নাঙ্গলকোটে কর্মসৃজন প্রকল্পের ১ কোটি ১০ লক্ষ ৪ হাজার টাকা হরিলুট

জামাল উদ্দিন স্বপন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:–
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য গৃহীত ৪০ দিনের কর্মসূচিতে পিআইও ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দূনীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় নাঙ্গলকোট উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে ৪৭টি প্রকল্পে গৃহীত ৪০ দিনের কর্মসূচীর জন্য ১ কোটি ১০ লক্ষ ৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। গত ১৩ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু হলেও বৃষ্টির কারনে শ্রমিক না পাওয়ায় অনেক ইউনিয়নে নামমাত্র লোক দিয়ে কাঁচা সড়কে সামান্য কাজ করেই টাকা উত্তোলন করছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ১৫৭২ জন শ্রমিক কাজ করার কথা। বাঙ্গড্ডা ইউপির দাড়াচৌঁ রাস্তা-ছোট সাঙ্গিশ্বর-পদুয়া পর্যন্ত রাস্তা পূণঃনির্মাণ, রামারবাগ দঃ পাড়া- আলী মিয়া মজুমদারের পুকুরপাড় পর্যন্ত রাস্তা পূণঃনির্মাণ, পরিকোট পাকা রাস্তার মাথা-সেমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা পূণঃনির্মাণ, পেরিয়া ইউপিতে মুন্সির কলমিয়া কঃ ক্লিঃ মাঠ ভরাট ও শাকতলী রশিদ ডাক্তারের বাড়ী-বেপারী বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা পূণঃনির্মাণ, রায়কোট ইউপিতে লক্ষিপদুয়া-শরীফপুর পাকা রাস্তার উভয় পাশে এবং দক্ষিন মাহিনী হাজী ছিদ্দিকের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা পুণঃ নির্মাণ, লক্ষিপদুয়া-মাহিনীকুকিরখিল পাকা রাস্তার উভয় পাশে মাটি ধারা পূণঃনির্মাণ, অলিপুর স’মিল-শামীরখিল পর্যন্ত রাস্তা পূনঃনির্মাণ, মক্রবপুর ইউপিতে ভুলুয়াপাড় ব্রিক ফিল্ড-কনকইজ পশ্চিমপাড়া মসজদি পর্যন্ত রাস্তা পূনঃনির্মাণ, বালিয়াপুর মৃধাবাড়ী-আক্কাছের বাড়ী পর্যন্ত পূনঃনির্মাণ, হেসাখাল ইউপিতে বড় দিঘিরপাড়া-বদুমিয়া মার্কেট পর্যন্ত পাকা রাস্তার দু’ পাশে মাটি দ্বারা রাস্তা পূনঃনির্মাণ, তেতৈয়া ব্রিজ-পাপাচৌঁ ওমরগঞ্জ পর্যন্ত পূনঃনির্মাণ, আদ্রা ইউপিতে বেলঘর সাবেক চেয়ারম্যান তোফায়েলের বাড়ী-ঘোষাইপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা পূনঃনির্মাণ, পুজকরা আমান উল্লাহর বাড়ী-আবদুর রহমানের বাড়ী রাস্তা পূনঃনির্মাণ, জ্ড্ডোা ইউপিতে ভবানীপুর-জোড্ডা পর্যন্ত রাস্তা পূনঃনির্মাণ, বাহুড়া প্রাথমিব বিদ্যালয়-বাইয়ারা পাকা রাস্তা পর্যন্ত পূনঃনির্মাণ, ঘোড়াময়দান-গোহারুয়া পাকা রাস্তার উভয় পাশে মাটি দ্বারা রাস্তা পূনঃনির্মাণ, বক্সগঞ্জ ইউপিতে শুভপুর- আজিয়ারা-আলিয়ারা পাকা রাস্তার দু’পাশে মাটি দ্বারা রাস্তা পূনঃনির্মাণ, বাকিহাটি-আজিয়ারা বাজার-বাগরা পূর্বপাড়া আবদুর রহিমের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা পূনঃনির্মাণ ও সাতবাড়িয়া ইউপিতে বাজার ব্রিজ-অষ্টগ্রাম ব্রিজ পর্যন্ত পাকা রাস্তার দু’পাশে মাটি দ্বারা রাস্তা পূনঃনির্মাণ কাজে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে এ সমস্ত প্রকল্পের কাগজ কলমে নাম থাকলেও বাস্তবে কোন কাজ হয়নি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধনকৃত অনুমোদিত উপকারভোগীদের নামে স্থানীয় সোনালী, জনতা, ও অগ্রণী, কৃষিসহ বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে ১০ টাকার বিনিময়ে হিসাব খোলা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মাস্টাররোলের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে সরাসরি শ্রম মজুরি পরিশোধ করার কথা থাকলেও নাঙ্গলকোটে তা মানা হয়নি। ভূয়া মাস্টাররোলের মাধ্যমে শ্রমিকের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ইউপির চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা পিআইও এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে টাকা উত্তোলন করে ভাগ ভাটোয়ারা করে নিয়েছে। ৪০ দিনের কর্মসূচিতে অত্র উপজেলায় ১০% শ্রমিকও কাজে অংশগ্রহণ করেনি। তাছাড়া তালিকায় অবৈধভাবে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবি ও ছাত্রসহ এলাকার বিত্তবানদের নাম অন্তভূক্ত করা হয়েছে। যারা কখনো কাজে অংশ গ্রহণ করেনি, অথচ তাদের নামে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। হেসাখাল ইউনিয়নের আ’লীগ নেতা আবুল কালাম, আবুল হাসেম সহ কয়েকজন জানান বড় দিঘির রাস্তার দু’পাশে মাটি ভরাটের জন্য প্রতিদিন ১৪৪ শ্রমিকের তালিকা নিবন্ধন করা হলেও ১০-১২ জন শ্রমিক কাজে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা শাহআলম ট্যাক কর্মকর্তারা মোটা অংকের উৎকোচের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড মেম্বাররা ভূয়া মাষ্টাররোলের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে। আদ্রা ইউপির ছাত্রলীগের সেক্রেটারী শহিদ, যুবলীগ সভাপতি শাহজাহান, আদ্রা উত্তর আ’লীগ সেক্রেটারী মোশারফ হোসেন জানান কোন রকমের কাজ না করেই ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছে। মক্রবপুর ইউপির আ’লীগ যুগ্ম আহবায়ক জালাল আহম্মদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে দূনীতির অভিযোগ করে ইউএনও নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। চেয়ারম্যান আলী আক্কাছ, আশিকুর রহমান দোলন, গোলাম রসুেলর নিকট কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের সাথে উদ্ধ্যতপূর্ণ আচরণ করে মোবাইল ফোন কেটে দেয়। নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন ট্যাক অফিসার জানান, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় একাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন করলে এত বিপুল পরিমাণ টাকা কেউ আতœসাৎ করতে পারত না। প্রকল্প কর্মকর্তা শাহআলম দূনীতির অভিযোগের কথা অস্বীকার করে বলেন, কয়েকটি প্রকল্পের অনিয়ম দেখা দিলে ভাউচার থেকে টাকা কর্তন করে দেয়া হয়েছে। তবে ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে শ্রমের মজুরী সরাসরি পরিশোধের নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি বলে তিনি জানান।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply