অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে-সমবায় সমিতি

—–কাজী কোহিনূর বেগম তিথি

বিশ্বের যে দেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে যত স্বয়ংসম্পূর্ন সেইদেশ তত উন্নতির দিকে ধাবিত হয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এখনও দারিদ্রের তালিকায় আছে। এই দারিদ্রতা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে দেশের জনগনকেই সচেষ্ট হতে হবে। শুধু সরকারের উপর নির্ভরশীল হলে হবে না। এক্ষেত্রে দেশের প্রতিটা মানুষকে প্রথমে সমবায়ী হতে হবে মন মানষিকতায়। একা কোন কাজ করা থেকে সমবেতভাবে কোন কাজ করলে সফলতা বেশী আসে। ICA Congress of persons united voluntarity for the fulfillment of their common economic, social and cultural needs and aspiration through a jointly owned and democratically controlled enterprise.

তাই দারিদ্রতা বিমোচনে সমবায় সমিতির ভূমিকা অনস্বীকার্য। সেজন্য বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকায় পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদেরও সমবায় সমিতি গঠনের দরকার আছে কারন আমাদের দেশের মহিলারা পুরুষদের তুলনায় অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অনেক দরিদ্র।

প্রতি বছর জুলাই মাসের প্রথম শনিবার সারা পৃথিবীতে একযোগে পালিত হয় আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস। এখন আমরা যদি একটু বি¯তারিত আলোচনা করি সমবায় বা সমবায় সমিতি কি ? তাহলে বলা যায় সমবায় হচ্ছে সম্মিলিত কর্ম প্রচেষ্টা অর্থ্যাৎ সকলে মিলে মিশে কাজ করা। সমবায়ের মূল কথা হচ্ছে মিলন , ঐক্য, সহযোগীতা, সমঝোতা ও সহমর্মিতা।”দশে মিলি করি কাজ , হারি জিতি নাহি লাজ ”। All are same, great or small-all for each and each for all- একমাত্র সমবায়ের মাধ্যমেই সার্থকভাবে বলা যায়।

আর সমবায় সমিতি হচ্ছে গনতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত একটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান যার মাধ্যমে এর সদস্যরা তাদের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে থাকে। অর্থ্যাৎ সমবায় সমিতি একটি সাধারন প্রতিষ্ঠান নয়। সমবায় সমিতি এমন একটি জনকল্যান ও উন্নয়ন মূলক আর্থ সামাজিক প্রতিষ্ঠান যার মধ্যে –

*গনতন্ত্র আছে
*অর্থনীতি আছে
*সম্মিলিত প্রচেষ্টা আছে
*সদস্যদের সামাজিক উন্নয়নের বিষয় আছে।
সমবায় সমিতির মূখ্য উদ্দ্যেশ্যই হচ্ছে সম্মিলিতভাবে সংগঠনের আওতায় সদস্যগনকে সমবায়ের ৭টি মৌলিক চেতনায় ( সঞ্চয়শীলতা, সততা, সাম্য, সংহতি, সহমর্মিতা, সহযোগীতা ও সহঅবস্থান-৭স) আবদ্ধ করে তাদেও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন সহ তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন (Socio – economic Development ) ঘটানো।

এক্ষেত্রে কুমিল্লার দীদার সমিতির কথা উদাহারন-স্বরুপ বলতে পারি। মি: দীদার সমাজের চোর, গুন্ডা, কর্মহীন মানুষদের নিয়ে সমবায় সমিতি গঠন করে তাদের ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের জন্য উৎসাহিত করেন। প্রথমে তাদের বাৎসরিক সঞ্চয় দিয়ে রিক্সা ক্রয় করেন- এভাবে যতগুলো সদস্য ততগুলো রিক্সা ক্রয়ের পর- বাৎসরিক অতগুলো রিক্সার আয় দিয়ে বাস ক্রয় করে দেন-এভাবে প্রতিটি সদস্য ১টা করে বাসের মালেক হয়ে যা একসময়। এবং আ¯েত আ¯েত তারা তাদের খারাপ পেশা থেকে সরে আসে। সুতরাং সমবায় সমিতির মাধ্যমে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন সম্ভব।

আবার আমি যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকর্ম ডিপার্টমেন্টে অধ্যায়নরত ছিলাম তখন শেষবর্ষে এসে ”সমবায় সমিতির” উপর একটা গবেষনা পত্র তৈরী করতে হয়েছিল। আমি এবং আমার ১০জন সহপাঠী রাজশাহী সমবায় সমিতি অফিসের মাধ্যমে রাজশাহী রেশম প্রকল্প সমবায় সমিতি অফিসে ষ্টাডী করতে গেলাম । কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের নিয়ে এই সমবায় সমিতি গঠিত। সদস্য সংখ্যা ছিল ৯৬জন। ষ্টাডী করতে যেয়ে আমরা দেখেছি, একবছরের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে – কর্মকর্তা থেকে কর্মচারী সবার ঘরে একটা করে সেলাই মেশিন কিনল। আবার অন্য বছরে দেখা গেল বাৎসরিক লভ্যাংস দিয়ে সবার ঘরে একই জাতীয় ফার্নিচার কিনেছে। এভাবে তারা হাউজিং প্রকল্পের দিকে অগ্রসর হয়েছিল। সমবায় সমিতি সমবন্টনের কথাই শেখায়। তাই বলতে হয়-
সমবায়ী মন
দূর করে কলুষতা
এনে দেয় আলোকিত জীবন
স্বয়ং সম্পূর্নে ভরা-
সুতরাং আমরা যদি প্রতিটি এলাকায় সমবেত হয়ে সমবায় সমিতি গঠন করি। তাহলে দেশ একদিন অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সংকটমুক্ত হবে বলে আমি আশা করি।

house # 274, 1st floor, right side,near sun flower school, koshai bazer, molar tak, ashkona, doxin khan, Dhaka- Bangladesh.
kazitithi@gmail.com
01712351243,01929738307

Check Also

মাদকসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারকেই জোরালো ভূমিকা নিতে হবে

—-মো. আলীআশরাফ খান লেখার শিরোনাম দেখে হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেন, কেনো লেখাটির এমন শিরোনাম দেয়া ...

Leave a Reply