কুমিল্লার মুরাদনগরে পুলিশ দেখে পালালো বর যাত্রীরা, অবশেষে বাল্য বিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও

মো. হাবিবুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার :—

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর মধ্যপাড়ার সৌদি প্রবাসী নয়ন মিয়ার নাবালিকা মেয়ে খাদিজা আক্তারের (১৪) বাল্য বিয়ে অবশেষে বন্ধ করে দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান খান। ওই বাড়িতে পুলিশ দেখে আগত বরযাত্রীরা পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, খাদিজা আক্তার স্থানীয় আকাব্বরের নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণীতে লেখা-পড়া করে। ব্রা‏হ্মনবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার রসুল্লাবাদ ইউনিয়নের পদ্যনগর গ্রামের জাহেদ মিয়ার ছেলে ও মেয়ের খালাতো ভাই সৌদি প্রবাসী আশেক মিয়ার (২৫) সাথে বৃহস্পতিবার রাতে বিয়ের দিন-তারিখ নির্ধারণ করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান খান প্রথমে বিয়ে বাড়িতে পাঠান আকাব্বরের নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসেনা বেগমকে। তার কথায় মেয়ের পক্ষ কোন কর্ণপাত না করায় পরে ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সফু মিয়া সরকার ও জীবন মিয়া মেম্বারকে বাল্য বিয়ে বন্ধ করার জন্য ওই বাড়িতে পাঠানো হয়। এরপরও অপ্রাপ্ত মেয়ের বিয়ে বন্ধের কোন সূরাহা না হওয়ায় বাধ্য হয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম তালুকদার, সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম ও থানার এসআই আমজাদ হোসেনের নেত্বত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠান। এ সময় উপায়ন্তর না দেখে আগত বর যাত্রীরা পুলিশ দেখে পালাতে শুরু করে। তখন মেয়ের মা ছালেহা বেগম ও মেয়ের ভাই সিঙ্গাপুর প্রবাসী মোশাররফ হোসেনের কাছ থেকে শর্তসাপেক্ষে মুচলেকা নিয়ে বিয়ে বন্ধ করা হয়। মুচলেকায় উল্লেখ করা হয়, খাদিজা আক্তারের বিয়ে সাবালিকা হওয়ার পর হবে। উক্ত ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply