নাতিন জামাইর কান্ড, বয়বৃদ্ধ নানা স্বশুরের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে অলিখিত ষ্ট্যম্পে স্বাক্ষর নিলেন

স্টাফ রিপোর্টার :–
জীবন যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে আপন ছেলের ঘরের নাতি এবং নাতিন জামাইর কাছে অপদস্ত হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বয়বৃদ্ধ আবুল হাশেম (৮৮)। উপায় অন্ত না পেয়ে আপন ছেলে, নাতি ও নাতিন জামাইর বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করে তাদের ভয়ে বাড়ী ছেড়ে এখানে সেখানে রাত কাটাচ্ছেন মুরাদনগর উপজেলার পাক দেওড়া গ্রামের হতভাগা এ বৃদ্ধা।
নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে দু-চোখের পানি মুছতে মুছতে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, আমার আপন নাতিন জামাই আমাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ী নেয়ার নাম করে গাড়ীতে তুলে নিরব যায়গায় নিয়ে, মারধর করে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ২টি ১শ টাকার এবং ১টি ৫০ টাকার ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে আমাকে গাড়ী থেকে ফেলে চলে যায়। ঘটনার বর্ননায় তিনি জানান, আমার ৫ ছেলে ২ মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে শহীদুল ইসলাম ও তার ছেলে ৭/৮ বছর ধরে সৌদি আরব চাকুরী করেন। তাদের সাথে আমার ভাল সম্পর্ক ছিল, অনেকটা সুখে শান্তিতেই ছিলাম। ভাল সম্পর্কের মাঝে ফাটল ধরায় সেই ছেলের ঘরের নাতিন জামাই আক্তার হোসেন। আমার পাশের বাড়ীর বখাটে আক্তার হোসেন পিতা সুলতান মিয়া ছলে বলে কৌশলে আমার সুন্দরী নাতিন তাছলিমা আক্তারকে বিয়ে করে ফেলে। আক্তার হোসেন একজন আলসে, বখাটে, খারাপ ও দুষ্টু প্রকৃতির লোক বিধায় আমি ওই বিয়েতে রাজি ছিলামনা। ফলে বিয়ের পর থেকে সে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন চক্রান্ত করতে থাকে। বর্তমানে সেই নাতিনের ঘরে ১ মেয়ে রয়েছে। আক্তার হোসেন আমার নাতিনকে ছেড়ে দেবার হুমকি দিয়ে আমার ছেলে শহীদুল, পুত্র বধু এবং নাতি আলমগীরের সাথে আমার সম্পর্ক খারাপ করিয়েছে। আমি আমার ছেলের মন রক্ষার্থে শহীদের নামে ২ শতক বাড়ী এবং ১৬ শতক নাল জমি ২/৩ মাস পূর্বে লিখে দেই। সেই থেকে তারা আরও বেশী জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। কিছুদিন পূর্বে নাতি আলমগীর সৌদি আরব থেকে বাড়ী এসে তার মায়ের সাথে কু-পরামর্শে লিপ্ত হয়। সে আমার গ্রামের বেপর্দা চলাফেরা করে এমন এক মেয়েকে বিয়ে করে ফেলে। আমি ওই বিয়েতে সম্মতি না দেওয়ায় নাতিন জামাই আক্তার হোসেন ও নাতি আলমগীর মিলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
গত ২৩ আগষ্ট ব্রা‏হ্মণপাড়া ডায়াবেটিক হাসপাতালে চিকিৎসার পর একা একা বাড়ী ফেরার সময় আমাদের বাড়ীর পাশের শাহ আলম নামের এক লোক এসে আমাকে এগিয়ে নেয়ার কথা বলে। আমি তার সাথে যাবার সম্মতি প্রকাশ করলে সে আমাকে একটি মাইক্রো বাসে উঠতে বলে। আমি সরল বিশ্বাসে উঠে দেখি আমার নাতি আলমগীর ও নাতিন জামাই আক্তার হোসেন সেই গাড়ীতে বসে আছে। তারা তখন আমাকে মিথ্যা শান্তনা দিয়ে ব্রা‏হ্মণপাড়া থেকে মুরাদনগরের রাস্তায় চলতে থাকে। কিছুদুর যাবার পর এক নিরব যায়গায় নিয়ে গাড়ীটি থামিয়ে ৩টি খালী ষ্ট্যাম্প বের করে স্বাক্ষর করতে বলে। আপি অসম্মতি জানালে তারা আমাকে চর থাপ্পর মেরে গলা চেপে শ্বাস রুদ্ধ করে। এক সময় নাতিন জামাই আকাতার হোসেন পকেট থেকে একটি পিস্তল এনে আমার মাধায় ঠেকিয়ে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমি আত্মরক্ষায় সে সময় ২টি ১শ টাকার এবং ১টি ৫০ টাকার ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করি। এসময় তারা আমার পকেটে থাকা নকিয়া মোবাইল এবং টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে আমাকে কিল ঘুসি মেরে রাস্তার পাশে আহত অবস্থায় ফেলে দিয়ে চলে যায়। যাবার সময় তারা বলে যায়, বাড়ী গেলে আমাকে জানে মেরে ফেলবে। আমি ডায়াবেটিস, প্রেসার সহ বয়স্ক রোগে ভ’গছি। বহু কষ্টে সেখান থেকে ব্রা‏হ্মণপাড়া সাহেবাবাদ এসে এক বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছি। সেখান থেকে স্থানীয় লোকজনের সাহায্যে কুমিল্লা কোর্টে মামলা করি। মামলা নং পিআর-৩০৬/১৩। ঘর বাড়ী থেকেও আমি বাড়ী ছাড়া। নিজের ছেলে যখন নিজের শত্রু, তখন আমি কোথায় গিয়ে আশ্রয় পাই ?

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply