কোম্পানীগঞ্জ জনতা ব্যাংক থেকে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে আটক দু’জনের বিরুদ্ধে ১৫ দিনেও ব্যবস্থা নেয়নি

হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর :–
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কোম্পানীগঞ্জ বাজারে অবস্থিত জনতা ব্যাংকের শাখার ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন তালুকদারের যোগসাজসে একটি প্রভাবশালী জালিয়াত চক্র কর্তৃক গোপন কোড নাম্বার ব্যবহার করে করে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার গুরতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ দুই জনকে আটক করলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনীহা প্রকাশ করায় গত ১৫ দিনেও রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকার সর্বমহলে তোলপাড় চলছে।
জানা যায়, সারা দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের মতো জনতা ব্যাংক লিমিটেড কোম্পানীগঞ্জ শাখায়ও প্রবাসীরা রেমিটেন্সের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে থাকেন। উক্ত টাকা প্রবাসীর আত্মীয়-স্বজনরা গোপন কোড নাম্বার ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে তুলে থাকেন। কিন্তু জনতা ব্যাংক লিমিটেড কোম্পানীগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন তালুকদারের যোগসাজসে একটি প্রতরক ও জালিয়াত চক্র গোপন কোড নাম্বার জালিয়াতি করে একের পর এক বেশ কয়েক দফায় ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা টাকা হাতিয়ে নেয়। উক্ত টাকার হিসাব মিলাতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গত প্রায় এক মাস যাবত মহাব্যাস্ত। গত ২১ আগষ্ট বুধবার উক্ত জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা অন্যান্য বারের মতো পুনরায় গোপন কোড নাম্বার জালিয়াতি করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তেলন করতে জনতা ব্যাংকে গেলে কয়েকজন গ্রাহক তাদের চ্যালেঞ্জ করে। তখন ঘটনাটি প্রথমিক ভাবে প্রমানীত হলে জালিয়াতি চক্রের সদস্য পাশ্ববর্তী দেবিদ্বার উপজেলার ভিংলাবাড়ি গ্রামের মৃত হালিম ভুইয়ার ছেলে সৈকত হোসেন জনি (২০) ও আব্দুর রহিম মাষ্টারের ছেলে সাগর মিয়াকে (২২) উত্তেজিত জনতা উত্তম-মাধ্যম দিয়ে আটকে রাখে। তখন মুরাদনগর থানায় খবর দিলে এসআই মিনহাজ মাহমুদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ কোম্পানীগঞ্জ জনতা ব্যাংকে গিয়ে জালিয়াত চক্রের আটক দুই সদস্যকে ধৃত করে। কিন্তুু এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটলেও জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কিংবা কোন ভূক্তভোগী গ্রাহক রহস্যজনক কারনে থানায় অভিযোগ না করায় বাধ্য হয়ে পুলিশ গত ২৪ আগষ্ট শনিবার আটককৃত জালিয়াত চক্রের দু’সদস্যকে ৩ দিন পর মাত্র ৫৪ ধারায় কোর্ট-হাজতে প্রেরণ করে। ঘটনাটি টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়। এ দিকে জনতা ব্যাংক লিমিটেডের হাজার হাজার প্রবাসী ও ব্যাবসায়ী গ্রাহকদের মাঝে ভীতির কারনে ব্যাংকে লেন-দেনের প্রভাব পড়েছে। উক্ত ঘটনায় জড়িত জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যাবস্থা না নেয়ায় আরো রড় ধরণের অঘটনের আশংকায় গ্রাহকরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে অনেকে মনে করছেন। উক্ত ঘটনার পর থেকে জনতা ব্যাংক লিমিটেড কোম্পানীগঞ্জ শাখায় ও মুরাদনগর থানায় ২/৩ দিন দফায় দফায় বৈঠক করে জালিয়াত চক্রের হাতিয়ে নেয়া ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও রফা-দফাকারী সালীশদারদের ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা সাপেক্ষে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয় বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে জনতা ব্যাংক লিমিটেড কোম্পানীগঞ্জ শাখার ব্যাবস্থাপক আলমগীর হোসেন তালুকদার ও সেকেন্ড অফিসার ছাদেকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে উভয়েই বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং এ সংক্রান্ত কোন প্রকার তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে ঘটনাটি মিমাংসা হয়ে গেছে বলে স্বীকার করেন এবং বিষয়টি নিয়ে পত্রিকায় না লিখার জন্য তারা সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান।
মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিরুল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, যে ব্যাংকের ঘটনা, সে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কিংবা কোন ভুক্তভোগী লিখিত কোন অভিযোগ না করায় জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। আটককৃতদের ৫৪ ধারায় কোর্টে সোপর্দ করা হয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply