চাঁদপুর বড় স্টেশনকে রি-মডেলিংয়ের আওতায় আনতে ৭ কোটি টাকার প্রস্তাব প্রেরন

শামসুজ্জামান ডলার :–

চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের ১শ’ ৬৮ কোটি টাকা প্রকল্পের চলমান উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেছেন রেলওয়ের চট্রগ্রাম বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ ও ভারতীয় কালিন্দি কোম্পানীর চীফসহ প্রতিনিধি দল। গত শনিবার লাকসাম থেকে এ প্রতিনিধি দল চাঁদপুর আসেন। বিভাগীয় প্রকৌশলী চট্রগ্রাম-১ আবিদুর রহমান, ভারতীয় কালিন্দি কোম্পানীর চীফ প্রজেক্ট ম্যানেজার পিকে সেনগুপ্ত, এসএসএই-ওয়ে লিয়াকত আলী মজুমদার, এসএসএই- কার্য আঃ লতিফ চাঁদপুর আসার পথে রি-মডেলিং প্রকল্পের বিভিন্ন স্টেশন পরিদর্শন করেন এবং উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় প্রতিনিধি দল চাঁদপুর কোর্ট স্টেশন ও চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন সরজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় কাজ নিম্নমানের হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

চট্রগ্রাম রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর-লাকসাম রুট বাংলাদেশ রেলওয়ের লাভজনক খাত হওয়া সত্বেও স্বাধীনতার পর হতে অদ্যবধি এ পথের যথাযথ উন্নয়ন করা হয়নি। বর্তমান সরকারের সময় সরকারের বিওবি ফান্ড থেকে চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের উন্নয়নসহ স্টেশন সমূহকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে ১শ’ ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন লাভ করে এবং অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। এ পথের ৫২ কিলোমিটার রাস্তা, ৫ কিলোমিটার লুক লাইন, ৫৯টি ব্রিজ ও ৮টি স্টেশন ভবনের উন্নয়ন কাজ এ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। ২০১১ সালের জুন মাসে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৪০% কাজ শেষ হয়েছে বলে চট্রগ্রাম বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ আবিদুর রহমান জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, ২০১৪ সালের জুন মাসের মধ্যে বাকী ৬০% কাজ শেষ হবে। পরিদর্শন টিম শনিবার লাকসাম থেকে মটর ট্রলিযোগে রওনা হয়ে বিকেলে চাঁদপুর স্টেশন পৌঁছায়। ওই প্রকৌশলীর সাথে আলাপকালে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে এ পথে ট্রেন ঘন্টায় ৩০ কিলোমিটার গতিতে চলছে। পুরো কাজ শেষ হলে ট্রেন ঘন্টায় ৬৫ কিলোমিটার বেগে চলতে পারবে। ৬টি স্টেশন ভবনের রি-মডেলিংয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়। চাঁদপুর কোর্ট স্টেশনের উন্নয়ন কাজ আগামী ২ মাসের মধ্যে শেষ হবে।

তিনি আরো জানান, চাঁদপুর রেলওয়ে বড় স্টেশনসহ ৪টি স্টেশনের জন্য ৭ কোটি টাকার প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ প্রস্তাবনা অনুমোদিত হলে চাঁদপুর, মৈশাদী, ওয়ারুক ও শাহরাস্তি স্টেশন ভবন রি-মডেলিংয়ের আওতায় চলে আসবে এবং এর উন্নয়ন কাজ যথাসময়ে শুরু হবে। তখন প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়াবে ১শ’ ৭৫টি কোটি টাকায়। এদিকে চাঁদপুর রেলওয়ের দায়িত্বে থাকা স্টেশন কর্মকর্তা ও স্টেশন এলাকার লোকজনের অভিযোগ, স্টেশনে যে কাজ চলছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের। এ কাজ তদারকি করার কেউ নেই। কাজ মনিটরিং করার দায়িত্বে যিনি রয়েছেন তাকে ম্যানেজ করে কাজের ছাড়পত্র নেয়ার পাঁয়তারা করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাশেম কনস্ট্রাকশন।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply