর করেন। আমরা সেই মোতাবেক গরু বাজার ইজারা প্রদান করি। পরবর্তীতে উপজেলা ভূমি অফিস কিভাবে জড়িপ করেছে তা আমাদের জানা নেই’।
চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ জানান, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব’।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply