এবারো ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত ডেসটিনির ৪৫ লাখ গ্রাহকের পরিবার

কুমিল্লাওয়েব :–

এবারো ঈদ আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে ডেসটিনির ৪৫ লাখ ডিস্ট্রিবিউটর ও তাদের পরিবার-পরিজনের। গত বছরও একইভাবে সংকটের মুখে পবিত্র ঈদ পালন করতে হয়েছে এসব লোককে। কোনো অভিযোগ ছাড়াই ডেসটিনির শীর্ষনেতাদের গত প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে আটক রাখা, ব্যাংক হিসাব বন্ধ এবং সকল সম্পদ সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার কারণে এসব গ্রাহক ও তাদের পরিবার-পরিজন চরম দুঃসহ জীবনযাপন করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত প্রায় এক বছর আগে অর্থ পাচার এবং অর্থ আত্মসাতের কথিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে তদন্তের নামে বাংলাদেশ ব্যাংক, সমবায় অধিদফতরসহ বেশ কটি সরকারি সংস্থা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সবগুলো সংস্থা বলছে ডেসটিনির কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে আর্থিক অনিয়ম তদন্ত কাজে নিয়োজিত বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। সর্বশেষ দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের মামলায়ও তেমন আর্থিক অনিয়ম না পাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এ কারণে দুদক দীর্ঘ সময় পরও মামলার চার্জশিট দিতে পারছে না। ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের ষড়যন্ত্রের জাল সরকারের শীর্ষ মহলকেও অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যে কারণে ডেসটিনির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তারা অসহায় হয়ে পড়েছে। কোনো অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ অমানবিকভাবে ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও পরিচালক মোহাম্মদ হোসাইনসহ অন্যদের অন্যায়ভাবে জেলে আটক রাখা হয়েছে। আর এ অবস্থায় ডেসটিনির ৪৫ লাখ ডিস্ট্রিবিউটর ও তাদের সবিধাভোগী প্রায় ২ কোটি লোক এখন অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গত এক বছরে এসব ডিস্ট্রিবিউটরের সবাই বেকার জীবনযাপন করছেন। অনেকে অভাবে জমিজমা বিক্রি করে কোনো রকমে দিনাতিপাত করছেন। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে না পারায় অনেকে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। সরকারের একটা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন প্রায় ২ কোটি মানুষ। এদের রুটি-রুজির ওপর সরাসরি আঘাত করা হয়েছে কোনো রকম সুযোগ না দিয়েই। সরকারের পক্ষে বারবার দুর্নীতির কথা বলা হলেও সরকার নিয়ন্ত্রিত সংস্থাগুলো এখনো প্রমাণ করতে পারেনি এসব কথিত দুর্নীতির অভিযোগ। কথিত দুর্নীতির অভিযোগের কারণে দেশের শীর্ষস্থানীয় এ ব্যবসায়ী গ্রুপটির হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের ওপর শকুনের দৃষ্টি পড়েছে। আর প্রায় ২কোটি লোক ঈদকে সামনে রেখে এক যন্ত্রনার সময় পাড় করছেন। পরিবার পরিজনের কেনাকাটা তো দুরে থাক এক বেলা ভাল খাবারের সংস্থান করতেও কষ্ট হচ্ছে তাদের। ডেসটিনির হাত ধরে অজপাড়া গাঁয়ের লাখ লাখ বেকার যুবক যখন আলোর মুখতে শুরু করেছে। স্বাবলম্বী হয়ে উন্নত জীবনযাপন করতে শুরু করেছে তখনই এ মহলটি ডেসটিনিকে ধ্বংস করতে একের পর ষরযন্ত্র করে চলেছে। পবিত্র ঈদে অন্যদের জীবনযাপনে রঙ লাগলেও নিদারুন কষ্টে কাটবে ডেসটিনি সেই মানুষ ও তাদের পরিবারের এটা এখন নিশ্চিত। ডেসটিনিকে ধ্বংসের চেষ্টার প্রতিবাদে গত কয়েক মাসে
দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ কোম্পানি ডেসটিনি গ্রুপের লক্ষাধিক ডিস্ট্রিবিউটরের আহাজারিতে ঢাকার আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়েছে একাধিক বার। দীর্ঘ প্রায় ১ বছর ধরে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত মনুষ্যসৃষ্ট সংকটের কারণে যড়যন্ত্রের শিকার অভুক্ত ডিস্ট্রিবিউটর এবং ডেসটিনি গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশক গভীর আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা পেতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেছে। ৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশকের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ডেসটিনি ডিস্ট্রিবিউটর ফোরামের (ডিডিএফ) নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ডেসটিনিতে এসে লাখ লাখ মানুষ তাদের বেকারত্ব ঘোচাতে সক্ষম হয়েছে। ৪৫ লাখ ডিস্ট্রিবিউটর ডেসটিনিতে এসে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে কিসের স্বার্থে এই কৃত্রিম অভিযোগ। বিরাজমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিকসহ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তারা। ডিডিএফ নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত নই, তবে কেন বলা হচ্ছে জনগণের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা উঠিয়ে নিয়েছে ডেসটিনি কর্তৃপক্ষ। আমরা তো এখানে বিনিয়োগ করেছি লাভের আশায়, লাভবানও হয়েছি; তবে কেন ও কিসের স্বার্থে কৃত্রিম অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা তো কোনো অভিযোগ করিনি। বক্তারা বলেন, আমাদের বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত করতে ও লাখ লাখ ক্রেতা-পরিবেশক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বস্বান্ত করতে ডেসটিনির বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত করা হয়েছে। কুচক্রীমহলের ওই যড়যন্ত্র থেকে ডেসটিনি গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ক্রেতা-পরিবেশকদের রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানান তারা। একইসঙ্গে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) নীতিমালা প্রণয়ন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডেসটিনির ৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশকের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়। দ্রুত এ আইন বাস্তবায়নেরও তাগিদ দেন নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গণমাধ্যমের একটি অংশ তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে এমএলএম ব্যবসাকে অযথা নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে ডেসটিনির বিরুদ্ধে ক্রমাগত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভুল বুঝে ডেসটিনির পরিচালনা পর্ষদসহ জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের হয়রানিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। কিন্তু আমরা যারা ডেসটিনির সঙ্গে গত এক যুগ ধরে কাজ করছি, সেই ৪৫ লাখ মানুষের মধ্যে একজন ব্যক্তিও ডেসটিনির বিরুদ্ধে কোথাও কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, অপপ্রচার করে ডেসটিনির মতো আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে টানা ৭ মাস ধরে যে ব্যাপক অপপ্রচার চালানো হয়েছে, তাতে প্রতিষ্ঠানের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে এর সঙ্গে জড়িত ৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশক ও প্রায় ৩ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং এদের ওপর নির্ভরশীল কোটি মানুষ বিপদের সম্মুখীন। বর্তমান এ পরিস্থিতিতে এদের দায়িত্ব নেবে কে_ প্রশ্ন করেন তারা।
ডিস্ট্রিবিউটর ফোরামের নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা অর্ধাহারে-অনাহারে রয়েছি। আমরা কাজ করে খেতে চাই, দয়া করে কাজ করার সুযোগ দিন। পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা অনাহারে-অর্ধাহারে থাকার অবস্থায় উপনীত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবা অথবা মা গত কয়েক মাস ধরে ব্যবসা করতে পারছে না, বেতন পাচ্ছে না। শূন্যহাতে যখন ঘরে ফেরে তখন সেই বাবা-মায়ের বুকে সন্তানের জন্য যে রক্তক্ষরণ হয় তার বেদনার ভয়াবহতা নির্মম ও নিষ্ঠুর। সন্তানের জন্য দুধ কিনতে না পারার কষ্ট কোনো ভাষা দিয়ে কি বোঝানা যাবে! এরপর পরিবারের জন্য খাবার ও চিকিৎসার জোগান দিতে না পেরে দিগ্বিদিকজ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছি আমরা। অনেকে শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে দিয়েও সংসার চালাতে পারছে না। তারপর বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিলের মতো রয়েছে অতি প্রয়োজনীয় খরচ। এসব কারণে নেমে এসেছে পারিবারিক অশান্তি, সামাজিকভাবেও হতে হচ্ছে হেয়প্রতিপন্ন। আমরা সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা করতে পারছি না। তারা বলেন, কোম্পানির সব পর্যায়ের ক্রেতা-পরিবেশক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাপ্লায়ারসহ সকলেই পারিবারিকভাবে ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে। বকেয়া বাড়ি ভাড়া, গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল, অপরিশোধিত থাকায় চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতদিন যারা নিয়মিত সরকারকে ভ্যাট ও ট্যাঙ্ প্রদান করে আসছিলেন, তারা এ পরিস্থিতির কারণে সরকারকে এ বছর ভ্যাট ও ট্যাঙ্ দিতে পারবেন না বলে জানানো হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, প্রত্যেক ডিস্ট্রিবিউটর প্রতিটি বিক্রীত পণ্যে এবং অর্জিত আয়ের ওপর ওই কর প্রদান করেন। ডেসটিনি এ পর্যন্ত সরকারি কোষাগারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মতো ভ্যাট, ট্যাঙ্ ও সোর্স ট্যাঙ্ প্রদান করেছে বলে জানানো হয়।
কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার ব্যবস্থা নেওয়া হোক; কিন্তু আমাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিলে রাস্তায় নামা ছাড়া কোনো পথ খোলা থাকবে না। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে আমাদের সেলস কমিশন ও বোনাস পাওয়ার নাগরিক অধিকার রয়েছে। কেন ওই অধিহার হরণ করা হচ্ছে তা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চান তারা। তারা অবিলম্বে ডেসটিনি গ্রুপের আটক কর্মকতাদের মুক্তি দাবি করেন।
ডেসটিনির গ্রুপের অর্থনৈতিক কর্মকর্তদের সঙ্গে জড়িত কোটি মানুষের দিকে তাকিয়ে মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত একটি সম্মানজনক সমাধান করতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।

সৌজন্যে– দৈনিক ডেসটিনি

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply