কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা সেশনজট আতঙ্কে : অচলাবস্থা কাটেনি

রাসেল মাহমুদ,কুবি থেকে :–

বিভিন্ন দাবীতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ এবং প্রগতিশীল শিক্ষক জোটের মুখোমুখী অবস্থান এবং প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কারণে গত দশ দিন ধরে চরম অচলাবস্থা বিরাজ করছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি)।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য ড. আমির হোসেন খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারিতা সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে প্রগতিশীল শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক জোট বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামানের বহিস্কারের দাবিতে গত বুধবার উপাচার্যকে ৭২ঘন্টা সময়সীমা বেঁধে দেয়। আজ এ সময়সীমা শেষ হলেও তাদের কোন দৃশ্যমান কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

প্রগতিশীল শিক্ষক জোটের অভিযোগ বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ড. জি এম মনিরুজ্জামান শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী ও বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী এজন্য তাকে শিক্ষকতা ব্যতীত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিচারের আওতায় আনতে হবে। বুধবার থেকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ড. জি. এম. মনিরুজ্জামানকে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রাধ্যক্ষের পদ সহ সকল প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি না দিলে প্রগতিশীল শিক্ষক জোটের সকল সদস্য তাদের বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিবে বলে জানানো হয়। আজ রোববার প্রগতিশীল শিক্ষক জোটের বেঁধে দেয়া সময়সীমা শেষ হলেও কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

এদিকে ১৩ দফা দাবি না মানায় উপাচার্যকে প্রত্যাহারের এক দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ। গত কয়েক দিন ধরে প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেওয়ার কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে চরম অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই রকম অবস্থানে শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে একাধিক শিক্ষার্থী জানান। শিক্ষার্থীরা জানান এক রকম অঘোষিতভাবে কিছু শিক্ষক ক্লাস বর্জন করছেন। এমতাবস্থায় সেশনজট আতঙ্কে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিবাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোসের সৃষ্টি হয়েছে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী বলেন,“বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে আন্তরিকতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে বলেই তারা ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা না ভেবে ক্লাশÑপরীক্ষা বন্ধ রেখে অপরাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন, আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদের।”

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার জন্য উপাচার্য দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে উপাচার্য ড. আমির হোসেন খানের কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই থেকে উপাচার্য ড. আমির হোসেন খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে আন্দোলন করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বঙ্গবন্ধু পরিষদ।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply