লাকসামে জনতার বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও, সিবিএ নেতা শাহজাহানের বিদ্যুতের খুঁটি ও মিটার বানিজ্য !

জামাল উদ্দিন স্বপন,কুমিল্লা থেকে:–

কুমিল্লার লাকসাম দৌলতগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে সিবিএ নেতা বিদ্যুৎ শ্রমিকলীগ লাকসাম শাখার সাধারন সম্পাদক লাইনম্যান-এ মোঃ শাহজাহান দীর্ঘদিন থেকে কর্মকর্তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করে বিদ্যুতের খুঁটি, ডিজিটাল মিটার বানিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছে। তার এহেন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি লাকসাম দৌলতগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসটি আবাসিক কার্যালয় থেকে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশের মাধ্যমে লাকসাম পৌর এলাকায় বিদ্যুতয়ানের জন্য ৭১টি এলটি খুঁটি, ৫২টি বড় খুঁটি, ৫ কিঃ মিঃ ১১ কেভি তার, সাড়ে ৭ কিঃ মিঃ ৩৩ হাজার কেভি তার, ৬ কিঃ মিঃ ৪৪০ তার, ৪টি ট্রান্সফরমারসহ যাবতীয় মালামাল লাকসাম অফিস বরাদ্ধ পায়। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সভাসমাবেশে সংসদ সদস্যের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাধারন জনগণ বিদ্যুতের খুঁটির জন্য আবেদনে সংসদ সদস্যের সুপারিশ নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট জমা দেয়। কিন্তু সংসদ সদস্যের সুপারিশ উপেক্ষা করে নামমাত্র কিছু খুঁটি স্থাপন করে বাকী সবখুঁটি সিবিএ নেতা শাহজাহানসহ কতিপয় লোকজন সাধারন মানুষ থেকে খুঁটি প্রতি ১০/১৫ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করে দেয়। ফলে সংসদ সদস্যের নিকট থেকে সুপারিশ আনা খুঁটি বঞ্চিত শতাধিক জনতা গত ৩রা আগষ্ট দুপুরে দৌলতগঞ্জ বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণী নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় ঘেরাও করে। খবর পেয়ে লাকসাম পৌরসভার কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন মজুমদার, খলিলুর রহমান ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ সেখানে উপস্থিত হলে উত্তেজিত জনতা উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র কে হাত ধরে টানা হ্যাচড়া করতে দেখতে পান। এসময় নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদ উল্লাহ ভূঁইয়া এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। পরবর্তীতে উপস্থিত কাউন্সিলরবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অভিযোগগুলো সংসদ সদস্য মোঃ তাজুল ইসলামকে অবহিত করবেন বলে আশ্বস্থ্য করলে উত্তেজিত জনতা শান্ত হয়।
উপজেলা কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার চৌধুরী জানান, শ্রমিক নেতা শাহজাহান আমার এলাকার খুন্তা ও কেমতলী ৯টি এলটি খুঁটি স্থাপন করে গ্রাহকদের নিকট থেকে ১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। গুন্তি এলাকার জনৈক ব্যাক্তি নামে প্রকাশ না করার স্বর্তে বলেন গুন্তি পূর্ব পাড়া এবং কুনি নরপাটি এলাকায় ১৬টি খুঁটি দেয়ার নাম করে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে মাত্র ১২টি খুঁটি স্থাপন করে। এছাড়া পৌরসভার ধোপা বাড়ী, মৈশান বাড়ী এলাকা, নরপাটি ইউনিয়নের গাইনের ডহরা, উত্তরদা ইউনিয়নের বাতাবাড়িয়া এলাকায় পল্লী বিদুৎতের লাইন থাকা স্বত্তেও ওইসব এলাকায় বিশাল অংকের টাকার বিনিময়ে অনেকগুলো নতুন পুরাতন খুঁটি স্থাপন করা হয়। বিদ্যুৎ অফিসের এসকল অপকর্ম নিয়ে কানাঘূষা শুরু হলে নিজেকে বাঁচাতে সুচতুর শাহজাহান সরকার দলীয় কর্মীদের দিয়ে ওই সকল এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি বরাদ্দের জন্য সংসদ সদস্যের সুপারিশ নিয়ে রেখেছেন। যাতে কেউ এ নিয়ে কথা বললে সংসদ সদস্যের সুপারিশে এসব খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে বলতে পারে। সিবিএ নেতা শাহজাহান সাধারন একজন লাইনম্যান হয়ে ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে কাজ করার কারন সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার এবং তার সহযোগিদের ভয়ে অত্র অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কোন কর্মকর্তা কর্মচারী তাঁর কোন অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না। কথা বললে তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ শুণে তার হাতে নাজেহাল হতে হয়। শাহজাহান সরকার কর্তৃক ঘোষিত এনালগ মিটার পরিবর্তন করে ডিজিটাল মিটার স্থাপনের জন্য নির্দেশনা আসার পর বিদ্যুৎ অফিসের একটি কক্ষ দখল করে ‘‘গোল্ডষ্টার এবং নর্দান’’ কোম্পানী নামে বিদ্যুতের ডিজিটাল মিটার বিক্রির জন্য গোডাউন স্থাপন করে। এসব মিটার বিক্রয়ের কাজে অত্র অফিসের মাষ্টার রুলে কর্মরত ৩জন বিদ্যুৎ বিল সরবরাহকারীসহ বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা মিটার বিক্রি করে আসছে। সে সাথে পুরাতন মিটারের রিডিং পরিবর্তন করেও অর্থ আদায় করছে।
অফিসের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, অত্যন্ত নিম্নমানের এসকল মিটার বাজার মূল্য থেকে অধিক মূল্যে গ্রাহকদেরকে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। বর্তমানে সে নতুন খুঁটি স্থাপনকৃত এলাকায় এসকল নিুমানের মিটার বিক্রির জন্য তার দখলকৃত গোডাউনে মিটার মজুত করছেন। তার এহেন কর্মকান্ডে অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ জানান তার অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার কারনে এ শাহজাহানের হাতে আবাসিক প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম লাঞ্চিত হয়েছিলেন। এছাড়াও পূববর্তী অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী ও বিরোধী সিবিএ অনেক নেতা তার হাতে লাঞ্চিত হয়েছে।
খুঁটি বিক্রির সম্পর্কে নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল্লাহ ভূঁইয়ার নিকট জানতে চাইলে তিনি আমাদের প্রতিবেদক আজিম উল্যাহ হানিফকে বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশ ক্রমে খুঁটি স্থাপনের তালিকা করে উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের বুঝিয়ে দেয়া হয় । আমি বিভাগীয় প্রশিক্ষন গ্রহনের জন্য ২০ দিনের সফরে ভারতে থাকায় অত্র কাজগুলো মনিটরিং করা সম্ভব হয় নাই ।তবে কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এব্যাপারে সিবিএ নেতা শাহজাহানের বক্তব্য নেয়ার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply