বরুড়ায় পল্লীবিদ্যুতের ভৌতিক বিলে গ্রাহকরা হয়রানির শিকার

কামরুজ্জামান জনি, কুমিল্লা প্রতিনিধি:–

সম্প্রতি কুমিল্লা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন বরুড়া উপজেলায় ভৌতিক বিলের ছড়াছড়ির কারণে গ্রাহকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে বিভিন্ন স্থানে লাঞ্চিত হতে হচ্ছে মিটার রিডারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা।
জানা যায়, কুমিল্লা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বরুড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আবুল বাশার চলতি বছরের ২৭ মার্চ যোগদানের পর থেকেই সীমাহীন লোডশেডিং ও ভৌতিক বিলে গ্রাহকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এব্যাপারে গ্রাহকদের অভিযোগ বিদ্যুৎ অফিসের উর্ধ্বতন কর্তার কাছে অবহিত করার পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়ায় স্থানীয় আমড়াতলী বাজারে গ্রাহকরা কয়েকদফা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। পৌরসভা এলাকায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও পৌরসভার বাইরে মাত্র ৫/৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকছে। কোন এলাকার বিদ্যুৎ লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে বা কোন সমস্যা হলে ফোন করেও বিদ্যুৎ অফিসের কাউকে পাওয়া যায় না।
কোন গ্রাহক মাসে ৩০ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে ওই গ্রাহকের বিলে ৪০ ইউনিট এবং ৬০ ইউনিট ব্যবহারকারীকে ১০০ ইউনিট ভৌতিক বিল করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে যা সমিতির নিয়ম বহির্ভূত। সরকার যেখানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা বলেছেন সেখানে ডিজিএম কম ব্যবহারকারীদের জরিমানা করছেন। উপজেলার ঝলম গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে মো. বাচ্চু মিয়া জানান, আমি গতমাসে ৬০ ইউনিট ্িবদ্যুৎ ব্যবহার করলেও বিলে ১০০ ইউনিট লিখে বিল করা হয়েছে। একই ভাবে সিংগুর গ্রামের বিষু ১৫ ইউনিটের স্থলে ৪০ ইউনিট, কৃষ্ণপুর গ্রামের কবির মোল্লা, আমিন মোল্লা, আবু মোল্লা, রহিম পাটোয়ারী, ফজলুল হক ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও তাদের বিলে ৪০ ইউনিট করা হয়েছে। এ ধরণের কয়েকশ গ্রাহকের নিকট থেকে অতিরিক্ত বিল আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ডিজিএমকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, একজন গ্রাহক প্রতিদিন কমপক্ষে ১ ইউনিট করে ব্যবহার করলে মাসে ৩০ ইউনিট হয়। তাই ৩০ ইউনিটের কম বিল আসলে তার মিটারে ত্রুটি মনে করে সমন্বয় বিল ৪০ ইউনিট ধরা হচ্ছে। বরুড়া জোনাল অফিসের কয়েকজন মিটার রিডার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, ডিজিএম এর এসব অনিয়মের কারণে তারা প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের হাতে লাঞ্চিত হচ্ছেন। এ ব্যাপারে কুমিল্লা পল্লী্িবদ্যুৎ সমিতি-১ চান্দিনা জোনাল অফিসের জেনারেল ম্যানেজার নজরুল ইসলাম খান এই প্রতিবেদককে জানান, মিটারে যে পরিমান ইউনিট আসবে গ্রাহককে ওই পরিমান বিল পরিশোধ করতে হবে। এখানে অতিরিক্ত বিল সমন্বয় করার কোন নিয়ম নেই। তবে মিটারে ত্রুটি থাকলে মিটার পাল্টিয়ে নিতে হবে এবং সেক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বিল দেখে সমন্বয় বিল করার নিয়ম রয়েছে। বরুড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম নিয়ম বর্হিভূত কোন কাজ করলে অভিযোগ পেলে আমি ব্যবস্থা নেব।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply