আরপিও সংশোধন মানবে না বিএনপি : এমকে আনোয়ার

ঢাকা :–

আরপিও সংশোধন করে একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দিয়ে নির্বাচন করতে চাইলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার বলেছেন, আইন সংশোধন করে একতরফা নির্বাচন করতে চাইলে নির্দলীয় সরকারের দাবির সঙ্গে নির্দলীয় নির্বাচন কমিশনের দাবিও যোগ হবে।

তিনি বলেন, এ ধরনের তুঘলকি আইন বিএনপি মানবে না।

বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনো কথা বলেননি।

এমকে আনোয়ার অভিযোগ করেন, সরকারের কয়েকজন আজ্ঞাবহ লোক দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। তারপরও আমরা তাদের কাজ দেখে মূল্যায়ন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যেভাবে তারা অগ্রসর হচ্ছে তাতে দেশের মানুষকে হতাশ করেছে।

তিনি বলেন, এর আগে নির্বাচন কমিশন যে কোনো আইন পরিবর্তন করলে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের সঙ্গে আলোচনা করে করতো। কিন্তু এবার কোনো দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে নিজেরা বেশ কিছু গুরুতর পরিবর্তন করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় এসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ৯১-ই ধারা মতে নির্বাচনকালীন কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ আইন ভঙ্গ করলে প্রার্থীতা বাতিল করতে পারতো। কিন্তু এটা বাতিল করে সংশোধনী আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যুক্তি দেখিয়েছে যে এই আইন কখনো প্রয়োগ হয়নি। তাই এর প্রয়োজন নেই। তারা আরও যুক্তি দেখিয়েছে এ ধরনের আইনে একজন প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল হলে পুরো নির্বাচন বাতিল হয়ে যাবে।

এমকে আনোয়ার বলেন, ১৯ ধারায় বলা আছে প্রার্থীতা বাছাইয়ের পর যাদের মনোনয়ন বৈধ হবে সেই সব প্রার্থীদের মধ্যে কেউ যদি মারা যায় তাহলে পুনঃ নির্বাচন হবে। কিন্তু প্রার্থীতা বাতিলের ক্ষেত্রে যে আইন রয়েছে এটা ভিন্ন বিষয়।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রার্থীতা বাতিলের ক্ষমতা রহিত করে নির্বাচন কমিশন যে সংশোধনী আনতে যাচ্ছে এটা নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নয়। একজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত অন্যদিক থেকে এসেছে। উপরের লেভেল থেকে করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের সংশোধনী উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এটা করা হলে নির্বাচনের সময় ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে গেলেও নির্বাচন কমিশন কিছু করতে পারবে না।

তিনি বলেন, ২২ ধারা মতে মন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, হুইপ, উপ হুইপ নির্বাচন করতে পারবে না। কিন্তু এবারের সংশোধনীতে দলীয় প্রধান তার মনোনীত ২০ জন যাদের মধ্যে মন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, হুইপ, উপ-হুইপ নির্বাচন করতে পারবেন। পৃথিবীর কোনো দেশে এ ধরনের তুঘলকি আইন আছে কি না আমার জানা নেই।

এমকে আনোয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একটি দল যারা তলিয়ে যাচ্ছে তাদের উত্তোলনের জন্য ষড়যন্ত্র করলে নির্বাচন কমিশন নিজেরা অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে। এতে দেশে কোনো বড় রকমের অঘটন সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে।

কাদের স্বার্থে এ ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে এমকে আনোয়ার বলেন, যাদের ওপর এখনো কোনো আইন প্রযোজ্য হয় না তাদের স্বার্থেই এই সংশোধনী আনা হচ্ছে।

বাৎসরিক আয় ব্যয়ের হিসাব জমা

এদিকে বুধবার সকালে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে দলের বাৎসরিক আয় ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়।

এই দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহ দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করীম শাহীন ও আমিনুল হক।

তারা নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে এই হিসাব জমা দেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply