সোনারগাঁও ভূমি অফিসে অগ্নিকান্ড আতংক-গাফ্ফার বদলী হলেও শংকা কাটেনি

আজিম উল্যাহ হানিফ:–

নারায়নগঞ্জের সোনারগাও ভূমি অফিসে পরপর দু’দফা নাশকাতামুলক অগ্নিকান্ডে ফাইল পুড়ে ছাঁই হয়ে যাওয়ায় প্রধান সহকারী আবদুল গাফ্ফারের তাৎক্ষনিকভাবে বদলী হলেও এখনো শংকা কাটেনি। জনমনে আরো বড় ধরনের অগ্নিকান্ডের আশংকা বিরাজ করেছে। প্রথম দফা আগুন লাগার ঠিক ১২ দিনের মাথায় দ্বিতীয় দফা আগুন। বিষয়টি এলাকাবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। প্রথম দফায় অগ্নিকান্ড ঘটিয়েছে নাজির কাম ক্যাশিয়ারের রুমে, আর দ্বিতীয় দফায় প্রধান সহাকারী আবদুল গাফ্ফারের রুমে। বিশেষভাবে মিস কেইসের ফাইলগুলো প্রধান সহকারীর রুমে সংরক্ষিত থাকে। শুনানীর দিন ফাইগুলো এসিল্যান্ডের নিকট উপস্থাপন করেন। একাধিক সূত্রে জানা গেছে সোনারগাও ভূমি অফিস ছিলো দুর্নীতিবাজদের অভয়ারন্য। এ অভয়ারন্য ভাঙ্গার জন্য যমদূত হিসেবে আবির্ভূত হয়ে এসিল্যান্ডের দায়িত্বে যোগদেন কে এম আল আমীন। প্রথমে দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত না করলেও চিহ্নিত করেছেন দুনীর্তির ক্ষেত্র। বন্ধ করার আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বার বার বাধায় পড়ছেন দুর্নীতিবাজদের ষড়যন্ত্রে। এখানে একমাত্র এসিল্যান্ড কে এম আল আমীন ছাড়া প্রতিটি ইটের কনা পর্যন্ত হা করে বসে থাকে টাকার জন্য। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক মামলার শুনানীর তারিখ ধার্য্য থাকে। এতে বাদী এবং বিবাদী থেকে গাফ্ফার তার পিয়ন নাজমুলের মাধ্যমে ২০০/= হারে হাজিরা বাবদ আদায় করে। প্রতিদিন এ খাতে অবৈধ আয় বিশ হাজার টাকা। এ টাকা আদায় বন্ধ করার জন্য কে এম আল আমীন নির্দেশ দেন। ২/১ দিন বন্ধ থাকার পর এসি ল্যান্ডের চোখকে ফাঁকি দিয়ে আবার আদায় শুরু করেন। এসিল্যান্ডের সততা দেখে জনসাধারন মুগ্ধ হয়ে তাকে মনে প্রানে দোয়া করেন। অনেকেই তাকে শুধু কর্মকর্তা নহে রাষ্ট্রেরও সম্পদ মনে করেন। কে এম আল আমীনের মত সৎ কর্মকর্তা প্রতি উপজেলায় একজন করে থাকলে সত্যিই এদেশ সোনার বাংলায় পরিনত হবে বলে জনগন মনে করেন। সোনারগাও উপজেলায় যোগ দিয়েই নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেড এর দায়িত্ব থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে জীবনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। সে সময় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। কিন্তু ধোপে টিকেনি। তবুও পিচ পা হননি। দুর্নীতিকে রোধ করার জন্য এবং সততা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জীবনের ঝুঁকি নিতেও দ্বিধা করেন না আল আমীন- যার অর্থ বিশ্বাস। বিশ্বাসের সহিত এগিয়ে চলেছেন কিন্তু তাঁকে বেকায়দায় ফেলতে দুনীতিবাজ ও ষড়যন্ত্রকারীরা একের পর এক অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তার সততার কাছে সকল কিছুই হার মানছে। কে এম আল আমিনকে ম্যানেজ করার জন্য কড়কড়া টাটকা নোটের বান্ডিলের গন্ধ তার নাকের ডগায় ঘোরাচ্ছে জমি ব্যবসায়ী মাফিয়া চক্র, কোনভাবেই লোভে ফেলতে নাে পেরে অস্ত্র কোমরে নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গিভঙ্গিতে প্রদর্শন করে ভয়ভীতি লাগিয়ে মাফিয়াদের পক্ষে আদেশ নেওয়ার চেস্টা চালালেও লোভ এবং রক্তচক্ষু প্রদর্শনকে উপেক্ষা করে তিনি ন্যায় সঙ্গত আদেশ দিচ্ছেন। বর্তমানে মাফিয়া জমি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পলিসিতে ব্যর্থ হয়ে এখন কে এম আল আমিনকে সোনারগাও উপজেলার ভূমি অফিস থেকে সরানোর প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। কিন্তু আল আমিন মানসিকভাবে প্রস্তুত আছেন যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায়। তবুও লোভ এবং ভয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন না। তাই তিনি এখন সৎ কর্মকর্তা হিসেবে শুধুু সোনারগাও সীমাবদ্ধ নয় সারাদেশে ব্যাপী পরিচিতি পেয়ে প্রশংসিত হচ্ছেন।
সোনারগাও ভূমি অফিসে প্রধান সহকারী গাফ্ফার, কানুনগো আতিকুর রহমান মজুমদার ও সার্ভেয়ার মোঃ জিল্লুর রহমান একই সুতোয় গাঁথা। তারা দালাল সৃষ্টি করে ভূয়া দলিল সৃজন করিয়া নামজারির জন্য মিস মামলা দায়ের করায়। দলিল পত্রের এভিডেন্স না থাকলেও তথ্য গোপন রেখে সার্ভেয়ারকে তদন্ত করে রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশের ব্যবস্থা করে। এরই সুযোগ সার্ভেয়ার মোঃ জিল্লুর রহমানের এলাকায় পড়লে তার একের কাঁটা। আর অন্য সার্ভেয়ারের আওতাধীন হলেও সমস্যা নাই। মোটা অংকের চুক্তির বিনিময়ে প্রকৃত রিপোর্ট পাল্টে তার মনমতো রিপোর্ট দেয়া তার জন্য একদম সহজ। কারন ফাইল থাকে প্রধান সহকারী আবদুল গাফ্ফারের নিয়ন্ত্রনে। গত কিছুদিন আগে এ রকম কয়েকটি ফাইল নাড়াছাড়া নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটেছে বলে অফিস সূত্রে জানা যায়। অগ্নিকান্ডের নেপথ্যে গোপন সূত্রে জানা যায় সোনারগাও ভূমি অফিসে গত দুই মাস যাবৎ প্রতিদিন একই লোকের আনাগোনা দেখা গেছে, তারা হলেন একজন সোনারগাও উপজেলাধীন সাদিপুর ইউনিয়নের খিদিরপুর গ্রামের মোঃ আজমাত প্রধান। আর তার সাথে থাকতেন তারাবো পৌরসভাধীন মৈকুলী গ্রামের আক্তার হোসেন নামের জনৈক ব্যক্তি। দুইজনের গ্রামের বাড়ী পাশাপাশি। সূত্রে আরো জানা যায় পেশাদার জায়গা জমিন কেনা-বেচার দালাল আজমাত প্রধান এলাকায় ওয়ারিশ সৃষ্ট করে তাদের থেকে ভূয়া পাওয়ার অব এটর্নি নিয়ে নিজ নামে জমাখারিজের চেষ্টা করে। তাই আক্তারের সাথে সার্ভেয়ার জিল্লুর রহমানের ভাল সখ্যতা রয়েছে এ খবর জেনে তাকে সাথী হিসেবে সোনারগাঁও ভূমি অফিসে নিয়ে যায়। জিল্লু গাফ্ফারকে ম্যানেজ করে আজমতের কাজ করে দিবে মোটা অংকের চুক্তি করে। ইতিমধ্যে গাফ্ফার ম্যানেজ (?) সে চেয়েছিল এসিল্যান্ডকে ফাঁকি দিয়ে তার মক্কেলের পক্ষে একটা আদেশ নিয়ে নেবে। কিন্তু এসিল্যান্ড আল-আমীন গভীরভাবে পর্যালোচনা না করে সাধারণত কোন আদেশ দেন না। যখন বুঝতে পেরেছেন আদেশ তাদের পক্ষে যাবে না তখনই ছক আঁকতে থাকেন ফাইলগুলো পুড়ে ফেলার। ঠিক আদেশের আগেই নথিগুলো পুড়ে ফেলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম দফায় নাজির কাম ক্যাশিয়ারের রুমে আগুন লাগিয়ে দ্বিতীয় দফায় নিজের রুমে আগুন লাগিয়ে পোড়ার ব্যবস্থা করেন। উল্লেখ্য গত ৮ ও ১০ই জুলাই যে সকল মিসকেইসের রায় হওয়ার তারিখ ধার্য্য ছিল সে নথিগুলো পুড়ে ফেলেন। এক সাথে অনেকগুলো নথি পুড়ে যাওয়ার নথি সংশ্লিষ্টরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সোনারগাও থানায় মামলা হয়েছে। এখনো রহস্য উৎঘাটন হয়নি। এদিকে অল্পসময়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া অগ্নিকান্ডের মহানায়ক প্রধান সহকারী আব্দুল গাফ্ফারের বদলী হলেও তার অনুসারীদের অবস্থানের কারনে জনমনে আবারো বড় ধরনের অগ্নিকান্ডের শংকা বিরাজ করছে। এছাড়া গাফ্ফারকে পুলিশে সোপর্দ না করে শুধুমাত্র বদলী এ নিয়েও এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply