বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে খাল-বিল,বণ্যা দেখা দিলে এলাকা প্লাবিত হবার আশংখ্যা

সৈয়দ আহাম্মদ লাভলুঃ–

পর্যায়ক্রমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদী-নালা, খাল-বিল গুলো। একটা সময় ছিল যখন লোকজন নৌকায় করে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে, এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলা ও এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াত করত। কালের পরিক্রমায় এখন আর তা চোখে পড়ে না। মানুষ দুর-দুরান্ত থেকে ট্রলারে করে নদীপথে নির্মান সামগ্রীসহ অন্যান্য মালামাল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেত। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে স্বল্প খরচে বাড়ীর আঙ্গিনা পর্যন্ত তারা নিরাপদে এসব সামগ্রী বাড়ীতে পৌছাতে পারত। কিন্তু এখন আর সে সুযোগটি নেই। এখন রাস্তাঘাট হয়ে যাবার ফলে স্বল্প সময়ে মালামাল পৌছাতে পারলেও তাকে গুনতে হয় কয়েকগুন বেশী টাকা। এক শ্রেনীর লোক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বাড়ীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরকারী খালগুলোকে ভরাট করে নিজের ব্যাক্তিগত সম্পদ বানিয়ে নিচ্ছে। অপর দিকে যেসব খাল দিয়ে নৌকা চলাচল করত, জনগনের চলাচলের সুবিধার্থে সেসব খাল বা বিলের পাশ দিয়ে এখন নতুন রাস্তা তৈরী করা হয়েছে। রাস্তার বিভিন্ন অংশে অনেক জায়গায় পাকা ব্রীজ বা কালবার্ড তৈরী করা হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য সেসব ব্রীজ বা কালবার্ডের নীচ দিয়ে কোন নৌকা বা ট্রলার চলাচল করতে পারে না। এছাড়া বহু বছর যাবৎ খাল খননের কোন প্রকল্প সরকার নেয়নি বিধায় খাল ও বিলগুলো পর্যায়ক্রমে পানি শুন্য হয়ে যাচ্ছে। একটা সময় ছিল যখন মানুষ বিভিন্ন খাল-বিল নদী-নালা থেকে মাছ ধরে তা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রান্না করে খেতে পারত। নি¤œ আয়ের মানুষকে চড়া দামে বাজার থেকে মাছ কিনে খেতে হত না। এসব শুকিয়ে ও বিলপ্তি হয়ে যাবার ফলে মানুষ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ খাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চড়া দামে বাজার থেকে মাছ কিনতে গিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে মধ্যবৃত্তসহ নি¤œ আয়ের মানুষগুলো। আর এখন যখন হঠাৎ প্রচুর পরিমানে বৃষ্টিপাত হয় তখন বৃষ্টির পানি ছাড়াও সীমান্তভর্তি এলাকায় পাহাড়ী ঢলে তলিয়ে যায় বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার অধিকাংশ গ্রাম। বর্তমানে এ দু-উপজেলার অনেক খাল- বিল, নদী-নালা আছে যেগুলো অবহেলায় অযতেœ পড়ে থেকে পর্যায়ক্রমে শুকিয়ে যাচ্ছে ,আর সে সুযোগে ভুমিদস্যুরা দখল করে নিচ্ছে। অনেক জলাশয়সহ খাল-বিল আছে যেগুলো খনন করে লীজ দিলে সরকার প্রচুর পরিমানে রাজস্ব আয় করতে পারবে। আমরা দেখতে পাচ্ছি ইদানিং লোকজন ড্রেজার মেশিন ভাড়া করে জমি ভরাট করে তাতে বাড়ী নির্মান করছে। প্রশাসন একটু সচেতন হলে এ মাটিগুলো সরকারী জলাশয় অথবা খাল-বিল থেকে পরিকল্পিতভাবে কেটে আনলে একদিকে যেমন খাল-বিল ও জলাশয়গুলো গভীর হবে অন্যদিকে সরকারের কোষাগারে মাটির মুল্য বাবত অনেক টাকা রাজস্ব খাতে জমা হবে। তাই সচেতন মহল আশা করে স্থানীয় প্রশাসন উদ্দোগ নিলে এলাকার খাল-বিলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানসহ সরকারের রাজস্ব খাতে বিপুল পরিমানে অর্থ জমা করা সম্ভব।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply