মুরাদনগরে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে ৪ বছর ধরে সম্মানী ভাতা ভোগ করার অভিযোগ!

মো. হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর (কুমিল্লা):–

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের পরমতলা গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেনের ছেলে খোরশেদ আলম ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে বিগত ৪ বছর যাবত অবৈধ ভাবে সম্মনী ভাতা ভোগ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর নিকট লিখিত অভিযোগ করলেও রহস্যজনক কারণে কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খোরশেদ আলম মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউপি সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত সময়ে সে ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন উপায়ে কাগজপত্র সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেকে জাহির করেন। পরবর্তীতে তিনি ইউপি সচিবের বেতন-ভাতা পাওয়া সত্বেও ২০০৯ সালের জুলাই মাস থেকে অবৈধ ভাবে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতাও ভোগ করছে (যার সম্মানী ভাতা বহি নং-৬৩৯)। বিষয়টির খবর পেয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন ভাবে এর প্রতিবাদ করেও কোন ফল না হওয়ায় চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টির ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, দূর্নীতি দমন কমিশনের মহা-পরিচালক, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, দূর্নীতি দমন কমিশনের কুমিল্লার উপ-পরিচালক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতৃা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নিকট অনুলিপি প্রেরণ করেন। সে আলোকে পরমতলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ও গন্যমান্য ব্যক্তি মোহাম্মদ আলী, হাইদর আলী, আলী হোসেন ভুইয়া, আব্দুল বাতেন, আবুল কালাম, শহিদুর রহমান, সফিকুল ইসলাম, সুজাত আলী, মোহাম্মদ আলী ও আব্দুল জলিল স্বাক্ষরিত একটি তদন্ত প্রতিবেদনে তথাকতিথ নামধারী মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম যুদ্ধকালীন সময়ে দীর্ঘ ৯ মাস কোথাও না গিয়ে নিজ বাড়ি পরমতলা গ্রামে অবস্থান করেছিলেন মর্মে উল্লেখপূর্বক একটি অঙ্গীকার নামা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নিকট দাখিল করেন। পরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এডভোকেট শামসুল হক ফিরোজ এর নেতৃত্বে বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করার জন্য গত ৫ জুলাই পরমতলা গ্রামে যান। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল মোমেন, হানিফ মিয়া, সফিকুল ইসলাম, বাচ্চু মিয়া, হাবিবুর রহমান, আব্দুল আলীম ও রেহান উদ্দিনসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজন উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ কালে তথাকতিথ নামধারী মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম জানান এবং লিখিত বক্তব্য দেন যে, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে আব্দুল বারেকসহ কিছু লোকের সাথে সে ভারতের পালাটানা যান এবং মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭২ সালের ফেব্র“য়ারি ও মার্চ মাসে দেশে চলে আসে। এ সময় সে প্লাটুন কমান্ডারের নাম বলতে পারিনি। তার এ ধরনের বক্তব্যে সে যে একজন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা তদন্তকালে এর সত্যতা পান বলে জানা গেছে। একই সাথে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে সহসাই প্রদক্ষেপ নিবেন বলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এডভোকেট শামসুল হক ফিরোজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা দাবিদার ও পাহাড়পুর ইউপি সচিব খোরশেদ আলম জানান, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে আব্দুল বারেকসহ কিছু লোকের সাথে ভারতের পালাটানা যাই এবং মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭২ সালের ফেব্র“য়ারি ও মার্চ মাসে দেশে চলে আসি। শুধু আমি নয়, আমার মতো এমন অনেক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। তারাও সম্মানী ভাতা পাচ্ছে।
বিষয়টির ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান খান জানান, এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ আমি পাইনি। পাইলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা খোন্দকার আব্দুস সালাম জানান, যাচাই-বাছাই করেই তাকে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা দেয়া হয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply