একজন এএসআই’র সহযোগিতায় তিতাসে আলোর পথ পেলো অসহায় পরিবার

নাজমুল করিম ফারুক :–

তিতাস থানার এএসআই জুলফিকার আলীর সহমর্মিতায় আলোর পথ পেলো পিতা-মাতাহীন একটি অসহায় পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মজিদপুর গ্রামের পশ্চিম পাড়ার আঃ মতিন ২০১০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তার দুই কন্যা সন্তান জান্নাতুল ফেরদৌস মীম (১২), হালিমা আফরিন লিজা (১০) ও এক পুত্র সন্তান আল মামুন শফিউল্লাহ (৯) এর সামনের পারিবারিক কোলাহলের জের ধরে ধারালো কাঁচি ও হাতুরী দিয়ে যোগোপযোগী আঘাত করে স্ত্রী জাহানারা বেগমকে হত্যা করে। নোয়াখালী মামার দোকানে কর্মরত আঃ মতিনের বড় ছেলে মিঠুন শফিউল্লাহ (১৫) মায়ের হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে ছুটে আসেন এবং নিজে বাদী হয়ে পিতাকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করে। ঘটনার পর থেকে আঃ মতিন অদ্যবধি পলাতক রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়া মীম, লিজা ও মামুনের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। ভেঙ্গে পরে সামাজিক বন্ধন। অসহায় অবস্থায় বিরাজ করে পরিবারটিতে। এসময় সমাজের বৃত্তবানরা সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসার কথা থাকলেও চাপ দিতে থাকে মামলা তুলে নেওয়ার এবং চোখ পড়ে সাড়ে ১৩ শতক বসতভিটার উপর। হাল ছাড়েনি মিঠুন। জীবনযুদ্ধের অগ্নিপরীক্ষায় রাজমিস্ত্রীর জোগালীর কাজ করে তিন ভাই-বোনের মুখে দু’মুঠো ভাত তুলে দিয়ে তৃপ্তি পান। কোর্ট থেকে নোটিশ আসলেও অভাবের কারণে হাজির হতে পারেনি। উল্টো ওয়ারেন্ট জারি হয় বাদীর বিরুদ্ধে। এবার আসামী নয় পুলিশ খোঁজতে থাকে বাদীকে। ওয়ারেন্টের কাগজ নিয়ে এএসআই জুলফিকার যখন মিঠুনের বাড়িতে হাজির হয় তখন ছোট একটি দো’চালা ঘরে মিঠুনের দু’বোন ও ছোট ভাইয়ের সাথে কথা হয়। বিস্তারিত জানতে চাইলে বেড়িয়ে আসে অসহায় পরিবারের মর্মস্পর্শী কাহিনী। স্বামী কর্তৃক স্ত্রী হত্যা, পুত্র বাদী হয়ে পিতাকে আসামী করে মামলা, অর্থাভাবে কোর্টে হাজির হতে না পারায় উল্টো বাদীর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট। ছয় মাস পূর্বে অসহায় অবস্থায় মানবতার হাত বাড়িয়ে দেন তিতাস থানার এএসআই জুলফিকার আলী। মিঠুনের দু’বোন ও ভাইকে একাধিক জামা-কাপড়, বই-খাতা কিনে দিয়ে দু’বোনকে মজিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণী ও ছোট ভাইকে মজিদপুর জামিয়াতুল মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি মিঠুনকে আইনী সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে এএসআই জুলফিকার আলী বলেন, বিষয়টি বিবেককে নাড়া দিয়ে তুলে। সমাজের প্রতিটি মানুষের উচিত এধরণের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। একদিন হয়তো আমি তিতাস থানা থেকে বদলী হয়ে অন্য থানায় চলে যাবো তখন আপনাদেরকেই এই পরিবারটি দেখতে হবে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় ইউপি মেম্বার বাবুল হোসেনকে বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও পরিবারটিকে একটি ভিজিডি কার্ড করে দিতে পারেনি।
মজিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল হক জানান, মীম ও লিজার প্রতি আমরা সকলে আন্তরিক। ক্লাশের পাশাপাশি ফ্রি কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করি ভবিষ্যতে দুই বোন একটি ভাল অবস্থানে দাঁড়াতে পারবে।
মিঠুন শফিউল্লাহ বলেন, জুলফিকার স্যার আমাকে খোঁজতে এসে আমার ভাই-বোনদের কাছ থেকে সমস্ত ঘটনা জেনে আমাকে ফোন করে এবং তাঁর সাথে দেখা করার কথা বলে। তারপর স্যার আমাকে যাতায়াত খরচ দিয়ে কোর্টে পাঠায়, দুই বোন ও ছোট ভাইটিকে জামা-কাপড়, বই-খাতা কিনে দিয়ে স্কুলে ও মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেন। মিঠুন আরো বলেন, জুলফিকার স্যারের কারণেই আজ আমার দুই বোন ও ছোট ভাই স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পেলো। শুধু ভর্তি নয় স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বলে ফ্রি কোর্চিংয়ের ব্যবস্থা করেন। আমরা উনার কাছে কৃতজ্ঞ।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply