আতঙ্কে উৎকন্ঠে মালয়েশিয়া অবৈধ অভিবাসী

এম.আমজাদ চৌধুরী রুনু,মালয়েশিয়া থেকে :–

আতঙ্কে উৎকন্ঠে মধ্যে আছে বাংলাদেশী সহ ইন্দোনেসিয়া নেপাল মায়ারমার ভিয়েতনাম পাকিস্তানের অবৈধ অভিবাসী কারণ স্মরণ কালের এ বৃহওর অভিযানের নাম দেয়া হয়েছে (অপারেশন ৬পি) । বিষেশ সূএে জানা গেছে প্রায় ৫লহ্ম অবৈধ অভিবাসীকে তিন মাসের মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে বিতারীত করার লহ্মে এ অভিযান শুরু করেছে। উল্লেখ্য আছে যে মালয়েশিয়া সবচেয়ে বেশী অবৈধ অভিবাসী হল পার্শবর্তি দেশ ইন্দোনেশিয়া এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ । এ সম্পর্কে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ হাই কমিশনের লেবার কাউন্সিলর মন্টু কুমার বিশ্বাস জানান আমাদের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৩০হাজার অবৈধ শ্রমিক আছে মালয়েশিয়ায় যারা বিভিন্ন দালালদের মাধ্যমে প্রতারীত হয়ে অবৈধ হয়েছেন । তবে প্রকৃত পহ্মে বাংলাদেশের অবৈধ অভিবাসী আছে প্রায় ২লহ্ম । এর বেশীর ভাগ এসেছে দ্রমন ভিষা নিয়ে দ্রমন করতে এসে তারা আার ফেরত যায়নি ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার আবুল কাসেম ও চট্রগ্রামের করিম এ প্রতিবেদককে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই দেশের সিন্ডিকেটের সাহায্যে এমন দিন নেই যেদিন শতাধিক নামধারী শ্রমিক বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় আসছেন না। তিনি বলেন, দুই দেশের ইমিগ্রেশন কন্ট্রাক্ট করে গ্রামের অসহায় যুবকদের কাছ থেকে দুই-আড়াই লাখ টাকা নিয়ে ট্যুরিস্ট ও স্টুডেন্ট ভিসায় পাঠিয়ে দিচ্ছে। এখন যারা ধরা পড়ছে তাদের বেশির ভাগই ট্যুরিস্ট ও স্টুডেন্ট ভিসায় আসা লোক। তিনি বলেন মালয়েশিয়ায় গত রোববার থেকে ধরপাকড় অভিযানে আসলে কী পরিমাণ বাংলাদেশী ধরা পড়েছেন তার সঠিক পরিসংখ্যান কেউ বলতে পারবে না। তবে অভিযান শুরু হওয়ার একদিন আগেই বিষয়টি জানাজানি হলে হাজার হাজার বাংলাদেশী কাজকর্ম বাদ দিয়ে কুয়ালালামপুর ছেড়ে গ্রাম, বন- জঙ্গলে চলে যান। তবে এবার যে অভিযান শুরু হয়েছে এতে রেস্টুরেন্ট, বাসাবাড়ি, গাড়ি, ট্রেন, বাস, পাহাড়, বন-জঙ্গল কোথাও বাদ পড়বে না। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মালয়েশিয়ায় গত এক বছরে ট্যুরিস্ট ও স্টুডেন্ট ভিসার নামে কমপক্ষে লক্ষাধিক বাংলাদেশী প্রবেশ করে। এর মধ্যে ২০-৩০ হাজার ট্যুরিস্টকে মালয়েশিয়া বিমানবন্দর থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে দুই লাখ অবৈধ বাংলাদেশী মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে বৈধ হতে না পারা অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিকও রয়েছেন। যারা বৈধভাবে দেশ থেকে এ দেশে এসেছিলেন। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন শাহজালালআন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তাদের সামনে দিয়ে ট্যুরিস্ট নামধারী ব্যক্তিরা মালয়েশিয়া পাড়ি জমাচ্ছেন। মালয়েশিয়া বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন
প্রতিদিন বিমান, ইউনাইটেড, রিজেন্ট, মালয়েশিয়ায় এয়ারলাইন্সে যাওয়া যাত্রীদের অফলোডকরে সন্দেহজনক যাত্রীদের ফিরতি ফাইটে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। গত রোববার রাতেও তিন ফাইটে অর্ধশতাধিক
যাত্রীকে ফেরত পাঠায় মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন। আর এসব ঘটনারসাথে একশ্রেণীর রিক্রুটিং ও ট্র্যাভেলএজেন্সির বেশ কিছু সিন্ডিকেট তৎপর থাকলেও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গঠিত টাস্কফোর্স অদ্যাবধি ওই চক্রেরকাউকে ধরতে পারেনি।

এ দিকে গত রোববার থেকে অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছে বলে জানিয়েছে সেদেশের গণমাধ্যম। তবে আটক অভিবাসীদের মধ্যে ঠিক কতোজন বাংলাদেশি, তা নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ। মালয়েশিয়ার দ্য স্টার ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়, যাদেও আটক করা হয়েছে অধিকাংশই বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার ও নেপাল থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী। ওয়ার্ক পারমিট বা যথাযথ কাগজপত্র না থাকায় এবং মেয়াদপূর্তির পরও দেশটিতে অবস্থান করায় কুয়ালালামপুর বাংলা মার্কেট, বুকিত বিনতাং, আমপাং, সৃংগাই বুলু, কেলানাজয়া, সুবাংজয়া, বুকিত রাজা, ক্লাং ও দেংকিল, ও জহুরবারু, পিনাং, এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয় বলে দ্য স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মালয়েশিয়ার অভিবাসন দপ্তর, পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স, জাতীয় নিবন্ধন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রায় এক লাখ ৩৫ হাজার সদস্য এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো শ্রমিককে তারা দেশে থাকতে দেবে না। এর অংশ হিসাবেই এই অভিযান শুরু হয়েছে।বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বর্তমানে মালয়শিয়ায় কাজ করছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই সম্প্রতি মালয়েশিয়া সরকারের দেয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে বৈধ অভিবাসী হয়েছেন। মালয়েশিয়ার অভিবাসন দপ্তর বলছে, গত রোববার থেকে যাদের আটক করা হবে, তাদের বৈধ কাগজ দেখানোর জন্য ১৪ দিন সময় দেয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না পারলে তাদের পাঠানো হবে ডিটেনশন সেন্টারে। আর এখানে বন্দি হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশে ফেরত পাঠাতে কোনো সহায়তা করতে পারবে না আটক নাগরিকের নিজ দেশের হাইকমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে চাঁদপুরের শাহাদাত হোসেন আমাদের প্রতিনিধি কে ফোন করে জানান মালয়েশিয়ার সেরাম্ভান প্রদেশে আতঙ্কে এক অবৈধ বাংলাদেশী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এই শ্রমিক দীর্ঘ ৫বছর যাবত মালয়েশিয়ায় অবৈধ ভাবে অবস্থান করছে। ২০১১সালের পারমিটের সুযোগ পেয়েও দালালের খপ্পড়ে পরে সর্বশান্ত হয়। দেশে যাওয়ার কোন সুযাগ না পাওয়ায় আবার বৈধতা পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করে। কিন্তু ভাগ্যের করুণ পরিনতির স্বীকার হয় নিপু রায়। বাংলাদেশে তার গ্রামের বাড়ী- কুমিল্লা লাকশাম থানার জাওরা গ্রামের বাসিন্দা, তার পিতার নাম- জগেশ্বর রায়, মৃত্যু কালে নিপু রায়ের বয়স ৫২বছর। নিপু রায়ের বৈধ কাগজ পত্র না থাকায় দিনের বেলায় এদিক সেদিক কাজ করে থাকে। মালয়েশিয়ার সরকার কর্তৃক ঘোষিত গত ২সেপ্টেম্বর অবৈধ শ্রমিক গ্রেপ্তার অভিযানে পুলিশ যখন নিপু রায় এর বাসা যায় তখন নিপু রায় আতঙ্কিত হয়ে হৃদযন্ত্রেও ক্রিয়া বন্ধ হয়ে সাথে সাথে মৃত্যু বরণ করে। পুলিশ তার লাশ সেরাম্বান সরকারি হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যায়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply