দাউদকান্দিতে মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের আতংকে আ’লীগের নেতাকর্মীরা

দাউদকান্দি প্রতিনিধি :–

দাউদকান্দির পৌরসভায় মুখোশধারীদের হাতে কয়েকটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। দাউদকান্দি পৌরসভা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, গোমতী নদীর বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ২০১২ সালে আওয়ামীলীগ নেতা খন্দকার মিলন কমিশনার ও বর্তমান পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজাহান মিয়ার দ্বন্দ্বের কারণে মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের হাতে রাতেই খুন হয় মিলন কমিশনার। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েকটি মামলা হয়। এর কিছুদিন পরই পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে দুস্কৃতিকারীদের দেওয়া আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় ওই বাড়ির কেয়ারটেকার ইউনুছ মিয়ার মেয়ে রিনা আক্তার (২০)। বাড়ির কেয়ারটেকার ইউনুছ মিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা করলেও সেই মামলার কোন অগ্রগতি হয়নি। এবছর ১৫ জুলাই রমজান মাসে মসজিদে যাওয়ার পথে পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক মেয়র শাহ আলম চৌধুরীর চাচা আসমত চৌধুরীকে (৮৫) মুখোধারী সন্ত্রাসীরা রাত সাড়ে ৮টায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। বর্তমানে সে ঢাকা একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয় পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজাহান মিয়ার ভাতিজা ও পৌর ছাত্রলীগে সদস্য সচিব ইমরান হোসান অপু (২০)। বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে একের পর এক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এ হত্যাকান্ড নাকি নেতৃত্বের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ড? এ প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। এব্যাপারে আওয়ামীলীগ নেতা খন্দকার মিলন কমিশনার হত্যা মামলা বাদী যুবলীগ নেতা মিরাজ খন্দকার জানান, আমার ভাইয়ের প্রকৃত হত্যাকারীদেরকে মামলা থেকে বাদ দিয়ে মামলার চার্জসিট দেওয়া হয়। আমরা পুন:তদন্তের জন্য আবেদন করেছি। প্রকৃত আসামিদেরকে বাদ দেওয়ার কারণেই তারাই একের পর এক কিলার বাহিনী দিয়ে হত্যাকা- ঘটাচ্ছে। পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজাহান মিয়া বলেন, আমার বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়ে আমার বাড়ির কেয়াটেকারের মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। সেই হত্যা মামলার কোন অগ্রগতি নেই। আবার আমার ভাতিজা পৌর ছাত্রলীগে নেতা ইমরান হোসান অপুকে হত্যা করেছে। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত প্রকৃত দোষীদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি। পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক মেয়র শাহ আলম চৌধুরীর চাচা আসমত চৌধুরীকে (৮৫) হত্যা চেষ্টা মামলার বাদী জসিম চৌধুরী বলেন, দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা না নেওয়ায় কোর্টে মামলা করে থানায় রেকর্ড করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। সেই মামলার কোন অগ্রগতি নেই। দাউদকান্দি মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল ফয়সল জানান, আওয়ামীলীগ নেতা খন্দকার মিলন কমিশনার হত্যা ও পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে দুস্কৃতিকারী দেওয়া আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় ওই বাড়ির কেয়ার টেকার ইউনুছ মিয়ার মেয়ে রিনা আক্তার (২০)। এসময় ঘটনা আগের ওসির আমলে হয়েছে। আসমত চৌধুরীকে (৮৫) হত্যা চেষ্টা মামলা চার্জসিট দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতা অপুকে হত্যা মামলার আসামি জনি, বাবুল, রাসেল, আল-আমিন, মাহবুব, ও শেখ ফরিদসহ ৬ জনকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের ধরা জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply