শোকাবহ আগস্টের বৃষ্টি ঝরার দিনগুলিই অশ্রুসিক্ত !

—-আজিম উল্যাহ হানিফ

সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন দেশের যেমন সু-খ্যাতি আছে, তেমনি আছে প্রাকৃতিক দূর্যোগ, মানব সৃষ্ট দূর্যোগ ও স্বাভাবিক সমস্যা। আগস্ট মাস এলে বাঙ্গালীর মনে এক হৃদয় বিদারক ঘটনার কালো ছায়া নেমে আসে। বাংলা ৮ ফাল্গুন ২১শে ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভাষা দিবসে ভাষার স্বাধীনতা বিশাল অর্জন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্ম গ্রহণ করেন। ২৬ মার্চ আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসের ১৫ দিনের ব্যবধানে বাংলা সাহিত্যের দুই দিকপাল জন্মেছিলেন ২৫ বৈশাখ ও ১১ জৈষ্ঠ্য তারিখে। ১৮৯৪এর আগস্টে বাঙ্গালী স্থপতি নীলমণি মিত্রের মৃত্যু। ১৯০৫ সালের ৫ আগস্ট বঙ্গদেশ বিভক্ত করার জন্য বঙ্গভঙ্গ আইন ঘোষিত হয়। ১৯০৫ সালের ৫ আগস্ট ইরাকি ট্যাংক ও পদাতিক বাহিনী কুয়েত দখল করেন। ১৯৩৪ সালের জার্মানির স্বৈরশাসক এডলফ হিটলারের আত্বপ্রকাশ ঘটে। ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট বাংলা সাহিত্যের এক নক্ষত্র কবি গুরু গীতাঞ্জলী কবিতায় নোবেল বিজয়ী মৃত্যু বরণ করেন। ১৯৪৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান এর নির্দেশে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় ৬ আগস্ট এবং ৯ আগস্ট হিরোসিমা ও নাগাসাকিতে পারমানবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল। জাপানিরা এই বোমার ৬৯তম বার্ষিকিতে স্তব্ধ ও শোকাবিভুত। বোমার তেজস্ক্রীয়তা এত খারাপ ছিল যে, এখনো অধিকাংশ শিশু জন্মের সময় বিকলাঙ্গ অবস্থায় জন্মায়। বাঙ্গালী জাতির শোকের ভয়াবহতম মাস ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। বাংলা শ্রাবন আর খ্রিষ্টীয় আগস্ট পাশাপাশি মাস। বাংলাদেশের ঋতু চক্রের পরিক্রমায় বর্ষা বা বৃষ্টি ঝরার মাস। আর আগস্ট মাসের ইতিহাস অধিকাংশ শোক আর অশ্র“ ঝরার। এই আগস্ট মাসেই আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারিয়েছি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালো রাত্রিতে শ্রাবনের ৩১ তারিখে ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাকান্ডের স্বীকার হয় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের শিশু সন্তান রাসেল, ৩১ দিন পূর্বের বিয়ে করা শেখ কামালসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য। এই মহান নেতা সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী নানান লেখালেখি হয়েছে হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস ও শ্রেষ্ঠ সম্পদ। এই নেতা বাংলার আকাশে চন্দ্র সূর্যের মত অবিচল। আফ্রিকার ন্যাম সম্মেলনে তিনি ঘোষনা দিয়েছিলেন বিশ্ব আজ দু’ভাগে বিভক্ত- এক ভাগ শোষক, আর এক ভাগ শোষিত, আমি শোষিতের পক্ষে। তিনি তখন বিশ্ব নেতার আসন দখল করেছেন। আজ তুমি নেই তাই রবিন্দ্রনাথের সুরে সুর মিলিয়ে “নয়ন সম্মুখে তুমি নাই, হৃদয়ের মাঝেতে নিয়েছ ঠাঁই”। বিদ্রোহী কবি নজরুল আমাদের আরেকটি শ্রেষ্ঠ গর্ব। যাকে কলিকাতা থেকে স্ব-পরিবারে ঢাকায় নিয়ে আসেন এবং জাতীয় কবির মর্যাদায় অভিসিক্ত করেন। তিনিও ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট চলে গেলেন লক্ষ লক্ষ ভক্ত, অনুরক্ত ও স্বজনদের শোকে ভাসিয়ে। লাকসামের সিংহ পুরুষ নামে খ্যাত আওয়ামীলীগের বিশিষ্ট নেতা আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুরুজ ১৯৯৪ সালের আগস্ট মাসের ৬ তারিখে ইন্তেকাল করেন। কবি কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যুবরন করেন ২৯ আগষ্ট ১৯৭৬ সালে ঢাকা পিজি হাসপাতালে।। কবি ছালেহা বেগম মৃত্যুবরন করেন ১০ আগষ্ট ১৯৯৭ সালে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে। ইতিহাসের আরেকটি জগন্যতম হত্যাকান্ড ঘটেছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে। সেইদিন আওয়ামীলীগের জনসভায় উপর্যুপরী গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। সদ্য প্রয়াত মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মীনিসহ মোট ২৪ জন নেতাকর্মী শাহাদাত বরণ করেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কানে এবং মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। অসংখ্য নেতাকর্মী এখনো পঙ্গু এবং গ্রেনেডের ¯িপ্রন্টার বহন করে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। তাই আগস্ট মাসে বর্ষার প্রকৃতি যেরূপ কাঁদে, তেমনি কাঁদে বাঙ্গালী, কাঁদবেও চিরকাল। শুধু কষ্ট অনুভব করার, আর অনুতাপের দিন। তাদের জন্য আমাদের শোক, শ্রদ্ধা আর ভালবাসা।

==================================
লেখক: আজিম উল্যাহ হানিফ
সাধারন সম্পাদক-কুমিল্লা জেলা নেট রাইর্টাস ফোরাম।
মোবাইল-০১৮৩৪-৩৮৯৮৭১

Check Also

মাদকসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারকেই জোরালো ভূমিকা নিতে হবে

—-মো. আলীআশরাফ খান লেখার শিরোনাম দেখে হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেন, কেনো লেখাটির এমন শিরোনাম দেয়া ...

Leave a Reply