ব্রাহ্মণপাড়ার দুই রেলষ্টেশন দিয়ে ট্রেনে করে পাচার হচ্ছে ভারতীয় পন্য

সৈয়দ আহাম্মদ লাভলুঃ—

কুমিল্লার সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুই রেলষ্টেশন দিয়ে বিভিন্ন ট্রেনে করে প্রতিদিন ভারতীয় পন্য পাচার হচ্ছে। চোরাকারবারীরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের লাইনম্যানদের হাতে নির্ধারিত টাকা দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিশ্চিন্তে পন্য নিয়ে পৌছে যাচ্ছেন। এতে করে ট্রেনের যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিন ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ঢাকা-চট্রগ্রাম রেলপথে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় শশীদল ও সালদানদী নামে দুটি রেলষ্টেশন রয়েছে। স্টেশনগুলোতে যাত্রাবিরতী করা মেইল ট্রেন গুলো দিয়ে প্রতিদিন চোরাকারবারীরা ভারতীয় পন্য পাচার করে থাকে। ষ্টেশনগুলোতে প্রশাসনের কথিত লাইনম্যান থাকে। তাদের কাছে চোরাকারবারীরা নির্ধারিত টাকা দিয়ে ভারতীয় পন্য নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে পৌছে যায়। চোরাকারবারীরা ভারতীয় জিরা, কিচমিচ, দুধ, এলাচি বস্থায় করে ট্রেনে উঠায়। প্রতিদিন দুই ষ্টেশন থেকে এক থেকে দেড়শত বস্থা ভারতীয় পন্য ট্রেনে করে পাচার হয়। বিজিবি সদস্যরা শশীদল রেলষ্টেশনে দায়িত্ব পালন করলেও তাদের সামনে দিয়ে চোরাকারবারীরা পন্য উঠায়। গত কিছুদিন যাবৎ শশীদল রেলষ্টেশন ও সালদানদী রেলষ্টেশনে সরেজমিন বস্তায় করে ট্রেনে চোরাইপন্য উঠার দৃশ্য দেখা গেছে। অথচ ষ্টেশন দুটির সন্নিকটে দুটি বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ি রয়েছে।
রোজিনা আক্তার নামে এক যাত্রী ঢাকাগামী কর্নফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযোগ করে বলেন, চোরাকারবারীরা ভারতীয় পণ্যের বস্তা সিটের নিচে রাখার সময় আমার পায়ের উপর ফেলে। কিছু বলতে গেলে হুমকী দেয়। মনে হয় ট্রেনটি চোরাকারবারীদের দখলে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলেনা।
শশীদল রেলষ্টেশনের রেলওয়ের এক কর্মচারি নাম প্রকাশ না করে বলেন, সবার চোখের সামনে দিয়ে প্রতিদিন ট্রেনে করে চোরাই পন্য পাচার হয়। ট্রেনগুলোতে জিআরপি টহলদল থাকে। প্রশাসন সুযোগ না দিলে কখনও প্রকাশ্যে এভাবে মালামাল পাচার সম্ভব হতো না। যাত্রীরা অনেক সময় এসব বিষয়ে অভিযোগ করলেও আমাদের করার কিছ্ইু নেই।
বিজিবির ১০ ব্যাটালিয়নের কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার আবদুস ছালাম বলেন, চোরাচালান পন্য প্রতিরোধে আমরা তৎপর আছি। খবর পেলেই অভিযান চালিয়ে চোরাই পন্য উদ্ধার করি। তিনি বলেন, ট্রেনে চোরাই পন্য একবারেই উঠে না এমনটা বলব না আর বিজিবির সকল সদস্য সমান দায়িত্ব পালন করে এমনটাও নয়। তবে আমরা চোরাচালান প্রতিরোধে সর্বোত্তম চেষ্টা করে যাচ্ছি।
সীমান্তবর্তী শশীদল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময় স্থানীয় বিজিবি ও পুলিশকে চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে ভ’মিকা নেওয়ার জন্য বলা হলেও তাদের কিছু অবহেলা লক্ষ্য করা যায়। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে আরোও কঠোর হতে হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...