না ফেরার পথে!

—জান্নাতুল ফেরদৌসী (নিলু)
না ফেরার পথে না ফেরার দেশে চলে গেলেন আমাদের শ্রদ্ধেয় সম্মানিত সাংবাদিক জেহাদ ভাই। যেখান থেকে কোন দিন কেউ শত চেষ্টা করলে ও ফেরত আসতে পারবে না। সাংবাদিক জেহাদ ভাইয়ের অকাল মৃত্যুতে আমাদের বুড়িচং থানার, ব্রাহ্মণপাড়া ও কুমিল্লার সকল সাংবাদিক এবং লেখকগণ মর্মাহত এবং শোকাহত। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, জন্মালে মরতে হবে এই বাক্যটির সাথে আমরা সকলে পরিচিত। তবে কিছু মানুষের মৃত্যু মেনে নেয়ার মতো নয়। তবু মেনে নিতে হয়। কারণ সৃষ্টিকর্তার উপরে কাহারো হাত নেই। আজ হোক আর কাল হোক একটা সময় আসবে আমাদের সকলকে এই পথে চলে যেতে হবে। এটাই সৃষ্টি কর্তার বিধান। মৃত্যু এই কঠিন শব্দটা যখন কাহারো দরজায় কড়া নাড়ে তখনি চলে যেতে হয়। আর মৃত্যু নামের কঠিন শব্দটা যখন কানে আসে তখনি বুকের কম্পনটা বেড়ে যায় মনে হয় কেউ যেন বুকের কলিজ্বার ভেতরে হাতুরি দিয়ে পিটাচ্ছে, ভীষন ভয় হয়। মাত্র ছয় মাসের পরিচয়ে জেহাদ ভাইয়ের নিকট যেই সহযোগিতা পেয়েছি লেখা-লেখির জীবনে তা ভুলে যাবার নয়। যখনি জাহেদ ভাইয়ের সাথে বুড়িচং দেখা হতো আমাকে লেখালেখির বিষয়ে অনেক উৎসাহ প্রেরণা এবং কিছু উপদেশ মূলক কথা বলতেন। কোন পত্রিকায় কবে লেখা দিতে হবে এবং কি ধরনের লেখা সমাজে পত্র পত্রিকায় গ্রহণযোগ্য এই ব্যাপারে পরামর্শ দিতেন। আমার প্রথম লেখা রূপসী বাংলায় দ্বিতীয় লেখা আমাদের কুমিল্লা পত্রিকায় এবং প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত অন্য দিগন্ত পত্রিকায় লেখা জেহাদ ভাইয়ের মাধ্যমে দেওয়া হতো। আমাকে লেখালেখির ব্যাপারে সর্বদা সহযোগিতা করে যেতেন এবং বিভিন্ন পত্র পত্রিকার সাহিত্য পাতার ই-মেইল নম্বর এবং সম্পাদকের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে আমাকে দিতেন। আমার নিজের বড় ভাই নেই। আমি জেহাদ ভাইয়ের মাঝে আমার বড় ভাইয়ের আচরণ ও স্নেহ-মমতা খোঁজে পেয়েছিলাম। মাঝে মাঝে পত্রিকায় লেখা না আসলে মন খারাপ করতাম এবং জিহাদ ভাইকে বলতাম ভাইয়া আজকের পত্রিকায় আমার লেখা আসেনি। জেহাদ ভাই আমাকে একটু তৃপ্তির হাসি হেসে বলতেন সমস্যা নেই এইসব কাজে ধৈর্য্য থাকা চাই। সব লেখা পত্রিকায় আসবে এমন তো কোন কথা নেই। তবে আপনি লেখে যান, আপনার লেখার ধরণ ও মান ভাল। জেহাদ ভাই যেই দিন মৃত্যুবরণ করল ঐ দিনের বেলায় আমি মোবাইল ফোনে জেহাদ ভ্ইায়ের সাথে কথা বলে ছিলাম। জেহাদ ভাইকে বলে ছিলাম ভাইয়া কেমন আছেন? জেহাদ ভাই উত্তরে বলল ভাল নেই। আমি প্রশ্ন করলাম, কেন? জেহাদ ভাই বলল আপা শারীরিক অবস্থা বেশি ভাল না, যে কোন সময় মৃত্যুর কথা শুনতে পারেন। আমি বললাম ভাই এইভাবে বলতে নেই। জেহাদ ভাই আমাকে আরো বলল আপা আপনাকে অগ্রিম ঈদ মোবারক জানাই কারন মরে গেলে হয়তো জানাইতে পারব না। আমি বললাম ভাইয়া ঈদের পরদিন আমার বাসায় আপনার নিমন্ত্রন, জিহাদ ভাই একটু দীর্ঘ নিংশ্বাস ফেলে বললেন আমাকে মনে হয় না আপা আপনার বাসায় দাওয়াত খেতে যেতে পারব। কারণ আমার শরীরের অবস্থা বেশি ভাল না তবে, বেঁচে থাকলে অবশ্যই যাব। জেহাদ ভাই বলল আপা আপনি কোথায় আছেন? আমি বললাম বুড়িচং বাজারে অফিস রোডে আছি। জেহাদ ভাই বললেন আপা আপনি আধা ঘন্টা অপেক্ষা করেন আমি আসতেছি। আপনার সাথে আমার কথা আছে। আমি জেহাদ ভাইকে বললাম ভাইয়া আজকে দেখা করতে পারব না। কারণ আমি এখান থেকে কুমিল্লা যাব আমার একটু কাজ আছে। জেহাদ ভাইয়া বলল ঠিক আছে যান। তবে শনিবারে বুড়িচং আসলে দেখা করবেন আমি বললাম ঠিক আছে। এই কথা গুলো আমার সাথে মোবাইল ফোনে হয়েছিল। আমি জানতাম না সত্যি জেহাদ ভাই এইভাবে হাসতে হাসতে মৃত্যুর কথা নিজে বলে মৃত্যু বরণ করবে। যদি জানতাম তাহলে কুমিল্লা না গিয়ে হলেও দেখা করতাম। কারণ আমি আরো কিছু উপদেশ পেতাম। জেহাদ ভাইয়ের নিকট আচার-আচরণ সামাজিক চলাফেরা থেকে জ্ঞান অর্জন সহ অনেক কিছু শিখনীয় ছিল। আমি একজন বড় ভাইকে হরালাম। জাহেদ ভাইয়ের মৃত্যুর খবরটি যখন আমার দেবরের নিকট থেকে পাই তখন কোনভাবে বিশ্বাস হচ্ছিল না। এই মানুষটি আমার সাথে এইভাবে অভিমান করে চলে যাবেন পরপারে। আমি সাথে সাথে জেহাদ ভাইয়ের মোবাইল ফোনে ফোন করলাম রিং হচ্ছে কিন্তু ফোনটা কেউ রিসিভ করে না। তখনি বুকের ভেতরে হঠাৎ মুচরে উঠল ভাবলাম এইটাই হয়তো সত্যিই জেহাদ ভাই আর আমাদের মাঝে নেই। কিছুক্ষণ হাউ মাউ করে কান্না করলাম তারপর আমি আমার Husband কে জেহাদ ভাইয়ের মৃত্যুর খবর টি জানাই। আমার Husband কোন ভাবে বিশ্বাস করতে পারছিল না। আমাকে কাদঁতে দেখে কিছুটা শান্তনা দিলেন। কিছুক্ষণ পর নিজেকে সামলে নিলাম তারপর জেহাদ ভাইয়ের বাড়িতে গেলাম। জেহাদ ভাইয়ের ঘুমন্ত দেহটা দেখে বুকের ভেতরটা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল যেই মানুষটির সাথে হাসি খুশিভাবে কথা বলতাম, আজ তার কোন কথা নেই। দুটি আখিঁ বন্ধ শুনতে পায় না আপনজন এবং পৃথিবীর কোলাহল। শত ডাকলে ও ফিরে তাকাবে না আর। কোন ভাবে ঘুম ভাঙ্গবেনা। এত অল্প সময়ের জন্য আমরা এই পৃথিবীতে এত মায়ার বন্ধনে জড়িয়ে যাই সকলের সাথে এমনি করে মায়ার বন্ধনটুকু ছিড়ে ফেলে চলে যেতে হবে সকলকে। তাহলে এই দুই দিনের দুনিয়ার কেন আমরা কেউ কাউকে বুঝতে চাই না। কেন ভাল কাজ করতে পারি না।
পরিশেষে বলব সৃষ্টিকর্তা যেন জেহাদ ভাইকে জান্নাত বাসী করেন আর ওনার পরিবারের সকলের এই বেদনা বহন করার মতো ক্ষমতা ও শক্তি আল্লাহপাক রাব্বুল আলামীন তাঁদের কে দান করেন।

============================
লেখক পরিচিতি-
জান্নাতুল ফেরদৌসী (নিলু)
বুড়িচং, কুমিল্লা। মোবা- ০১৭৬১-৫০৪৯৪৯

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply