আমরা কেন পরিবারকে সময় দিব ? —কাজী কোহিনূর বেগম তিথি

গত ১০ই মে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের আজমপুর উত্তরা প্রিসেলে সাদাকায়নে যোগ দেই। আমি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ৩০০ ব্যাচের ছাত্রী। প্রতি শুক্রবার মেডিটেশনের পর একটা নিদৃষ্ট বিষয় বস্তুর উপর আলোচনা থাকে। ঐ দিনের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল – “পরিবারকে আমরা কেন সময় দিব ?” বিষয়বস্তুটি আমার হৃদয়ে দাগ কেটেছে। কালের আবর্তে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা সামাজিক মান মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য পুরুষ-মহিলা আমরা সকলেই কর্মরত হয়ে পড়ছি। যার ফলে পরিবারের সদস্যদের আমরা যথেষ্ট সময় দিতে পারছি না। পরিবারের একজনের প্রতি আর একজনের শ্রদ্ধা মমতা কমে যাচ্ছে – সেজন্য পারিবারিক বন্ধনগুলো হালকা হয়ে ভাঙ্গনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সীমাহীন চাহিদার কারনে আমরা প্রিয়জনের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি।

যদি দাম্পত্য জীবনের দিকে একটু নজর দেই -বিয়ের পর একজন অপরজনকে জানার জন্য বোঝার জন্য অবশ্যই যথেষ্ট পরিমান সময় দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি আবেগ-অনুভুতি – চাওয়া -পাওয়াগুলো প্রাধান্য দেওয়া , দু’জনের সমঝোতায় সংসার জীবন পরিচালিত হওয়া, দু’জন একসাথে প্রান খুলে হাসা গল্পকরা – পরিকল্পনা করে দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে যাওয়া – অর্থ্যাৎ একজন অন্যজনকে আবিস্কার করে নিবে – সেজন্য একজন অন্যজনের প্রতি প্রশংসা মূলক এবং সম্মান সূচক বাক্য চর্চার প্রয়োজন।ছোট ছোট আন্তরিকতা গুলো দাম্পত্য জীবনকে সুদৃঢ় করে। আর নি:স্বার্থ ভালবাসাতেই প্রতিদান মেলে।

অনেক সময় দেখা যায় শ্বশুরবাড়ীর সাথে অনেক মেয়েদের সম্পর্ক ভাল যায় না / স্বামী তার স্ত্রীকে সব সময় blem করছে তার ভুমিকা নিয়ে । কিন্তু একটা মেয়ে তার বিয়ের পর প্রথমে শুধু তার স্বামীকে চিনে যদি arrange marrage হয়।
আর নবদম্পতিরা সুখী হওয়ার জন্য বাবার বাড়ীর আর শ্বশুর বাড়ীর মানুষদের অবশ্যই সহযোগীতার হাত বাড়াতে হবে। তা না হলে সেই জামাই আর বউকে দিয়ে পরিবারের সবার প্রতি ভুমিকা কিভাবে আশা করবে ? নব-দম্পতিদের বন্ধন যত সুদৃঢ় হবে তাদেরকে দিয়ে পরিবার -সমাজ-রাষ্ট্রের কল্যান তত বেশী হবে।
আমরা যদি খুঁজে দেখি সুন্দর -সুদৃঢ় বন্ধন সম্পন্ন দম্পতি অথ্যাৎ সূখী দম্পতি কটা আছে সমাজে ? তাদের সূখী হওয়ার কারন উৎঘাটন করে নিজেদের জীবনে প্রতিফলন ঘটিয়ে সামাজিক ভাবে সূখী দম্পতিদের সম্মামনার ব্যবস্থা করলে সমাজে এর একটা positive প্রতিফলন ঘটবে। অথ্যাৎ সংসার সুখের হয় স্বামী -স্ত্রীর গুনে। শুধুই রমনীর গুনে নয়।

আজ সন্তানদেরকেও কেন্দ্র করে পরিবারে ফাঁটল ধরছে। সন্তান মানুষ করার দায়ভার যেন সব মায়ের। সন্তান মানুষ করার ক্ষেত্রে বাবা -মায়ের পূর্ন যত্বের প্রয়োজন। অতিরিক্ত অর্থের পেছনে ছুটতে যেয়ে কেউ প্রিয়জন হারিয়ে ফেলে, কেউ সন্তান কেউবা বাবা-মা হারিয়ে ফেলে / সন্তান তার বাবা মাকেও খুন করছে। এমনটা ঘটছে পরিবারের সবাই সবার প্রতি যত্নশীল না হওয়ার কারনে।
মা-বাবা উভয়ে কর্মজগৎ নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারনে সস্তরা মানুষ হচ্ছে কাজের মানুষের কাছে- একটা সময়ে তারা বাবা মায়ের অবাধ্য সন্তান হচ্ছে।
সেজন্য child program এ যাওয়ার আগে দম্পতিদের সিদ্ধাত নেওয়া প্রয়োজন যে তারা তাদের সন্তানকে যথেষ্ট সময় দিতে পারবে কিনা।
সুতরাং সুন্দর পরিবার গঠনের জন্য পরিবারের প্রতিটি সদস্যদের সাথে প্রান খুলে কথা বলতে হবে।

সেজন্য আমরা যে যেখানেই থাকিনা কেন ? গঠনমূলক আলোচনা করে নিজেদের জীবনকে আলোকিত জীবন করতে পারি। আমাদের পারিবারিক কাঠামো গুলো সুন্দর এবং শক্তিশালী হোক।

==================
কাজী কোহিনূর বেগম তিথি
লেখিকা এবং সমাজকর্মী
kazitithi@gmail.com
০১৭১২৩৫১২৪৩,০১৯২৯৭৩৮৩০৭

Check Also

মাদকসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারকেই জোরালো ভূমিকা নিতে হবে

—-মো. আলীআশরাফ খান লেখার শিরোনাম দেখে হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেন, কেনো লেখাটির এমন শিরোনাম দেয়া ...

Leave a Reply