চৌদ্দগ্রামে আগুন ধরিয়ে গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ ॥ পাষন্ড স্বামী পলাতক

জামাল উদ্দিন স্বপন:–
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পাষন্ড স্বামীর বিরুদ্ধে এক গৃহবধুকে হত্যার পর মৃত দেহে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার আলামত নষ্ট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দূর্ভাগা গৃহবধুর নাম জেসমিন আক্তার (৩২)। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের হাজীগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানাগেছে, ওই গ্রামের বতু মিয়ার ছেলে রাজমিস্ত্রী শহিদ উল্লাহর সাথে বিগত ৭/৮ বছর আগে নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্স গন্জ ইউনিয়নের বাগরা গ্রামের আবদুল গফুরের মেয়ে জেছমিন আক্তারের বিয়ে হয়।বিয়ের সময় জেছমিনের পিতা মেয়ের সুখের কথা ভেবে স্বর্ণ গহনা এবং আসবাবপত্র ছাড়াও ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা যৌতুক দেয়। জেসমিনের তুষার নামের ৬ বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
জেসমিনের ভাই এয়াকুব আলী জানান, তার বোন জামাই রাজ মিস্ত্রী সহিদ পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে বিগত ৬ মাস যাবত তার বোনকে যৌতুকের অজুহাতে এবং বিভিন্ন ছুতো-নাতা ধরে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। তার পরকীয়ার ঘটনা নিয়ে একাধিকবার শালিশ দরবার হয়েছে বলেও সে জানায়। বৃহস্পতিবার রাতে শহীদের পরকীয়ার ঘটনা নিয়ে জেসমিনের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে শহিদ পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে স্ত্রী জেসমিনকে হত্যা করে। হত্যার ঘটনা ভিন্নখাত প্রবাহিত করতে ভোর রাতে শহীদ জেসমিনের লাশ বাড়ির ২’শ গজ অদূরে পুকুর পাড়ে নিয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার পর থেকে স্বামী শহিদ উল্লাহসহ তার আত্মীয় স্বজনরা পলাতক রয়েছে।
স্থানীয় লোকজন ভোরে জেসমিনের অগ্নিদগ্ধ লাশ পুকুর পাড়ে পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি তদন্ত আকুল বিশ্বাস ও এস আই মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি ইসমাইল মিঞা জানান, লাশ ময়না তদন্তের জন্য থানায় আনা হয়েছে। আজ শনিবার ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। জেসমিনের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দােেরর প্রস্তুতি চলছে। পরিবারের লোকজন পলাতক, তদন্তক্রমে বিস্তারিত জানা যাবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply