দেবিদ্বারে আওয়ামীলীগের দ্বন্দ্বে সেই গরুটি পাচঁ বছরেও কাঙালদের ভাগ্যে জুটলনা !

মোঃ আমির হোসেন আমু :–

বঙ্গবন্ধুর ৩৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে কাঙালদের জন্য আনা আলোচিত সেই গরুটি সরকারের শেষ মূহুর্তে ৩৮তম শোক দিবসেও কাঙালদের ভাগ্যে জুটেনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ১৫আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর ৩৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রাজি মোহাম্মদ ফখরুল উপজেলার ১৫ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার জন্য ১৬টি গরু ইউনিয়ন আ’লীগ নেতাদের মধ্যে বিতরণ করেছিলেন। উপজেলা আ’লীগের অনুমোদন না থাকায় ওই গরুগুলি ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন স্থানীয় সাংসদ ও সরকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কীত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম গোলাম মোস্তফা। সাংসদের নিজ ইউনিয়ন থেকে ফেরত আসা গরুটি গত পাঁচ বছর ধরে উপজেলা পরিষদ মাঠে বিচরণ করে দলীয় প্রতিহিংসা ও কোন্দলের স্বাক্ষী হয়ে আছে। সেই গরুটি (২০১৩সালের ১৫আগষ্ট) ৩৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে জবাই করে কাঙালী ভোজের আয়োজন করার কথা থাকলেও দলীয় অনুমতি পায়নি।
দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রাজি মোহাম্মদ ফখরুল কাঙালী ভোজের আয়োজনে গরুটি আজ জবাই করার বিষয়ে নিশ্চিত করলেও দলিয় সিদ্ধান্ত না থাকায় গরুটি আর জবাই হচ্ছেনা, কবে কখন কিংবা আদৌ গরুটি কাঙালদের ভাগ্যে জুটবে কি না সে বিষয়েও নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছিনা।
এ ব্যাপারে উপজেলা আ’লীগ সভাপতি আলহাজ্ব জয়নুল আবেদীন জানান, একই দিনে কাঙালী ভোজ করলে উপজেলা নেতৃবৃন্দ সকল ই্উনিয়নে উপস্থিত থাকতে পারেন না, তাই কেন্দ্রীয় ভাবে ১৫আগষ্ট উপজেলা সদরে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যারা স্ব স্ব উদ্যোগে কাঙালী ভোজ করবেন তারা ১৫ আগষ্টের পর ৩০আগষ্টের মধ্যে করতে পারবেন। তবে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন নেতার দাবীর প্রেক্ষিতে ১৫আগষ্টে কাঙালী ভোজ স্থানীয় ভাবে করার অনুমতি দিয়েছি।
আ’লীগ কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, সাবেক সাংসদ ও উপ-মন্ত্রী এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মূন্সী বুধবার সেল ফোনে জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৩৪তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন উপলক্ষে আমার পুত্র দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রাজি মোহাম্মদ উপজেলার ১৫ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার জন্য ১৬টি গরু ইউনিয়ন আ’লীগ নেতাদের মাধ্যমে বিতরণ করেছিল। আ’লীগ উপজেলা কমিটির অনুমোদন না নিয়ে গরু বিতরন করায় স্থানীয় সাংসদ গরুগুলি ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশ উপেক্ষা করে সকল ইউনিয়নে কাঙালীভোজ হলেও সাংসদের নিজ ইউনিয়ন বড়শালঘর থেকে ১টি গরু ফেরত আসে। সেটি ৩৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে জবাই করার ইচ্ছা থাকলেও আ’লীগ উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্তের কারনে এবারো তা সম্ভব হলনা।
আ’লীগ উপজেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাষ্টার কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এবার কাঙালী ভোজ হবে উপজেলা কেন্দ্রীক, গ্রাম বা ইউনিয়ন পর্যায়ে কেউ কাঙালী ভোজের আয়োজন করতে হলে ১৫আগষ্টের পরে করতে হবে। এ সিদ্ধান্ত কাঙালদের ভোজে বঞ্চিত করার সামিল, কারন ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাঙালরা ১০০/২০০টাকা খরচ করে উপজেলা সদরে ৫০টাকার খিচুরি খেতে আসবেন না। আসলেও দলীয় সিদ্ধান্ত মানতে নেতা-কর্মীরাই আসবেন। আমি ব্যক্তিগত ভাবে যে সমস্ত গরিব মানুষগুলো উপজেলা সদরে এসে কাঙালী ভোজ খেতে পারবেন না, তাদের জন্য প্রতি ইউনিয়নে ১০হাজার টাকা করে পাঠিয়ে দিয়েছি। বিতর্ক এড়াতে সেই গরুটিও জবাই করা থেকে বিরত থেকেছি।
এব্যাপারে স্থানীয় সাংসদ ও সরকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কীত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম গোলাম মোস্তফার সাথে যোগাযোগ করেও কথা বলতে পারিনি তবে তিনি পূর্বে এ বিষয়ে কথা বলার সময় জানিয়েছিলেন, এটা কমিটির সিদ্ধান্ত, কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাঙালী ভোজ করতে চাইলে তা কমিটির পূর্বানুমতি নেয়ার প্রয়োজন ছিল।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply