৩জন ডাক্তার ও র্নাস দিয়ে চলছে ৫০ শয্যা নাসিরনগর হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ॥ বিরাজ করছে অচলাবস্থা

আকতার হোসেন ভুইয়া,নাসিরনগর(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) :–

বর্তমান সরকার চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁেছ দেয়ার জোর প্রচেষ্ঠা চালালেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স সংকটে ৩১ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্য্রটিতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এ হাসপাতালটি ২০০৪ সালে ৩১ শয্যা থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্য্রটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাস্তবে সেবাদানের ক্ষেত্রে কোন প্রকার উন্নতি ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায, ৫০ শয্যা হাসপাতালে ২১ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ১৮ জন ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে । মাত্র ৩ জন ডাক্তার কর্মরত রয়েছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এ উপজেলার মানুষের একমাত্র ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্ল্রেক্স। অথচ এ হাসপাতালে প্রায় সময় ইনডোরে ৬০/৭০ জন রোগী ভর্তি থাকে এবং আউটডোরে ৩/৪শ রোগী চিকিৎসা দিতে আসে। বিশেষ করে গাইনি কোন ডাক্তার না থাকায় মহিলা রোগীদের চরম দূভোর্গ পোহাতে হচ্ছে । চিকিৎসক সংকটের কারনে প্রযোজনীয় স্বাস্থ্য সেবা মিলে না এ উপজেলার মানুষের। ৫০ শয্যা হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হলেও এর চিকিৎসা সেবার মান সেকেলেই রয়ে গেছে। সাড়ে তিন লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত নাসিরনগর জনপদে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্য্রসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে ১টি পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ৩টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ৮টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র রয়েছে । এসব কেন্দ্রে চিকিৎসক,কর্মচারি ,ওষুধ ও যন্ত্রপাতির স্বল্পতা, বিদুৎ,পানি ,স্যানিটেশন সমস্যা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, জরার্জীণ অবকাঠামো, চিকিৎসক ও কর্মচারিদের আবাসিক সংকট, ব্লাড ব্যাংক না থাকাসহ নানাবিধ সংকটে উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য সেবা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে সরকার ঘোষিত সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা এ উপজেলায় অধরাই বলা চলে। এখানে দূর্গম ৬টি ইউনিয়নসহ দুর-দুরান্ত থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে অসহনীয় দূভোর্গের শিকার হচ্ছে রোগীরা । একাধিক সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ডাক্তারের পরির্বতে চিকিৎসা দিচ্ছে হাসপাতালের পিয়ন আর ওয়ার্ড বয়রা। ফলে সব সময় রোগীরা মুত্যুর ঝুঁকির আশংকায় থাকেন। বর্তমানে উপজেলা কমপ্লেক্য্রে ২১ জন ডাক্তারের স্থলে রয়েছে মাত্র ৩ জন ডাক্তার। এর মধ্যে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, জুনিয়র কনসালটেন্ট(মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (স্যার্জিকেল), জুনিয়র কনসালটেন্ট(এ্যানেসথেসিয়া), জুনিয়র কনসালটেন্ট ( গাইনি এন্ড অবস),জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু) , জুনিয়র কনসালটেন্ট ( শিশু), জুনিয়র কনসালটেন্ট(কার্ডিওলজী), জুনিয়র কনসালটেন্ট( চর্ম ও যৌন) , জুনিয়র কনসালটেন্ট( নাক কান গলা) , জুনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি), জুনিয়র কনসালটেন্ট( ডেন্টাল),মেডিক্যাল অফিসার (ইওসি) ও ৩জন মেডিক্যাল অফিসারসহ ১৮চিকিৎসকের পদ শূণ্য থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ডাক্তার না পেয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। এদিকে হাসপাতালে বর্তমানে ১৬ জন নার্সের স্থলে মাত্র ৩ জন কর্মরত রয়েছে ।
মাত্র ৩ জন সেবিকা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। নার্স সংকটের ফলে কতিপয় আয়া রোগীকে স্যালাইন থেকে শুরু করে ইনজেকশন পুশ করে থাকে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবু ছালেহ মোঃ মুসা খান ডাক্তার ও নার্স সংকটের কথা স্বীকার করে জানায়,আমিসহ মাত্র ৩ জন ডাক্তার থাকায় হিমসিম খেতে হচ্ছে। তাছাড়া ব্যক্তি বিশেষের কারণে যেকোন সময় আমারও বদলির আদেশ আসতে পারে। বর্তমানে স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স দিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম এতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply